এবার শিক্ষার্থীদের উসকে দিয়ে নওগাঁর মান্দা উপজেলার চৌবারিয়া বাজারে আদালত থেকে ডিক্রিপ্রাপ্ত জমিতে নির্মিত তিনটি দোকানঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নওগাঁ ও রাজশাহী সীমান্তের মান্দা উপজেলার চৌবারিয়া বাজার। সম্প্রতি পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত ২০ শতক জমিতে ব্যবসায়ী বেলাল হোসেন গড়ে তোলেন তিনটি টিনশেড দোকানঘর। জমিটি নিয়ে পাশেই অবস্থিত মালশিরা উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আইনি বিরোধ চললেও, সর্বশেষ আদালতের রায়ে বেলালের পরিবার ডিক্রি লাভ করে। এরপরই তিনি নিজস্ব জমিতে টোল ও ফিডের ব্যবসা শুরু করেন।
ভুক্তভোগী বেলাল হোসেন জানান, তার দোকানে থাকা নারিশ কোম্পানির মুরগির খাদ্যের বস্তা, গো খাদ্যের বস্তাসহ সব মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্থানীয় মিলন, হিমেল, সুলতানসহ বেশ কিছু বহিরাগত মানুষ স্কুলে ঢুকে শিক্ষার্থীদের উত্তেজিত করে তাদের দিয়ে এমন কাজ করিয়েছে। শিক্ষার্থীরা না বুঝে এমন করেছে। তিনি জানান, তার দোকানে ২০–২৫ লাখ টাকার মালামাল লুটপাট ও ভাঙচুর হয়েছে। এতে তিনি একবারে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা ও অভিভাবকরা জানান, শিক্ষার্থীদের এনে ওখানে তিনটি ঘর ভাঙচুর করানো হয়। ঘরগুলোতে সকালের নামানো এক ট্রাক মুরগির ফিড, চাল ও খুদ ছিল। শিক্ষার্থীরা ভাঙচুর চালানোর পর স্থানীয় বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য মানুষ যার যেভাবে ইচ্ছা মাথায় ও গাড়িতে করে সব মালামাল লুটপাট করে নিয়ে গেছে।
এক অভিভাবকের অভিযোগ, তার ছেলেকে জমি দখলের ঘটনায় ব্যবহার করা হয়। সেখানে ভাঙা টিনে পা কেটে সে গুরুতর আহত হয় এবং ১৬টি সেলাই দিতে হয়েছে। শিক্ষকদের সহযোগিতা ছাড়া শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে এমন ঘটনায় জড়ানো সম্ভব নয়। সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য স্কুলে পাঠানো হয়, কোনো দখলদারি বা সংঘাতে ব্যবহারের জন্য নয়। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন তিনি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কফিল উদ্দিন জানান, বহিরাগত ১০০ থেকে ১৫০ মানুষ স্কুলে ঢুকে স্লোগান দিয়ে শিক্ষার্থীদের সেখানে নিয়ে যায়। তারা সেখানে গিয়ে ভাঙচুর করে। তখন তিনি নিরুপাই ছিলেন।
তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীরা নয় বরং মালামাল ভুক্তভোগীরা নিজেরাই নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে এক ছাত্রের পা কেটে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টিন বা ঘরের দরজায় লেগে কেটে ১৬টি সেলাই পড়েছে, নাকি একটি সেলাই এ বিষয়টি তারা দেখেন নি, আপনিও দেখেননি। টিনে নাকি অন্য কোনো কিছুর আঘাতে কেটেছে, কিংবা কাটাকাটি হয়েছে এ মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। আর ১৬টি সেলাইয়ের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এ বিষয়ে আমি প্রথমবার শুনলাম। মান্দা থানার সহকারী উপ–পরিদর্শক (এএসআই) মো. শাহিন বলেন, ঘটনাস্থলে আমরা ছিলাম। দেখতে পাই যে, স্থানীয় কয়েকজন তরুণ যেমন মিলন, মোজাম্মেল এবং আরও দুই–তিনজনের নেতৃত্বে এ ঘটনাটি ঘটে। আমার জানামতে, এদের সাথে কয়েকজন শিক্ষক বা মাস্টারও উপস্থিত ছিলেন। তবে তাড়াহুড়ো ও উত্তেজনার কারণে সবাইকে স্পষ্টভাবে চেনা সম্ভব হয়নি। তারা এসে দোকান এবং ভেতরের জিনিসপত্র ভাঙচুর করতে শুরু করে।
এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী জানান, আদালতের রায় বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে মালশিরা উচ্চ বিদ্যালয়ের ঘটনাটি ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিদ্যালয়টি মান্দা ও তানোর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে দুই উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে বিস্তারিত তদন্ত করা প্রয়োজন। আদালতের রায় কার পক্ষে ছিল, কাদের স্বার্থে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করা হয়েছে এবং ভিডিওতে যাদের দেখা যাচ্ছে তারা কোথাকার বাসিন্দা এসব বিষয় নিশ্চিত হয়েই পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 
























