ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নেবে মিয়ানমার: আনোয়ার ইব্রাহিম ব্যারিকেড ভেঙে ভোপালে ২০০০ কৃষক, যোগ দিলো জেন-জিরাও থানার বাইরে বিএনপির অস্ত্রধারীদের টহলের দাবি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বৃহস্পতি ও শুক্রবার সিলেটের পাঁচ উপজেলায় এনসিপির পদযাত্রা ঘোষণা ‘দেশকে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী দিনে প্রায় ১৮ ঘণ্টা কাজ করেন’ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়ার কোনো প্রশ্নই আসে না: ইরান সরকার স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে: নাহিদ ইসলাম ইনসাফ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ থামবে না হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধি দেওয়া মুফতি রুহুল আমিন শিক্ষাবোর্ডের সভায় সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার

পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ হলে ইরান রাষ্ট্রের অস্তিত্ব থাকবে না’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৪৭:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
  • ৭৪ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এর পরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হলে ‘ইরান নামক রাষ্ট্রের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।’

শনিবার হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং মাইন পাতা সক্ষমতা লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়।

এর প্রতিক্রিয়ায় আইআরজিসি জানায়, তারা কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের পোর্ট সালমানে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরান দাবি করেছে, অভিযানে আটটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে এ দাবির স্বাধীন কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘এটি অত্যন্ত সম্ভব যে তারা কখনোই শিক্ষা নেবে না। এমন একটি সময় আসতে পারে যখন আমরা আর যুক্তিসঙ্গত আচরণ করতে পারব না এবং আমরা অত্যন্ত সফলভাবে যে সামরিক কাজটি শুরু করেছিলাম তা সম্পূর্ণভাবে শেষ করতে বাধ্য হব। যদি তা হয়, তাহলে ইরান নামক রাষ্ট্রের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।’

এদিকে কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে। বাহরাইনও ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়ে এটিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি বলে উল্লেখ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান শান্তি আলোচনা এবং ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি নতুন করে সংকটের মুখে পড়েছে। এতে হরমুজ প্রণালার নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নেবে মিয়ানমার: আনোয়ার ইব্রাহিম

পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ হলে ইরান রাষ্ট্রের অস্তিত্ব থাকবে না’

আপডেট সময় ০২:৪৭:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এর পরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হলে ‘ইরান নামক রাষ্ট্রের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।’

শনিবার হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং মাইন পাতা সক্ষমতা লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়।

এর প্রতিক্রিয়ায় আইআরজিসি জানায়, তারা কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের পোর্ট সালমানে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরান দাবি করেছে, অভিযানে আটটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে এ দাবির স্বাধীন কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘এটি অত্যন্ত সম্ভব যে তারা কখনোই শিক্ষা নেবে না। এমন একটি সময় আসতে পারে যখন আমরা আর যুক্তিসঙ্গত আচরণ করতে পারব না এবং আমরা অত্যন্ত সফলভাবে যে সামরিক কাজটি শুরু করেছিলাম তা সম্পূর্ণভাবে শেষ করতে বাধ্য হব। যদি তা হয়, তাহলে ইরান নামক রাষ্ট্রের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।’

এদিকে কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে। বাহরাইনও ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়ে এটিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি বলে উল্লেখ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান শান্তি আলোচনা এবং ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি নতুন করে সংকটের মুখে পড়েছে। এতে হরমুজ প্রণালার নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে।