ভারতের বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ‘করিডর’ হতে গিয়ে নিজেদের স্বার্থ বিসর্জন দিতে চায় না বাংলাদেশ। আসামের বরনগর থেকে বিহারের কাটিহার পর্যন্ত ৭৬৫ কেভির হাইভোল্টেজ সঞ্চালন লাইন বাংলাদেশের ওপর দিয়ে নিতে ভারতের নতুন তাগাদার পর চারটি শর্ত সামনে আনছে ঢাকা।
সরকারি সূত্র বলছে, এসব শর্ত পূরণ হলে সঞ্চালন লাইন নির্মাণে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারে বাংলাদেশ। তবে তার আগে এই প্রকল্পে দেশের প্রকৃত লাভ-ক্ষতি এবং বিদ্যুৎ নিরাপত্তার বিষয়টি স্পষ্ট করতে চায় সরকার।
প্রথম শর্ত হিসেবে ভারতকে জানাতে হবে, ব্রহ্মপুত্র নদে বাঁধ দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ এই লাইনের মাধ্যমে সঞ্চালন করা হবে কি না। কারণ, এমন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, নেপাল ও ভুটান থেকে তুলনামূলক কম দামে জলবিদ্যুৎ আমদানির জন্য বাংলাদেশকে আলাদা গ্রিড লাইন ব্যবহারের সুযোগ দিতে হবে।
তৃতীয় শর্ত, প্রস্তাবিত সঞ্চালন লাইন দিয়ে বাংলাদেশ কী পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারবে, সেটিও স্পষ্ট করতে হবে। আর চতুর্থত, বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে লাইন নির্মাণের আগে প্রকল্পটির অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতির হিসাব করতে হবে।
সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ৭৬৫ কেভি গ্রিড লাইন নির্মাণের বিষয়টি তোলেন।
তবে মন্ত্রী জানান, শুধু ভারতের বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহারের বিষয়টি তারা সেভাবে দেখছেন না। বরং নেপাল, ভারত, ভুটান ও বাংলাদেশ—চার দেশকে যুক্ত করে একটি যৌথ গ্রিড লাইন নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে চায় ঢাকা।
এর আগে জুলাইয়ের শেষ দিকে বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখের দিল্লি সফরেও বিষয়টি নিয়ে ভারতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম তামিম মনে করেন, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে যৌথ গ্রিড লাইন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে যে দেশ থেকে কম দামে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, বাংলাদেশকে সেখান থেকেই আমদানির সুযোগ থাকতে হবে।
অর্থাৎ, শুধু ভারতের বিদ্যুৎ সঞ্চালনের পথ হিসেবে নয়—বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ নিশ্চিত করেই এই করিডর ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিতে চায় ঢাকা।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















