ঢাকা , শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নতুন করে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-যুক্তরাজ্য, কলকাঠি নাড়ছে ওয়াশিংটন বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১ নোয়াখালীতে ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ, প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার ১৩ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ, পূজা চেরির বাবা গ্রেপ্তার উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর স্মার্টফোনের ন্যূনতম দাম ২৫০০ টাকার মধ্যে আনতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ‘স্থায়ী শান্তি’ আসবে না: রাশিয়া হাজার চেষ্টা করলেও আ.লীগ হতে পারবেন না: বিএনপিকে জামায়াত আমির আজহারী ও জারার ছবি ব্যবহার করে যৌন উত্তেজক ওষুধের বিজ্ঞাপন, গ্রেপ্তার ১০ নিজেদের সক্ষমতার সামান্যই ব্যবহার করেছে ইরান, নিচ্ছে পাল্টা হামলার প্রস্তুতি

পাকিস্তানকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনুমতি দিচ্ছে না সরকার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:২৮:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৫৪ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার বিষয়টিকে আইসিসির বৈষম্যমূলক ও অন্যায় আচরণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে তারাও বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর চিন্তা করছে। এজন্য আজ (সোমবার) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবে ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পাকিস্তানি গণমাধ্যম জিও নিউজ সরকারের উচ্চপদস্থ এক সূত্রের মাধ্যমে জেনেছে, ফেডারেল সরকার ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের জন্য পিসিবিকে দল পাঠানোর অনুমতি দেবে না। বাংলাদেশের সঙ্গে করা আচরণকে আইসিসির দ্বিচারিতা হিসেবে অভিহিত করছে তারা।

এদিকে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার পর নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে বিশ্বকাপ ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তারা ম্যাচগুলো আরেক দেশ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছিল আইসিসিকে। যদিও বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থা কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা খুঁজে না পাওয়ায় বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত পাল্টাতে বলেছিল। নয়তো বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার হুমকিও পেয়েছিল বাংলাদেশ, কিন্তু তারা তাদের সিদ্ধান্তে অটল ছিল। শেষ পর্যন্ত তাদেরকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে ক্রিকেটের শীর্ষ সংস্থা।

এই পুরোটা সময়ে পাকিস্তান বাংলাদেশের পাশে ছিল। সবশেষ বোর্ড প্রধান মহসিন নাকভি জানান, তারাও বিশ্বকাপ বয়কটের চিন্তাভাবনা করছে, সবকিছু নির্ভর করছে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর। আজ প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও পিসিবি প্রধান ইসলামাবাদে বৈঠক করবেন। এক উর্ধ্বতন সরকারি সূত্রে উদ্ধৃতি দিয়ে দ্য নিউজ জানিয়েছে, ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু যতটুকু ইঙ্গিত মিলেছে, তাতে করে সরকার সম্ভবত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে অংশগ্রহণের অনুমতি দেবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা শুধু ক্রিকেটের ব্যাপার না, নীতির ব্যাপার। বাংলাদেশকে তাদের বৈধ অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আইসিসির বিমাতাসুলভ আচরণে পাকিস্তান তাদের অংশগ্রহণের ব্যাপারটি গুরুত্ব দিয়ে পুনর্বিবেচনা করছে।’ সূত্রটি আরও জোর দিয়ে বলেছেন যে, ক্রীড়া প্রশাসন কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশের পছন্দের কাছে জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না। তার কথা, ‘আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দ্বিমুখী নীতি থাকতে পারে না। একদিকে ভারত যখন ইচ্ছামতো ভেন্যু বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা ভোগ করে, অন্যদিকে বাংলাদেশের মতো দেশগুলো নিরাপত্তার উদ্বেগ জানানো সত্ত্বেও ভেন্যু পরিবর্তনের সুযোগ পায় না। আইসিসি যদি সত্যিই ক্রিকেটকে একটি বৈশ্বিক খেলা হিসেবে বিকশিত করতে চায়, তবে এই ধরনের বৈষম্যমূলক নীতি বন্ধ করতে হবে।’

এদিকে, পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা পিসিবি চেয়ারম্যানের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। লাহোরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে খেলোয়াড়রা সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন যে, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বা নাম প্রত্যাহারের বিষয়টি কঠোরভাবে ফেডারেল সরকারের অবস্থানের সঙ্গে সংগতি রেখে নেওয়া হবে। ক্রিকেট বিশ্ব যখন গভীর মনোযোগের সঙ্গে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে, তখন পাকিস্তানের সম্ভাব্য নাম প্রত্যাহার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি করতে পারে; যা এই খেলার শীর্ষ পর্যায়ে প্রশাসন, নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলবে। সূত্রঃ জিও নিউজ

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন করে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-যুক্তরাজ্য, কলকাঠি নাড়ছে ওয়াশিংটন

পাকিস্তানকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনুমতি দিচ্ছে না সরকার

আপডেট সময় ০১:২৮:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার বিষয়টিকে আইসিসির বৈষম্যমূলক ও অন্যায় আচরণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে তারাও বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর চিন্তা করছে। এজন্য আজ (সোমবার) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবে ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পাকিস্তানি গণমাধ্যম জিও নিউজ সরকারের উচ্চপদস্থ এক সূত্রের মাধ্যমে জেনেছে, ফেডারেল সরকার ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের জন্য পিসিবিকে দল পাঠানোর অনুমতি দেবে না। বাংলাদেশের সঙ্গে করা আচরণকে আইসিসির দ্বিচারিতা হিসেবে অভিহিত করছে তারা।

এদিকে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার পর নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে বিশ্বকাপ ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তারা ম্যাচগুলো আরেক দেশ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছিল আইসিসিকে। যদিও বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থা কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা খুঁজে না পাওয়ায় বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত পাল্টাতে বলেছিল। নয়তো বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার হুমকিও পেয়েছিল বাংলাদেশ, কিন্তু তারা তাদের সিদ্ধান্তে অটল ছিল। শেষ পর্যন্ত তাদেরকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে ক্রিকেটের শীর্ষ সংস্থা।

এই পুরোটা সময়ে পাকিস্তান বাংলাদেশের পাশে ছিল। সবশেষ বোর্ড প্রধান মহসিন নাকভি জানান, তারাও বিশ্বকাপ বয়কটের চিন্তাভাবনা করছে, সবকিছু নির্ভর করছে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর। আজ প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও পিসিবি প্রধান ইসলামাবাদে বৈঠক করবেন। এক উর্ধ্বতন সরকারি সূত্রে উদ্ধৃতি দিয়ে দ্য নিউজ জানিয়েছে, ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু যতটুকু ইঙ্গিত মিলেছে, তাতে করে সরকার সম্ভবত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে অংশগ্রহণের অনুমতি দেবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা শুধু ক্রিকেটের ব্যাপার না, নীতির ব্যাপার। বাংলাদেশকে তাদের বৈধ অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আইসিসির বিমাতাসুলভ আচরণে পাকিস্তান তাদের অংশগ্রহণের ব্যাপারটি গুরুত্ব দিয়ে পুনর্বিবেচনা করছে।’ সূত্রটি আরও জোর দিয়ে বলেছেন যে, ক্রীড়া প্রশাসন কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশের পছন্দের কাছে জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না। তার কথা, ‘আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দ্বিমুখী নীতি থাকতে পারে না। একদিকে ভারত যখন ইচ্ছামতো ভেন্যু বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা ভোগ করে, অন্যদিকে বাংলাদেশের মতো দেশগুলো নিরাপত্তার উদ্বেগ জানানো সত্ত্বেও ভেন্যু পরিবর্তনের সুযোগ পায় না। আইসিসি যদি সত্যিই ক্রিকেটকে একটি বৈশ্বিক খেলা হিসেবে বিকশিত করতে চায়, তবে এই ধরনের বৈষম্যমূলক নীতি বন্ধ করতে হবে।’

এদিকে, পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা পিসিবি চেয়ারম্যানের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। লাহোরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে খেলোয়াড়রা সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন যে, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বা নাম প্রত্যাহারের বিষয়টি কঠোরভাবে ফেডারেল সরকারের অবস্থানের সঙ্গে সংগতি রেখে নেওয়া হবে। ক্রিকেট বিশ্ব যখন গভীর মনোযোগের সঙ্গে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে, তখন পাকিস্তানের সম্ভাব্য নাম প্রত্যাহার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি করতে পারে; যা এই খেলার শীর্ষ পর্যায়ে প্রশাসন, নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলবে। সূত্রঃ জিও নিউজ