ঢাকা , সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি বিএনপি সরকার: নাহিদ ইসলাম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল ছাড়া যে কেউ সভা-সমাবেশ করতে পারবে: আইনমন্ত্রী ২৬ বছর বয়স পর্যন্ত গাড়ির সেলসম্যান, ডিএনএ পরীক্ষায় জানলেন তিনি রাজপুত্র কলকাতায় দুদিনে বন্ধ ২ শতাধিক হোটেল, বিপাকে হাজার হাজার বাংলাদেশি ইরানের ওপর চূড়ান্ত সংঘাতের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের, পাল্টা ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ তেহরানের জামায়াত নেতারা বিসমিল্লাহ বলে মিথ্যা শুরু করে, এনসিপিও শিখেছে: রাশেদ খান ডুবে যাচ্ছে ভারত, এবার ফারাক্কার সব গেইট খুলে দিতে চান বিহারের মুখ্যমন্ত্রী  রংপুরে চার হত্যা: আসামি ও পুলিশ কর্মকর্তার গায়ের একই শার্ট নিয়ে নানা প্রশ্ন বহুল আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা: ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল আগামীকাল ঈদে মিলাদুন্নবীর (স.) অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

২৬ বছর বয়স পর্যন্ত গাড়ির সেলসম্যান, ডিএনএ পরীক্ষায় জানলেন তিনি রাজপুত্র

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:১৯:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

তার বয়স তখন ১৬। একদিন মায়ের কাছ থেকে জানতে পারলেন, তার বাবা কোনো সাধারণ মানুষ নন তিনি বেলজিয়ামের রাজপরিবারের সদস্য। এরপর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ, ডিএনএ পরীক্ষা, দীর্ঘ অপেক্ষা। সবশেষে ২৬ বছর বয়সে এসে পেলেন সেই পরিচয়ের আইনি স্বীকৃতি। সাধারণ জীবন কাটানো এক গাড়ির সেলসম্যান রাতারাতি হয়ে গেলেন রাজপুত্র! রূপকথার গল্প মনে হলেও ঘটনাটি সত্যি। বেলজিয়ামের ক্লেমঁ ভানদেনকার্কহোভের জীবনেই ঘটেছে এমন ঘটনা। ক্লেমঁর জন্ম ২০০০ সালের আগস্টে। তার মা ওয়েন্ডি ভান ওয়ানটেন একজন বেলজিয়ান গায়িকা। তার আসল নাম আইরিস ভানদেনকার্কহোভ। ১৯৯০এর দশকে প্যারিসের একটি ফ্যাশন শোয়ে প্রিন্স লরাঁর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে দুজনের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠলেও তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।

ক্লেমঁর বয়স যখন ১৬, তখন মা তাকে জানান, তার বাবা বেলজিয়ামের রাজা ফিলিপের ছোট ভাই প্রিন্স লরাঁ। তবে এই পরিচয় জানার পরও সঙ্গে সঙ্গে রাজপরিবারের কাছ থেকে স্বীকৃতি পাননি তিনি। চার বছর পর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন ক্লেমঁ। এরপর দুজনের সম্মতিতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফলেও প্রমাণিত হয়, ক্লেমঁই প্রিন্স লরাঁর ছেলে। ডিএনএ পরীক্ষায় পিতৃত্ব নিশ্চিত হওয়ার পর বাবাছেলের মধ্যে যোগাযোগ বাড়তে থাকে। ক্লেমঁ জানিয়েছেন, তারা নিজেদের মধ্যে খোলামেলা ও আন্তরিকভাবে কথা বলেছেন। তবে জৈবিক সম্পর্ক নিশ্চিত হওয়ার পরও আইনি স্বীকৃতির জন্য তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে।

অবশেষে প্রায় ছয় মাস আগে একেবারে নীরবে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রিন্স লরাঁ ক্লেমঁকে নিজের ছেলে হিসেবে আইনগতভাবে স্বীকৃতি দেন। চলতি সপ্তাহে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এই স্বীকৃতির ফলে প্রিন্স লরাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে তার অন্য সন্তানদের সমান উত্তরাধিকার পাবেন ক্লেমঁ। স্ত্রী প্রিন্সেস ক্লেয়ারের ঘরে লরাঁর আরও তিন সন্তান রয়েছেন প্রিন্সেস লুইস, প্রিন্স নিকোলাস ও প্রিন্স আয়মেরিক। তবে রাজপরিবারে ক্লেমঁর ভূমিকা খুব সীমিতই থাকবে। তিনি কোনো রাজকীয় ভাতা পাবেন না, পালন করতে হবে না কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক দায়িত্বও। এমনকি বেলজিয়ামের সিংহাসনের ওপরও তার কোনো অধিকার থাকবে না।

বাবার পারিবারিক পদবিসাক্সকোবুর্গনেওয়ার সুযোগ থাকলেও আপাতত নিজের মায়ের পদবিভানদেনকার্কহোভই রাখতে চান ক্লেমঁ। তার কাছে এই নাম শুধু একটি পদবি নয়, মায়ের পরিচয় ও অবদানের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই মায়ের কাছ থেকে পাওয়া নামটি ছেড়ে দেওয়া তার কাছে বিশ্বাসঘাতকতার মতো। মজার বিষয় হলো, বেলজিয়ামের রাজপরিবারে পিতৃত্ব নিয়ে এমন ঘটনা এটাই প্রথম নয়। প্রিন্স লরাঁর বাবা, বেলজিয়ামের সাবেক রাজা দ্বিতীয় আলবের্তও দীর্ঘদিন পিতৃত্বের একটি আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন।

শেষ পর্যন্ত ২০২০ সালে তিনি স্বীকার করেন, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের মাধ্যমে তার একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। সেই সন্তান ডেলফিন বোয়েলও দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর রাজকন্যার মর্যাদা পান। বর্তমানে তিনি ডেলফিন দ্য সাক্সকোবুর্গ নামে পরিচিত। অর্থাৎ, জীবনের ২৬ বছর পর্যন্ত যার পরিচয় ছিল সাধারণ এক গাড়ির সেলসম্যান হিসেবে, ডিএনএ পরীক্ষার পর সেই মানুষটির জীবনেই যুক্ত হলো রাজপরিবারের পরিচয় একেবারে বাস্তব জীবনের রূপকথার মতো। সূত্র: সিএনএন

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি বিএনপি সরকার: নাহিদ ইসলাম

২৬ বছর বয়স পর্যন্ত গাড়ির সেলসম্যান, ডিএনএ পরীক্ষায় জানলেন তিনি রাজপুত্র

আপডেট সময় ০২:১৯:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

তার বয়স তখন ১৬। একদিন মায়ের কাছ থেকে জানতে পারলেন, তার বাবা কোনো সাধারণ মানুষ নন তিনি বেলজিয়ামের রাজপরিবারের সদস্য। এরপর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ, ডিএনএ পরীক্ষা, দীর্ঘ অপেক্ষা। সবশেষে ২৬ বছর বয়সে এসে পেলেন সেই পরিচয়ের আইনি স্বীকৃতি। সাধারণ জীবন কাটানো এক গাড়ির সেলসম্যান রাতারাতি হয়ে গেলেন রাজপুত্র! রূপকথার গল্প মনে হলেও ঘটনাটি সত্যি। বেলজিয়ামের ক্লেমঁ ভানদেনকার্কহোভের জীবনেই ঘটেছে এমন ঘটনা। ক্লেমঁর জন্ম ২০০০ সালের আগস্টে। তার মা ওয়েন্ডি ভান ওয়ানটেন একজন বেলজিয়ান গায়িকা। তার আসল নাম আইরিস ভানদেনকার্কহোভ। ১৯৯০এর দশকে প্যারিসের একটি ফ্যাশন শোয়ে প্রিন্স লরাঁর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে দুজনের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠলেও তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।

ক্লেমঁর বয়স যখন ১৬, তখন মা তাকে জানান, তার বাবা বেলজিয়ামের রাজা ফিলিপের ছোট ভাই প্রিন্স লরাঁ। তবে এই পরিচয় জানার পরও সঙ্গে সঙ্গে রাজপরিবারের কাছ থেকে স্বীকৃতি পাননি তিনি। চার বছর পর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন ক্লেমঁ। এরপর দুজনের সম্মতিতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফলেও প্রমাণিত হয়, ক্লেমঁই প্রিন্স লরাঁর ছেলে। ডিএনএ পরীক্ষায় পিতৃত্ব নিশ্চিত হওয়ার পর বাবাছেলের মধ্যে যোগাযোগ বাড়তে থাকে। ক্লেমঁ জানিয়েছেন, তারা নিজেদের মধ্যে খোলামেলা ও আন্তরিকভাবে কথা বলেছেন। তবে জৈবিক সম্পর্ক নিশ্চিত হওয়ার পরও আইনি স্বীকৃতির জন্য তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে।

অবশেষে প্রায় ছয় মাস আগে একেবারে নীরবে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রিন্স লরাঁ ক্লেমঁকে নিজের ছেলে হিসেবে আইনগতভাবে স্বীকৃতি দেন। চলতি সপ্তাহে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এই স্বীকৃতির ফলে প্রিন্স লরাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে তার অন্য সন্তানদের সমান উত্তরাধিকার পাবেন ক্লেমঁ। স্ত্রী প্রিন্সেস ক্লেয়ারের ঘরে লরাঁর আরও তিন সন্তান রয়েছেন প্রিন্সেস লুইস, প্রিন্স নিকোলাস ও প্রিন্স আয়মেরিক। তবে রাজপরিবারে ক্লেমঁর ভূমিকা খুব সীমিতই থাকবে। তিনি কোনো রাজকীয় ভাতা পাবেন না, পালন করতে হবে না কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক দায়িত্বও। এমনকি বেলজিয়ামের সিংহাসনের ওপরও তার কোনো অধিকার থাকবে না।

বাবার পারিবারিক পদবিসাক্সকোবুর্গনেওয়ার সুযোগ থাকলেও আপাতত নিজের মায়ের পদবিভানদেনকার্কহোভই রাখতে চান ক্লেমঁ। তার কাছে এই নাম শুধু একটি পদবি নয়, মায়ের পরিচয় ও অবদানের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই মায়ের কাছ থেকে পাওয়া নামটি ছেড়ে দেওয়া তার কাছে বিশ্বাসঘাতকতার মতো। মজার বিষয় হলো, বেলজিয়ামের রাজপরিবারে পিতৃত্ব নিয়ে এমন ঘটনা এটাই প্রথম নয়। প্রিন্স লরাঁর বাবা, বেলজিয়ামের সাবেক রাজা দ্বিতীয় আলবের্তও দীর্ঘদিন পিতৃত্বের একটি আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন।

শেষ পর্যন্ত ২০২০ সালে তিনি স্বীকার করেন, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের মাধ্যমে তার একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। সেই সন্তান ডেলফিন বোয়েলও দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর রাজকন্যার মর্যাদা পান। বর্তমানে তিনি ডেলফিন দ্য সাক্সকোবুর্গ নামে পরিচিত। অর্থাৎ, জীবনের ২৬ বছর পর্যন্ত যার পরিচয় ছিল সাধারণ এক গাড়ির সেলসম্যান হিসেবে, ডিএনএ পরীক্ষার পর সেই মানুষটির জীবনেই যুক্ত হলো রাজপরিবারের পরিচয় একেবারে বাস্তব জীবনের রূপকথার মতো। সূত্র: সিএনএন