মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার দুই সপ্তাহ পার হলেও গাজায় খাদ্যসংকটের কোনো উন্নতি হয়নি। বরং পরিস্থিতি রয়ে গেছে মারাত্মক ও ‘বিপর্যয়কর’।

এর আগে জাতিসংঘ গাজা শহর ও আশপাশের এলাকায় দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করেছিল। তখন বলা হয়েছিল, পাঁচ লাখের বেশি মানুষ ‘চরম বিপর্যস্ত’ অবস্থায় রয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিওএইচও) জানিয়েছে, দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতিতে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, গাজার প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ বর্তমানে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। তাদের মধ্যে ১১ হাজারের বেশি গর্ভবতী নারী রয়েছেন। নবজাতকদের ৭০ শতাংশই অপুষ্টিতে ভুগছে এবং অনেকেই অপরিণত অবস্থায় জন্ম নিচ্ছে। জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) সতর্ক করেছে, বর্তমান অপুষ্টির প্রভাব আগামী কয়েক প্রজন্মব্যাপী টিকে থাকবে।

ডব্লিওএইচও'র মহাপরিচালক টেডরস আধানম গেব্রেইয়েসুস বলেন, “গাজায় যত ত্রাণ প্রবেশ করছে, তা মানুষের প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগণ্য।”

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিওএফপি) জানিয়েছে, প্রতিদিন দুই হাজার টন খাদ্য প্রবেশের লক্ষ্য থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৭৫০ টন খাদ্য গাজায় পৌঁছাতে পারছে। সীমিত দুটি ক্রসিং খোলা থাকায় ত্রাণ প্রবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে, ৪১টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মানবিক সাহায্য প্রদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। এর মধ্যে অক্সফাম ও নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল জানিয়েছে, ১০ থেকে ২১ অক্টোবরের মধ্যে আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোর ৯৯টি এবং জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর ছয়টি ত্রাণ আবেদন ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ বাতিল করেছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৬৮ হাজার ২০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক লাখ ৭০ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।