ঢাকা , শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ সরকার: যুক্তরাষ্ট্র ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পুলিশ সদস্যদের পরিবর্তন দেখাতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাজীদের ক্ষমতা শেষ, এবার সরকারি রেজিস্ট্রারের হাতে বিয়ে নথিভুক্তির দায়িত্ব বিএনপিকে দেশের মানুষ বারবার পুরস্কৃত করেছে: নজরুল ইসলাম শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের সমঝোতা স্মারক সই এবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নেতানিয়াহুর ভুয়া ছবি ছড়ালেন ময়ূখ রঞ্জন একদফার হুমকি দিয়ে বিএনপিকে দমানো যাবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে, শৃঙ্খলা না মানলে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা: পুলিশদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারি চাকরি পেতে নেতার ফোন কেন: প্রশ্ন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আর কত দিন এ ধরনের খেলা চলবে: প্রশ্ন জামায়াত আমিরের

কাজীদের ক্ষমতা শেষ, এবার সরকারি রেজিস্ট্রারের হাতে বিয়ে নথিভুক্তির দায়িত্ব

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৩০:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

এবার আসামে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির নিয়মে বড় পরিবর্তন আনল রাজ্য সরকার। এখন থেকে মুসলিমদের বিয়ে সরকারি রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক হচ্ছে।  বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে আসাম মুসলিম বিবাহ নথিভুক্তি বাধ্যতামূলক বিধিমালা ২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির ক্ষেত্রে কাজীদের পুরোনো ভূমিকা পুরোপুরি শেষ হয়ে সরকারি ব্যবস্থার আওতায় আসছে পুরো প্রক্রিয়া। 

মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানান, রাজ্যজুড়ে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির জন্য একই ধরনের সরকারি ব্যবস্থা চালু করা হবে। সরকারি রেজিস্ট্রাররাই এই দায়িত্ব পালন করবেন। বিয়ের নথিভুক্তির আবেদন বাড়লে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও রেজিস্ট্রার নিয়োগ করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। আসাম সরকার ২০২৪ সালে মুসলিম বিবাহ ও বিচ্ছেদ বাধ্যতামূলক নথিভুক্তি আইন চালু করেছিল। সেই আইনের মাধ্যমে কাজীদের হাতে থাকা মুসলিম বিয়ে নথিভুক্ত করার ক্ষমতা তুলে নেওয়া হয়।  তবে নতুন করে দায়িত্ব কার হাতে থাকবে, সে বিষয়ে তখন বিস্তারিত ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়নি। 

এবার ২০২৬ সালের বিধিমালা অনুমোদনের মাধ্যমে সেই দায়িত্ব সরকারি রেজিস্ট্রারদের হাতে দেওয়া হলো। নতুন ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য মুসলিম বিয়েকে সরকারি নথির আওতায় আনা এবং বাল্য বিয়ে বিবাহ করা। ২০২৪ সালের আইনে মুসলিম বিয়ের ক্ষেত্রে মেয়েদের বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর এবং ছেলেদের বয়স অন্তত ২১ বছর নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিয়ে নথিভুক্তির সময় বয়স, পরিচয় ও ঠিকানার প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে। পাশাপাশি ছেলে ও মেয়ের স্বেচ্ছায় বিয়েতে সম্মতির ঘোষণাপত্রও প্রয়োজন হবে।    

আসামে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির ইতিহাস অবশ্য আরও পুরোনো। ১৯৩৫ সালের আসাম মুসলিম বিবাহ ও বিচ্ছেদ নথিভুক্তি আইনে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক ছিল না। পরে ২০১০ সালে সেই আইনে পরিবর্তন এনে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়। তবে তখনও নথিভুক্তির দায়িত্ব কাজীদের হাতেই ছিল। ২০২৪ সালের নতুন আইনে কাজীদের সেই ক্ষমতা তুলে নেওয়া হলেও সরকারি ব্যবস্থায় কীভাবে নথিভুক্তি হবে, তা নিয়ে একটি শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। এবার মন্ত্রিসভার অনুমোদিত নতুন বিধিমালায় সেই ব্যবস্থাই স্পষ্ট করা হয়েছে। 

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় মুসলিম বিয়ের সরকারি নথি আরও সুশৃঙ্খল হবে। একই সঙ্গে বয়স যাচাই এবং পরিচয় নিশ্চিত করার মাধ্যমে নাবালিকা বিয়ে ঠেকাতেও প্রশাসনের পক্ষে নজরদারি সহজ হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে মুসলিম বিয়ের ক্ষেত্রে ধর্মীয়ভাবে প্রচলিত প্রথার পাশাপাশি সরকারি নথিভুক্তির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল। বিয়ে নথিভুক্তির জন্য সরকারি রেজিস্ট্রারের কাছে আবেদন করতে হবে এবং নির্ধারিত নথি ও বয়সের শর্ত পূরণ করতে হবে। আসাম সরকারের নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার পর রাজ্যের মুসলিম সমাজে বিয়ে নথিভুক্তির পুরো প্রক্রিয়াই সরকারি প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে চলে যাবে। কাজীদের মাধ্যমে নথিভুক্তির পুরোনো ব্যবস্থা আর থাকবে না।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ সরকার: যুক্তরাষ্ট্র

কাজীদের ক্ষমতা শেষ, এবার সরকারি রেজিস্ট্রারের হাতে বিয়ে নথিভুক্তির দায়িত্ব

আপডেট সময় ০২:৩০:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এবার আসামে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির নিয়মে বড় পরিবর্তন আনল রাজ্য সরকার। এখন থেকে মুসলিমদের বিয়ে সরকারি রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক হচ্ছে।  বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে আসাম মুসলিম বিবাহ নথিভুক্তি বাধ্যতামূলক বিধিমালা ২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির ক্ষেত্রে কাজীদের পুরোনো ভূমিকা পুরোপুরি শেষ হয়ে সরকারি ব্যবস্থার আওতায় আসছে পুরো প্রক্রিয়া। 

মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানান, রাজ্যজুড়ে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির জন্য একই ধরনের সরকারি ব্যবস্থা চালু করা হবে। সরকারি রেজিস্ট্রাররাই এই দায়িত্ব পালন করবেন। বিয়ের নথিভুক্তির আবেদন বাড়লে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও রেজিস্ট্রার নিয়োগ করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। আসাম সরকার ২০২৪ সালে মুসলিম বিবাহ ও বিচ্ছেদ বাধ্যতামূলক নথিভুক্তি আইন চালু করেছিল। সেই আইনের মাধ্যমে কাজীদের হাতে থাকা মুসলিম বিয়ে নথিভুক্ত করার ক্ষমতা তুলে নেওয়া হয়।  তবে নতুন করে দায়িত্ব কার হাতে থাকবে, সে বিষয়ে তখন বিস্তারিত ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়নি। 

এবার ২০২৬ সালের বিধিমালা অনুমোদনের মাধ্যমে সেই দায়িত্ব সরকারি রেজিস্ট্রারদের হাতে দেওয়া হলো। নতুন ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য মুসলিম বিয়েকে সরকারি নথির আওতায় আনা এবং বাল্য বিয়ে বিবাহ করা। ২০২৪ সালের আইনে মুসলিম বিয়ের ক্ষেত্রে মেয়েদের বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর এবং ছেলেদের বয়স অন্তত ২১ বছর নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিয়ে নথিভুক্তির সময় বয়স, পরিচয় ও ঠিকানার প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে। পাশাপাশি ছেলে ও মেয়ের স্বেচ্ছায় বিয়েতে সম্মতির ঘোষণাপত্রও প্রয়োজন হবে।    

আসামে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির ইতিহাস অবশ্য আরও পুরোনো। ১৯৩৫ সালের আসাম মুসলিম বিবাহ ও বিচ্ছেদ নথিভুক্তি আইনে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক ছিল না। পরে ২০১০ সালে সেই আইনে পরিবর্তন এনে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়। তবে তখনও নথিভুক্তির দায়িত্ব কাজীদের হাতেই ছিল। ২০২৪ সালের নতুন আইনে কাজীদের সেই ক্ষমতা তুলে নেওয়া হলেও সরকারি ব্যবস্থায় কীভাবে নথিভুক্তি হবে, তা নিয়ে একটি শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। এবার মন্ত্রিসভার অনুমোদিত নতুন বিধিমালায় সেই ব্যবস্থাই স্পষ্ট করা হয়েছে। 

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় মুসলিম বিয়ের সরকারি নথি আরও সুশৃঙ্খল হবে। একই সঙ্গে বয়স যাচাই এবং পরিচয় নিশ্চিত করার মাধ্যমে নাবালিকা বিয়ে ঠেকাতেও প্রশাসনের পক্ষে নজরদারি সহজ হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে মুসলিম বিয়ের ক্ষেত্রে ধর্মীয়ভাবে প্রচলিত প্রথার পাশাপাশি সরকারি নথিভুক্তির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল। বিয়ে নথিভুক্তির জন্য সরকারি রেজিস্ট্রারের কাছে আবেদন করতে হবে এবং নির্ধারিত নথি ও বয়সের শর্ত পূরণ করতে হবে। আসাম সরকারের নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার পর রাজ্যের মুসলিম সমাজে বিয়ে নথিভুক্তির পুরো প্রক্রিয়াই সরকারি প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে চলে যাবে। কাজীদের মাধ্যমে নথিভুক্তির পুরোনো ব্যবস্থা আর থাকবে না।