ঢাকা , শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আর্জেন্টিনাকে বড় সুখবর দিল ফিফা গৃহযুদ্ধের পথে কি ইসরাইল? পিএসএ কি মরণব্যাধি ক্যানসারের লক্ষণ? যা বলছেন চিকিৎসকরা প্রতিটি ফ্যামিলি কার্ড তৈরিতে ব্যয় ৬০০ টাকা, অর্থের জোগান নিয়ে ধোঁয়াশা তারেক রহমান বিরোধী দলকে পোষ্য বানানোর চেষ্টা করছেন: সারজিস আলম আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: আইনমন্ত্রী মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ভূমিকম্পের মতো প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি ইরানের ‘দুষ্ট লোকেরা’ হাসনাত আবদুল্লাহকে ‘হাসিনার আবদুল্লাহ’ বলে: রাশেদ খাঁন রিজভীর নামে ফেসবুকে কোনো অ্যাকাউন্ট নেই, থানায় জিডি ‘আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনতে জামায়াত রাজনীতি ঘোলাটে করছে কি না, সজাগ থাকতে হবে’: ডিএসসিসি প্রশাসক

প্রতিটি ফ্যামিলি কার্ড তৈরিতে ব্যয় ৬০০ টাকা, অর্থের জোগান নিয়ে ধোঁয়াশা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:৩৭:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় ৪১ লাখ নারীকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে শুধু ভাতা নয়, কার্ড তৈরির খরচ নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।

প্রথম ধাপে ৪১ লাখ পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড তৈরি করতে ব্যয় হবে প্রায় ২৪৬ কোটি টাকা। কারণ, প্রতিটি কার্ড তৈরিতে খরচ ধরা হয়েছে ৬০০ টাকা। তবে এই অর্থ সরকার বহন করবে, নাকি অন্য কোনো উৎস থেকে আসবে—সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

কার্ড তৈরির পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব পরিচালনা, অর্থ স্থানান্তর ও মোবাইল আর্থিক সেবা ব্যবহারের জন্যও আলাদা খরচ হবে। ফলে পুরো ডিজিটাল বিতরণ ব্যবস্থায় সরকারের মোট ব্যয় আরও বাড়তে পারে।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে একটি বৈঠক হয়। এতে অর্থ বিভাগ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অংশ নেন। তবে কার্ড তৈরির খরচ কে বহন করবে, সে বিষয়ে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর আওতায় প্রথম ধাপে ৪১ লাখ পরিবারকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি সুবিধাভোগীদের কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে হিসাব পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি টাকাপে কার্ড ব্যবহার করে বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমেও টাকা তোলার সুযোগ থাকবে।

সরকারের লক্ষ্য, আগামী চার বছরে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা। প্রতিটি কার্ডে ৬০০ টাকা খরচ হলে সব মিলিয়ে কার্ড তৈরিতেই ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৯৬০ কোটি টাকা

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, কর্মসূচির মূল লক্ষ্য দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে সরাসরি সরকারি সহায়তা দেওয়া। তাই কার্ড তৈরির খরচের নামে সুবিধাভোগীদের ওপর কোনো অতিরিক্ত আর্থিক চাপ দেওয়া হবে কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার এবং এর বাস্তবায়নে বাজেট কোনো বাধা হবে না। তাঁর মতে, এটি শুধু সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নয়; নারীর ক্ষমতায়ন এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ারও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্জেন্টিনাকে বড় সুখবর দিল ফিফা

প্রতিটি ফ্যামিলি কার্ড তৈরিতে ব্যয় ৬০০ টাকা, অর্থের জোগান নিয়ে ধোঁয়াশা

আপডেট সময় ০৩:৩৭:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় ৪১ লাখ নারীকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে শুধু ভাতা নয়, কার্ড তৈরির খরচ নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।

প্রথম ধাপে ৪১ লাখ পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড তৈরি করতে ব্যয় হবে প্রায় ২৪৬ কোটি টাকা। কারণ, প্রতিটি কার্ড তৈরিতে খরচ ধরা হয়েছে ৬০০ টাকা। তবে এই অর্থ সরকার বহন করবে, নাকি অন্য কোনো উৎস থেকে আসবে—সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

কার্ড তৈরির পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব পরিচালনা, অর্থ স্থানান্তর ও মোবাইল আর্থিক সেবা ব্যবহারের জন্যও আলাদা খরচ হবে। ফলে পুরো ডিজিটাল বিতরণ ব্যবস্থায় সরকারের মোট ব্যয় আরও বাড়তে পারে।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে একটি বৈঠক হয়। এতে অর্থ বিভাগ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অংশ নেন। তবে কার্ড তৈরির খরচ কে বহন করবে, সে বিষয়ে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর আওতায় প্রথম ধাপে ৪১ লাখ পরিবারকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি সুবিধাভোগীদের কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে হিসাব পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি টাকাপে কার্ড ব্যবহার করে বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমেও টাকা তোলার সুযোগ থাকবে।

সরকারের লক্ষ্য, আগামী চার বছরে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা। প্রতিটি কার্ডে ৬০০ টাকা খরচ হলে সব মিলিয়ে কার্ড তৈরিতেই ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৯৬০ কোটি টাকা

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, কর্মসূচির মূল লক্ষ্য দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে সরাসরি সরকারি সহায়তা দেওয়া। তাই কার্ড তৈরির খরচের নামে সুবিধাভোগীদের ওপর কোনো অতিরিক্ত আর্থিক চাপ দেওয়া হবে কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার এবং এর বাস্তবায়নে বাজেট কোনো বাধা হবে না। তাঁর মতে, এটি শুধু সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নয়; নারীর ক্ষমতায়ন এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ারও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।