ঢাকা , বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বিরোধীদলের ছায়া সরকার থেকে এনসিপি আউট: রাশেদ খান সরকার ভুল করলে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিন: আইনমন্ত্রী চাঁদপুরে এক পরিবারের ৪ সদস্য নি’খোঁ’জ ঢাকায় যাত্রাবিরতিতে ভুটানের রাজা, স্বাগত জানালেন রাষ্ট্রপতি হরমুজে অস্থায়ী করিডোর নিয়ে ইরান-ওমান বৈঠক দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারের ৭ নির্দেশনা নবীজির নীতি-আদর্শ অনুসরণ করলে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে: রিজভী ফের আলোচনায় মিল্টন সমাদ্দার, বৃদ্ধাকে আশ্রয় দিতে যাওয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারধর রংপুরের ৪ খুনে অল্প সময়ে অপরাধী গ্রেপ্তার না হলে সুনাম ক্ষুণ্ন হতো: রিজভী গত ছয় মাসে পুলিশের মনোবল ফিরে এসেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চাঁদপুরে এক পরিবারের ৪ সদস্য নি’খোঁ’জ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৫২:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

চাঁদপুর শহরের ‘এসকে শিল্পালয়’-এর স্বত্বাধিকারী পিন্টু দাসসহ তার পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ হয়েছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিন্টু দাসের নিকটাত্মীয় ও চাঁদপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক উপমা দে।

নিখোঁজ অন্যরা হলেন পিন্টু দাসের স্ত্রী রিমি, বড় ছেলে প্রিয়ম ও ছোট ছেলে রুপম দাস।

স্বজনদের বরাতে উপমা দে জানান, পিন্টু দাস পরিবার নিয়ে চাঁদপুর শহরের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। বিভিন্ন কারণে তিনি ঋণগ্রস্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। সম্প্রতি পাটোয়ারী বাড়ির এক ব্যক্তি তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছিলেন বলেও পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন। এরপর থেকেই স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে পিন্টু দাসের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

তবে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, পিন্টু দাস স্বর্ণের বন্ধকি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা দেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে তা ফেরত দিতে পারছিলেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি থেকে ব্যবসার জন্য ঋণ নেওয়ায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন বলেও দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একাধিক স্থানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের পর সর্বশেষ মদিনা মার্কেটের নিচতলায় ‘এসকে শিল্পালয়’ নামে দোকান পরিচালনা করতেন পিন্টু দাস। সেখানে বন্ধক রাখা স্বর্ণের বাজারমূল্যের তুলনায় কম টাকা দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।

রঘুনাথপুরের বাসিন্দা রাসেল খান জানান, তিনি পিন্টু দাসের কাছে আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছিলেন। পরে টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণ নিতে গেলে তাকে পরদিন আসতে বলা হয়। এরপরই পিন্টু দাস সপরিবারে নিখোঁজ হওয়ার খবর পান তিনি। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেছেন বলেও জানান রাসেল।

এ ছাড়া দক্ষিণ গুণরাজদীর বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টু দাসের কাছে বন্ধক রাখার দাবি করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে মদিনা মার্কেটে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন পিন্টু দাস। তার মূল বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। কুমিল্লা ও মুদাফফরগঞ্জে তার আত্মীয়স্বজন রয়েছেন বলেও জানা গেছে।

এদিকে, পিন্টু দাস ও তার পরিবারের সদস্যরা সত্যিই নিখোঁজ হয়েছেন, নাকি কোনো কারণে আত্মগোপনে রয়েছেন—তা নিয়েও এলাকায় নানা আলোচনা চলছে।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার ফেরদৌস বলেন, পিন্টু দাস নিজে থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আত্মগোপনে থাকলে তাকে খুঁজে বের করা কঠিন। থানায় এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, পিন্টু দাসসহ পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে তাদের সন্ধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিরোধীদলের ছায়া সরকার থেকে এনসিপি আউট: রাশেদ খান

চাঁদপুরে এক পরিবারের ৪ সদস্য নি’খোঁ’জ

আপডেট সময় ০১:৫২:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

চাঁদপুর শহরের ‘এসকে শিল্পালয়’-এর স্বত্বাধিকারী পিন্টু দাসসহ তার পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ হয়েছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিন্টু দাসের নিকটাত্মীয় ও চাঁদপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক উপমা দে।

নিখোঁজ অন্যরা হলেন পিন্টু দাসের স্ত্রী রিমি, বড় ছেলে প্রিয়ম ও ছোট ছেলে রুপম দাস।

স্বজনদের বরাতে উপমা দে জানান, পিন্টু দাস পরিবার নিয়ে চাঁদপুর শহরের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। বিভিন্ন কারণে তিনি ঋণগ্রস্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। সম্প্রতি পাটোয়ারী বাড়ির এক ব্যক্তি তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছিলেন বলেও পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন। এরপর থেকেই স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে পিন্টু দাসের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

তবে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, পিন্টু দাস স্বর্ণের বন্ধকি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা দেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে তা ফেরত দিতে পারছিলেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি থেকে ব্যবসার জন্য ঋণ নেওয়ায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন বলেও দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একাধিক স্থানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের পর সর্বশেষ মদিনা মার্কেটের নিচতলায় ‘এসকে শিল্পালয়’ নামে দোকান পরিচালনা করতেন পিন্টু দাস। সেখানে বন্ধক রাখা স্বর্ণের বাজারমূল্যের তুলনায় কম টাকা দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।

রঘুনাথপুরের বাসিন্দা রাসেল খান জানান, তিনি পিন্টু দাসের কাছে আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছিলেন। পরে টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণ নিতে গেলে তাকে পরদিন আসতে বলা হয়। এরপরই পিন্টু দাস সপরিবারে নিখোঁজ হওয়ার খবর পান তিনি। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেছেন বলেও জানান রাসেল।

এ ছাড়া দক্ষিণ গুণরাজদীর বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টু দাসের কাছে বন্ধক রাখার দাবি করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে মদিনা মার্কেটে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন পিন্টু দাস। তার মূল বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। কুমিল্লা ও মুদাফফরগঞ্জে তার আত্মীয়স্বজন রয়েছেন বলেও জানা গেছে।

এদিকে, পিন্টু দাস ও তার পরিবারের সদস্যরা সত্যিই নিখোঁজ হয়েছেন, নাকি কোনো কারণে আত্মগোপনে রয়েছেন—তা নিয়েও এলাকায় নানা আলোচনা চলছে।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার ফেরদৌস বলেন, পিন্টু দাস নিজে থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আত্মগোপনে থাকলে তাকে খুঁজে বের করা কঠিন। থানায় এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, পিন্টু দাসসহ পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে তাদের সন্ধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।