এবার ভারতের সাবেক অলরাউন্ডার ও কোচ সঞ্জয় বাঙ্গারের সন্তান অনয়া। তার আগের নাম ছিল আরিয়ান বাঙ্গার। ২০২২ সালে লিঙ্গান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেন তিনি। চলতি বছরের মার্চে জেন্ডার–অ্যাফার্মিং সার্জারির পর আবার ক্রিকেটে ফেরার পথ খুঁজতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অনয়ার বিষয়টি নিয়ে সরাসরি সিদ্ধান্ত নেয়নি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। তার চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য, অস্ত্রোপচারের নথি, হরমোন ও টেস্টোস্টেরনের মাত্রা, ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা এবং খেলার ভিডিওসহ বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করেছে বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল। এ ক্ষেত্রে ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব স্পোর্টসের গবেষণা ও অ্যাথলেটিক পারফরম্যান্সসংক্রান্ত তথ্যও বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নীতিমালা অনুযায়ী, নারী বিভাগের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেটে খেলতে হলে একজন খেলোয়াড়ের রক্তে সিরাম টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা ১২ মাস প্রতি লিটারে ১০ ন্যানোমোলের নিচে থাকতে হয়। অনয়ার ক্ষেত্রে এই সময়সীমা পূর্ণ হবে ২০২৭ সালের মার্চে। তখন অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তাকে আবার রক্ত পরীক্ষা করাতে হবে।
সেই পরীক্ষায় টেস্টোস্টেরনের মাত্রা নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকলে এবং নীতিমালার অন্যান্য শর্তও পূরণ হলে এলিট পর্যায়ের নারী ক্রিকেটে খেলার যোগ্যতা পাবেন অনয়া। তবে তার আগেই অস্ট্রেলিয়ার যেকোনো রাজ্য বা অঞ্চলের প্রিমিয়ার লিগে খেলতে পারবেন তিনি। সিএর নিয়মে প্রিমিয়ার ক্রিকেটকে কমিউনিটি ক্রিকেটের আওতায় রাখা হয়েছে। অনয়ার সর্বশেষ রক্ত পরীক্ষায় টেস্টোস্টেরনের মাত্রা পাওয়া গেছে প্রতি লিটারে ০.৬ ন্যানোমোল। তার দাবি, এই মাত্রা পরীক্ষাগারের নারী রেফারেন্স রেঞ্জের মধ্যেই রয়েছে। ক্রিকেটে ফেরার সুযোগ পাওয়াকে নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন অনয়া। তিনি বলেন, কয়েক বছর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের বাইরে থাকার পর আবার সেই খেলায় ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যে খেলাটি তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রক্রিয়াতেও সন্তুষ্ট তিনি। অনয়ার ভাষ্য, বিষয়টি কোনো স্বয়ংক্রিয় বা অনানুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হয়নি; বরং ন্যায্যতা, প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা এবং নারী খেলাধুলায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই তার আবেদন পর্যালোচনা করা হয়েছে। ক্রিকেটে ফেরার এই যাত্রার পেছনে অনয়ার জন্য রয়েছে দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তাও। সেই সময়ের কথা মনে করে অনয়া বলেছেন, ‘তিনি ক্রিকেট খেলেন খেলাটিকে ভালোবাসেন বলেই। লিঙ্গ পরিবর্তনের সময় তার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা ছিল, ক্রিকেটে হয়তো আর তার জায়গা থাকবে না। কয়েক বছর ধরে তিনি ফেরার পথ খুঁজেছেন। অবশেষে সেই পথের একটি দরজা খুলেছে।‘

ডেস্ক রিপোর্ট 
























