ঢাকা , বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
এক সমুদ্রে দুই নিয়ম, নিষেধাজ্ঞা নিয়ে জেলেদের যত ক্ষোভ ১৭ বছর ধরে ক্ষুধার্ত বিএনপি এখন পারলে যেন পুরো বাংলাদেশকেই গিলে ফেলে: সাদিক কায়েম ‘যে দলের জন্য জীবন-যৌবন শেষ করলাম, সেই দল আমাকে বহিষ্কার করল-আলহামদুলিল্লাহ’ ইসরায়েলের বর্বরতা: ২১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থী নিহত মামদানি মেয়র হওয়ার বছরেই বিশ্বের এক নম্বর শহর নিউইয়র্ক গুলশান লেকই যদি ঠিক করতে না পারি, সারাদেশ কীভাবে ঠিক করব: গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী রাজনীতিতে মতপার্থক্য, গঠনমূলক সমালোচনা ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য: রাষ্ট্রপতি ফ্যামিলি কার্ডের জন্য টিপসই নিয়ে বিধবার ভুয়া কাবিননামা তৈরির অভিযোগ সালমান মুক্তাদিরকে জিজ্ঞাসাবাদে মিলতে পারে অনেক প্রশ্নের উত্তর ঢাবি ক্যাম্পাসে চলন্ত শাটলে ছাত্রীর কান থেকে স্বর্ণের দুল ছিনতাই

ডিএনএ পরীক্ষায় ধর্ষণ মামলার আসামিই নবজাতকের বাবা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:৪২:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৮৪ বার পড়া হয়েছে

নেত্রকোনার মদনে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষায় মামলার অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরই শিশুটির জৈবিক বাবা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল কবীর রুবেল।

রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, ডিএনএ প্রতিবেদনে অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে নবজাতকের জৈবিক সম্পর্ক নিশ্চিত হয়েছে। এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয় এবং প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়। মামলাটির বিচারকাজ আগামী ৬০ দিনের মধ্যে শেষ করার আশা প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শিশুটির মা-বাবার বিচ্ছেদের পর সে নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। পরে শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের মাধ্যমে জানা যায়, সে অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় গত ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

পরে ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র‌্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে। আদালতের নির্দেশে রিমান্ড শেষে তার ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে গত ১২ মে আদালতের নির্দেশে তাকে সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখানে গত ২ জুলাই সে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয়।

এরপর নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পুলিশ আদালতে আবেদন করলে আদালতের নির্দেশে ২৮ জুলাই সিলেটের সেফ হোমে নবজাতকের নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সেই পরীক্ষার প্রতিবেদনেই অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরকে নবজাতকের জৈবিক বাবা হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

মানবাধিকারকর্মী কোহিনূর বেগম বলেন, ডিএনএ পরীক্ষায় অভিযুক্তের সঙ্গে নবজাতকের জৈবিক সম্পর্ক প্রমাণিত হওয়ায় দ্রুত বিচার আইনে ৬০ দিনের মধ্যে মামলাটির বিচার শেষ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত। এর মাধ্যমে সমাজে ধর্ষণের মতো ন্যক্কারজনক অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা যাবে।

এখন মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত শেষ করাই রাষ্ট্রপক্ষের মূল লক্ষ্য।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

এক সমুদ্রে দুই নিয়ম, নিষেধাজ্ঞা নিয়ে জেলেদের যত ক্ষোভ

ডিএনএ পরীক্ষায় ধর্ষণ মামলার আসামিই নবজাতকের বাবা

আপডেট সময় ০৮:৪২:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

নেত্রকোনার মদনে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষায় মামলার অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরই শিশুটির জৈবিক বাবা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল কবীর রুবেল।

রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, ডিএনএ প্রতিবেদনে অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে নবজাতকের জৈবিক সম্পর্ক নিশ্চিত হয়েছে। এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয় এবং প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়। মামলাটির বিচারকাজ আগামী ৬০ দিনের মধ্যে শেষ করার আশা প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শিশুটির মা-বাবার বিচ্ছেদের পর সে নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। পরে শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের মাধ্যমে জানা যায়, সে অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় গত ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

পরে ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র‌্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে। আদালতের নির্দেশে রিমান্ড শেষে তার ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে গত ১২ মে আদালতের নির্দেশে তাকে সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখানে গত ২ জুলাই সে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয়।

এরপর নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পুলিশ আদালতে আবেদন করলে আদালতের নির্দেশে ২৮ জুলাই সিলেটের সেফ হোমে নবজাতকের নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সেই পরীক্ষার প্রতিবেদনেই অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরকে নবজাতকের জৈবিক বাবা হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

মানবাধিকারকর্মী কোহিনূর বেগম বলেন, ডিএনএ পরীক্ষায় অভিযুক্তের সঙ্গে নবজাতকের জৈবিক সম্পর্ক প্রমাণিত হওয়ায় দ্রুত বিচার আইনে ৬০ দিনের মধ্যে মামলাটির বিচার শেষ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত। এর মাধ্যমে সমাজে ধর্ষণের মতো ন্যক্কারজনক অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা যাবে।

এখন মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত শেষ করাই রাষ্ট্রপক্ষের মূল লক্ষ্য।