মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী USS Abraham Lincoln-কে লক্ষ্য করে প্রায় ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। তবে তিনি জানান, ছোড়া মোট ১০১টি ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতিটিই সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Daily Mail এ তথ্য জানিয়েছে। হোয়াইট হাউসে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, “তারা আমাদের একটি বিমানবাহী রণতরীতে প্রায় ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল, কিন্তু আমরা সবগুলোই ধ্বংস করেছি।”
অন্যদিকে, ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি জানিয়েছেন, মার্কিন এই যুদ্ধজাহাজ তাদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে পুনরায় হামলা চালানো হবে।
এর আগে বুধবার (২৫ মার্চ) ইরানের সামরিক বাহিনী রণতরিটিতে হামলার দাবি করে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম Press TV জানায়, উপকূলভিত্তিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে আরব সাগরে মোতায়েন থাকা মার্কিন এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ারটিতে হামলা চালানো হয়েছে। প্রকাশিত ফুটেজে ইরানের উপকূল থেকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দৃশ্য দেখা গেছে।
জানা গেছে, রণতরিটি আরব সাগরে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সমর্থনে অবস্থান করছিল। একই সময়ে ইরান কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে।
এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের কাছে ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। এতে এখন পর্যন্ত ১,৩৪০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-ও রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েলসহ বিভিন্ন মধ্যপ্রাচ্যের দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। চলমান সংঘাতে হতাহত ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

