মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপের মাধ্যমে পরিচালিত অনুমোদনবিহীন ঋণ কার্যক্রম থেকে সতর্ক থাকতে সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
একই সঙ্গে এসব অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ না নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, সহজ শর্তে ও দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অবৈধ ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি সম্প্রতি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বা বিএফআইইউর নজরে এসেছে।
এসব অ্যাপ ব্যবহারকারীর মোবাইল ফোনে থাকা কন্টাক্টস, ছবি ও অন্যান্য সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছে। পরে ঋণের কিস্তি আদায়ের নামে গ্রাহকদের ওপর চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি দেখানো, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এতে মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
বিএফআইইউর নজরে আসা ৩১টি অননুমোদিত অ্যাপের মধ্যে রয়েছে—সাথী লোন, পপক্যাশ, ফিনক্যাশ, কুইক লোন, কুইক টাকা, ঢাকা ফিন, লোনভাইব, দোস্ত লোন, টাকা ক্যাশ লোন, এসএসএইচ মানি, লোনবাডি, ক্যাশহোরো, আলো ক্যাশ, ফাস্ট লোন, ইজি টাকা, বঙ্গক্যাশ, আশা লোন, সুবিধা লোন, স্মার্ট লোন বিডি, অনলাইন লোন বিডি, সিটি অনলাইন লোন, বিডি সহজ লোন, ক্যাশ লোন, সোনালী, লোনহাট ও টাকানাওসহ আরও কয়েকটি প্ল্যাটফর্ম।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দেশে ঋণ প্রদান একটি নিয়ন্ত্রিত আর্থিক কার্যক্রম। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ও প্রচলিত আইন-বিধি ছাড়া কোনো অ্যাপ বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ দেওয়া বৈধ নয়।
এ ধরনের প্রতারণামূলক ঋণ কার্যক্রম থেকে বাঁচতে চারটি পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অপরিচিত অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকে ঋণ না নেওয়া, জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক হিসাব বা ব্যক্তিগত তথ্য না দেওয়া এবং ঋণের নামে অগ্রিম অর্থ বা প্রসেসিং ফি চাওয়া হলে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া অবৈধ ঋণ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বা প্রতারণার শিকার হলে বিএফআইইউর কাছে অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 





















