ঢাকা , বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থিতার সুযোগ বন্ধে জামায়াতের আপত্তি ভারত-চীনের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্কারোপের আহ্বান জানিয়ে মার্কিন সিনেটে বিল পাশ নোয়াখালীতে নতুন গ্যাস কূপের খনন কাজ শুরু জিপিএইচ ইস্পাতকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা, জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণে ব্যয়ের নির্দেশ জামায়াত নেতার ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা বিধবা নারী, গর্ভে থাকা সন্তানকেও হত্যা আলিফের চোখের দৃষ্টি টোটালি শেষ: চিকিৎসকের বরাতে সার্জিস গাবতলীতে হঠাৎ একই লাইনে মুখোমুখি দুই ট্রেন, প্রাণ বাঁচাতে লাফিয়ে পড়ে ৪ যাত্রী আহত এবার চীন থেকে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনছে ইরান আগস্টেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সব আলোচনা মির্জা ফখরুলকে নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে ইরান

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতীয় রুপিতে বাণিজ্য করতে চায় রাশিয়া

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

এবার যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে রুশ ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক লেনদেনে তৈরি হওয়া জটিলতা কাটাতে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতীয় রুপিতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নিষ্পত্তির প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে পৃথক পেমেন্ট অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং ঢাকায় একটি রুশ ব্যাংকের শাখা চালুর প্রস্তাবও নতুন করে সামনে এনেছে মস্কো। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, আগামী সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশরাশিয়াইন্টারগভর্নমেন্টাল কমিশন অন ট্রেড, ইকোনমিক, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল কোঅপারেশনবৈঠকে এসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। বৈঠকের আগে বাংলাদেশের অবস্থান ও এজেন্ডা চূড়ান্ত করতে আজ প্রস্তুতিমূলক সভা করার কথা রয়েছে।

ইআরডির কর্মকর্তারা জানান, রাশিয়াইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে রুশ ব্যাংকগুলোর সঙ্গে প্রচলিত আর্থিক লেনদেন কার্যত বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিকল্প অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থা হিসেবে ভারতীয় রুপিতে বাণিজ্য নিষ্পত্তির প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক আর্থিক লেনদেন সহজ করতে একটি স্বতন্ত্র পেমেন্ট অবকাঠামো গড়ে তোলারও প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি।

রুশ ব্যাংকের শাখা খোলার প্রস্তাব-  ঢাকায় একটি রুশ ব্যাংকের শাখা খোলার বিষয়টিও আবার আলোচনায় এনেছে মস্কো। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও একই ধরনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সে সময় বাংলাদেশ ব্যাংক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতামত চাইলেও বিষয়টি আর এগোয়নি।

রূপপুরের অর্থ আটকে আছে- যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের ঋণের কিস্তির অর্থ রাশিয়ায় পাঠাতে পারছে না বাংলাদেশ। শুরুতে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে অর্থ পরিশোধের প্রস্তাব দিলেও নিষেধাজ্ঞাজনিত ঝুঁকির কারণে চীন ও বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো তাতে আগ্রহ দেখায়নি। বর্তমানে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে সোনালী ব্যাংকে রাশিয়ার নামে খোলা একটি হিসাবে ঋণের কিস্তির অর্থ জমা রাখা হচ্ছে। তবে নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই অর্থ রাশিয়ার ব্যাংকগুলোতে স্থানান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না।

ইআরডি সূত্র জানায়, সোনালী ব্যাংকে জমা হওয়া অর্থ বাংলাদেশেই বিনিয়োগের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। তবে রাশিয়া সে প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি।

রুপিতে বাণিজ্যের প্রেক্ষাপট- রাশিয়ার এ প্রস্তাব এমন সময়ে এসেছে, যখন ভারত ও রাশিয়া আনুষ্ঠানিক কারেন্সি সোয়াপ চুক্তি ছাড়াই তাদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের একটি অংশ ভারতীয় রুপিতে পরিচালনা করছে। বাংলাদেশও ভারতের সঙ্গে ডলারের পাশাপাশি ভারতীয় রুপিতেও বাণিজ্য করছে।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন উদ্যোগ- দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বহুমুখীকরণেরাশিয়াবাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলগঠনের প্রস্তাব দিয়েছে মস্কো। একই সঙ্গে রাশিয়ার আমদানিকারকদের জন্য নির্ভরযোগ্য বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানিকারকদের একটি নিবন্ধিত তালিকা তৈরিরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে রাশিয়া।

যুদ্ধের পর কমেছে রপ্তানি- মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানির সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। রাশিয়াইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগে দেশটিতে বাংলাদেশের বার্ষিক রপ্তানি ৫০ কোটি ডলারের বেশি ছিল। যুদ্ধের পর তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ায় ২৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ এখনো রাশিয়া থেকে সার, গমসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করছে।

বাংলাদেশের অগ্রাধিকার- আসন্ন কমিশন বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার থাকবে প্রযুক্তি হস্তান্তর নিশ্চিত করা। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি নিরাপত্তা, কমার্স, ডিজিটাল অর্থনীতি ও উদ্ভাবন খাতে সহযোগিতা জোরদারের প্রস্তাব দেওয়া হবে। এ ছাড়া কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কানেক্টিভিটি এবং লজিস্টিকস খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হবে।

বাংলাদেশরাশিয়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে ২০১৭ সালে দুই দেশের *ইন্টারগভর্নমেন্টাল কমিশন অন ট্রেড, ইকোনমিক, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল কোঅপারেশন* গঠিত হয়। কমিশনের সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ। এর আগে ২০১৮ সালে মস্কো, ২০১৯ সালে ঢাকা এবং ২০২১ সালে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে বৈঠক হয়েছিল।

কম দামে ইউরিয়া সার সরবরাহের প্রস্তাব- বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে রাশিয়া। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় প্রতি টনে ১০ ডলার কম দামে বাংলাদেশকে ইউরিয়া সার সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ভিয়াচেস্লাভ সেন্টিউরিনের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে সরকারটুসরকার (জিটুজি) ব্যবস্থায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনকে (বিসিআইসি) প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টন ইউরিয়া সার সরবরাহের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি সূর্যমুখী তেল, হলুদ মটরশুঁটি, ছোলা, লাল মসুর ও সবুজ মসুর ডাল সরবরাহের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এবং জেএসসি এফইসি প্রোডিনটর্গের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের আওতায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে বাংলাদেশ রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থিতার সুযোগ বন্ধে জামায়াতের আপত্তি

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতীয় রুপিতে বাণিজ্য করতে চায় রাশিয়া

আপডেট সময় ১১:১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

এবার যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে রুশ ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক লেনদেনে তৈরি হওয়া জটিলতা কাটাতে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতীয় রুপিতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নিষ্পত্তির প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে পৃথক পেমেন্ট অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং ঢাকায় একটি রুশ ব্যাংকের শাখা চালুর প্রস্তাবও নতুন করে সামনে এনেছে মস্কো। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, আগামী সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশরাশিয়াইন্টারগভর্নমেন্টাল কমিশন অন ট্রেড, ইকোনমিক, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল কোঅপারেশনবৈঠকে এসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। বৈঠকের আগে বাংলাদেশের অবস্থান ও এজেন্ডা চূড়ান্ত করতে আজ প্রস্তুতিমূলক সভা করার কথা রয়েছে।

ইআরডির কর্মকর্তারা জানান, রাশিয়াইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে রুশ ব্যাংকগুলোর সঙ্গে প্রচলিত আর্থিক লেনদেন কার্যত বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিকল্প অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থা হিসেবে ভারতীয় রুপিতে বাণিজ্য নিষ্পত্তির প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক আর্থিক লেনদেন সহজ করতে একটি স্বতন্ত্র পেমেন্ট অবকাঠামো গড়ে তোলারও প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি।

রুশ ব্যাংকের শাখা খোলার প্রস্তাব-  ঢাকায় একটি রুশ ব্যাংকের শাখা খোলার বিষয়টিও আবার আলোচনায় এনেছে মস্কো। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও একই ধরনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সে সময় বাংলাদেশ ব্যাংক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতামত চাইলেও বিষয়টি আর এগোয়নি।

রূপপুরের অর্থ আটকে আছে- যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের ঋণের কিস্তির অর্থ রাশিয়ায় পাঠাতে পারছে না বাংলাদেশ। শুরুতে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে অর্থ পরিশোধের প্রস্তাব দিলেও নিষেধাজ্ঞাজনিত ঝুঁকির কারণে চীন ও বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো তাতে আগ্রহ দেখায়নি। বর্তমানে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে সোনালী ব্যাংকে রাশিয়ার নামে খোলা একটি হিসাবে ঋণের কিস্তির অর্থ জমা রাখা হচ্ছে। তবে নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই অর্থ রাশিয়ার ব্যাংকগুলোতে স্থানান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না।

ইআরডি সূত্র জানায়, সোনালী ব্যাংকে জমা হওয়া অর্থ বাংলাদেশেই বিনিয়োগের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। তবে রাশিয়া সে প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি।

রুপিতে বাণিজ্যের প্রেক্ষাপট- রাশিয়ার এ প্রস্তাব এমন সময়ে এসেছে, যখন ভারত ও রাশিয়া আনুষ্ঠানিক কারেন্সি সোয়াপ চুক্তি ছাড়াই তাদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের একটি অংশ ভারতীয় রুপিতে পরিচালনা করছে। বাংলাদেশও ভারতের সঙ্গে ডলারের পাশাপাশি ভারতীয় রুপিতেও বাণিজ্য করছে।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন উদ্যোগ- দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বহুমুখীকরণেরাশিয়াবাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলগঠনের প্রস্তাব দিয়েছে মস্কো। একই সঙ্গে রাশিয়ার আমদানিকারকদের জন্য নির্ভরযোগ্য বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানিকারকদের একটি নিবন্ধিত তালিকা তৈরিরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে রাশিয়া।

যুদ্ধের পর কমেছে রপ্তানি- মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানির সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। রাশিয়াইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগে দেশটিতে বাংলাদেশের বার্ষিক রপ্তানি ৫০ কোটি ডলারের বেশি ছিল। যুদ্ধের পর তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ায় ২৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ এখনো রাশিয়া থেকে সার, গমসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করছে।

বাংলাদেশের অগ্রাধিকার- আসন্ন কমিশন বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার থাকবে প্রযুক্তি হস্তান্তর নিশ্চিত করা। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি নিরাপত্তা, কমার্স, ডিজিটাল অর্থনীতি ও উদ্ভাবন খাতে সহযোগিতা জোরদারের প্রস্তাব দেওয়া হবে। এ ছাড়া কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কানেক্টিভিটি এবং লজিস্টিকস খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হবে।

বাংলাদেশরাশিয়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে ২০১৭ সালে দুই দেশের *ইন্টারগভর্নমেন্টাল কমিশন অন ট্রেড, ইকোনমিক, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল কোঅপারেশন* গঠিত হয়। কমিশনের সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ। এর আগে ২০১৮ সালে মস্কো, ২০১৯ সালে ঢাকা এবং ২০২১ সালে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে বৈঠক হয়েছিল।

কম দামে ইউরিয়া সার সরবরাহের প্রস্তাব- বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে রাশিয়া। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় প্রতি টনে ১০ ডলার কম দামে বাংলাদেশকে ইউরিয়া সার সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ভিয়াচেস্লাভ সেন্টিউরিনের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে সরকারটুসরকার (জিটুজি) ব্যবস্থায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনকে (বিসিআইসি) প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টন ইউরিয়া সার সরবরাহের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি সূর্যমুখী তেল, হলুদ মটরশুঁটি, ছোলা, লাল মসুর ও সবুজ মসুর ডাল সরবরাহের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এবং জেএসসি এফইসি প্রোডিনটর্গের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের আওতায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে বাংলাদেশ রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।