গাজার গণহত্যায় ইসরায়েলের সমর্থন এবং জার্মান সরকারের নীরবতার প্রতিবাদে বার্লিনে বিক্ষোভ করেছে লাখো মানুষ। স্থানীয় সময় শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) প্রতিবাদকারীরা বার্লিনের সিটি হল থেকে গ্রোসার স্টার্ন পর্যন্ত মিছিল করেছে। এই বৃহৎ বিক্ষোভের আয়োজন করেছিল প্রায় ৫০টি গ্রুপের একটি বড় জোট, যার মধ্যে ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন, মেডিকো ইন্টারন্যাশনাল, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং বিরোধী লেফ্ট পার্টি অন্তর্ভুক্ত।
‘All eyes on Gaza – Stop the genocide’ শীর্ষক এই গণবিক্ষোভের আয়োজকরা জার্মান সরকারের জন্য ‘ইসরায়েলের গণহত্যায় সহমর্মিতা বন্ধের’ দাবি জানান। তারা আরও দাবি করেছে, ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের সামরিক সহযোগিতা বন্ধ করতে হবে। এরমধ্যে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামের আমদানি, রফতানি ও পরিবহন অন্তর্ভুক্ত।
আয়োজকরা বিবৃতিতে বলেন, ‘ইসরায়েলি সরকারের কার্যক্রম বহু সময় ধরেই বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দ্বারা গণহত্যা হিসেবে বর্ণিত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আদালত বিষয়টি তদন্ত করছে। সবাই দেখছে কীভাবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজার নাগরিকদের ওপর গণহত্যা করছে, কিন্তু জার্মান সরকার এই সিস্টেম্যাটিক সহিংসতা অস্বীকার করছে।’
বিক্ষভকারীরা ইসরায়েলে অস্ত্র রফতানি বন্ধ, গাজার জন্য মানবিক সাহায্যের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইসরায়েলবিরোধী নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছে। নতুন একটি জরিপে দেখা গেছে, জার্মান ভোটারদের মধ্যে ৬২% মনে করছেন গাজার ওপর ইসরায়েলের কার্যক্রম গণহত্যা। এটি কেন্দ্র-ডান সরকারকে ইসরায়েলের প্রতি তাদের অবস্থান পুনর্মূল্যায়নের চাপ বাড়াচ্ছে।
যদিও চ্যান্সেলর মেরজ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়েডেফুল সম্প্রতি ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা তীব্র করেছেন এবং গাজার মানবিক সাহায্য অবরোধের বিষয়েও মন্তব্য করেছেন, তবে তারা এখন পর্যন্ত ‘গণহত্যা’ শব্দটি ব্যবহার করেননি এবং পরিবর্তে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ শক্তি প্রয়োগ উল্লেখ করেছেন। সূত্র: আনাদুলু এজেন্সি।

ডেস্ক রিপোর্ট 

























