টানা ১৩তম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। রাজধানী তেহরানসহ একাধিক শহর এবং হরমুজ প্রণালির কাছের কৌশলগত এলাকাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। এর জবাবে আরও কঠোর ও বিধ্বংসী প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের দাবি, সর্বশেষ হামলায় ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, ড্রোন সংরক্ষণাগার, যোগাযোগ ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র এবং নৌ-সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে বলেও জানিয়েছে সেন্টকম।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরান, খোন্দাব, খোররামাবাদ, কোনারাক, জাস্ক, কেশম দ্বীপ ও খুজেস্তান প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীর আকাশে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। বন্দর আব্বাসের একটি আবাসিক এলাকায় হামলায় অন্তত দুজন আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা অব্যাহত রাখলে পাল্টা আঘাতও চলবে। সামরিক সূত্রের ভাষ্য, প্রতিটি হামলার জবাব আগের চেয়ে আরও কঠোর হবে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে আরও শক্তিশালী প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যেও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

