কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিষয়ে নানা বিতর্ক ও অভিযোগ সামনে এসেছে। তার রাজনৈতিক অবস্থান, গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্ক, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড এবং নিজ নির্বাচনি এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আলোচনায় আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। কুমিল্লার একটি নিম্ন আয়ের পরিবারে জন্ম নেওয়া হাসনাত পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি ও পরে একটি অনলাইন কোচিং প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন।
তার অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। অতীতে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে তিনি নিজেই বলেছেন, সে সময় পরিস্থিতির কারণে ওই সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে তার অবস্থান নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি একটি প্রতিবেদনে দাবি করে, সময় টিভির কয়েকজন সাংবাদিকের চাকরি হারানোর ঘটনায় হাসনাত আবদুল্লাহর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছিল। সিটি গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ হাসান বিবিসি বাংলাকে বলেন, হাসনাতসহ একটি প্রতিনিধি দল তাদের কার্যালয়ে গিয়েছিল। তবে হাসনাত চাপ প্রয়োগের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
২০২৫ সালের মার্চে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নিয়ে তার একটি ফেসবুক পোস্ট নিয়েও ব্যাপক আলোচনা হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করে এবং আইএসপিআর তার বক্তব্যকে “অত্যন্ত হাস্যকর ও অপরিপক্ব গল্পের সম্ভার” বলে মন্তব্য করে।
এ ছাড়া একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তার বক্তব্যও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। সমালোচকদের অভিযোগ, এতে গণমাধ্যমের ওপর চাপ সৃষ্টির ইঙ্গিত ছিল। তবে হাসনাত এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চট্টগ্রামে সাবেক সিটি মেয়র মনজুর আলমের বাসায় তার সফর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়। ওই সময় উপস্থিত কয়েকজন তার কাছে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাতের কারণ জানতে চান। ঘটনাটির ভিডিওও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ জমা দেওয়া এবং পরে তা প্রত্যাহারের বিষয়েও নানা আলোচনা রয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন মহলে ভিন্ন ভিন্ন দাবি থাকলেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশ হয়নি।
নিজ নির্বাচনি এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, সোলার লাইট স্থাপন, মসজিদ নির্মাণ এবং বন্যা ত্রাণের অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আদালতের রায় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।
সম্প্রতি কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। পরে তার সঙ্গে হাসনাত আবদুল্লাহর একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয়।
এসব অভিযোগের বিষয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ একাধিকবার বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে তার সমালোচকরা অভিযোগ করছেন, তার কর্মকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, উল্লিখিত অনেক অভিযোগই এখনো তদন্তাধীন বা রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ। সেসব বিষয়ে আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি।

ডেস্ক রিপোর্ট 
























