ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ সীমান্তে কেন সাপ-কুমির ছাড়তে চায় ভারত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:১৬:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ সীমান্তে কথিত অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে নজিরবিহীন এক পরিকল্পনা নিয়েছে ভারত। সীমান্তের যেসব এলাকায় ভৌগোলিক কারণে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়, সেখানে প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধক হিসেবে কুমির ও বিষধর সাপ মোতায়েন করতে চায় দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

 

দুই দেশের মধ্যে মোট চার হাজার ৯৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় তিন হাজার কিলোমিটারে ইতিমধ্যেই কাঁটাতারের বেড়া বসানো হয়েছে। বাকি অংশ পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও মিজোরামের মধ্য দিয়ে গেছে। এসব জায়গায় অনেক সীমান্ত এলাকা পাহাড়, নদী ও জলাভূমি হওয়ায় সেসব স্থানে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার সুযোগ নেই। মূলত এমন স্থানগুলোতে এখন বিকল্প ব্যবস্থা করতে চায় দিল্লি।

 

আল জাজিরার খবরে বলা হয়, চলতি বছরের ২৬ মার্চ বিএসএফের এ সংক্রান্ত একটি অভ্যন্তরীণ চিঠি ফাঁস হয়। ওই চিঠিতে কর্মকর্তাদের ঝুঁকিপূর্ণ নদী এলাকায় হিংস্র সরীসৃপ মোতায়েনের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বলা হয়েছিল। নির্দেশনা পাওয়ার পর সে অনুযায়ী গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে বলা হয়। এ নিয়ে প্রথম খবর প্রকাশ করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নর্থইস্ট নিউজ।

 

ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গত বছরের এক প্রতিবেদনেও বিষয়টি উঠে আসে। এতে বলা হয়, নদীবেষ্টিত এলাকা বা নিম্নাঞ্চল, সীমান্ত সংলগ্ন বসতি, জমি অধিগ্রহণের অমীমাংসিত মামলা এবং স্থানীয় জনগণের প্রতিবাদের কারণে সীমান্তের কিছু অংশে বেষ্টনী নির্মাণ বিলম্বিত হচ্ছে।

 

ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার দীর্ঘদিন ধরে একটি বয়ান তৈরির চেষ্টা করছে। এই বয়ান হলো, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অনথিভুক্ত অভিবাসীরা দেশটির জনতাত্ত্বিক কাঠামো বদলে দিচ্ছে। দৃশ্যত সীমান্তে সাপ-কুমির ছাড়ার পরিকল্পনা বিজেপির এই বয়ানের রাজনীতির অংশ।

 

ইতোপূর্বে বহুবার বিএসএফের বিরুদ্ধে বন্দুকের মুখে ভারতীয় মুসলমানদের বাংলাদেশে পুশইনের অভিযোগ উঠেছে। বিজিবির পক্ষ থেকেও এমন ঘটনার প্রতিবাদ করা হয়েছে।

 

মানবাধিকার কর্মী হর্ষ মান্দার বলেন, অবৈধ অভিবাসী আটকের নামে ভারতীয় মুসলমানদের ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে সীমান্তের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, অনথিভুক্ত অভিবাসীর সংখ্যা বাড়লেও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে বা বিচারিক প্রক্রিয়ায় সমস্যা সমাধানের বদলে ভারত সরকার বিচারবহির্ভূত পদ্ধতি বেছে নিয়েছে। তাঁর মতে, মুসলমানদের নিশানা করা দিল্লির একটি কৌশল। এর মাধ্যমে তারা বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে রাষ্ট্রহীন মানুষে পরিণত করার আতঙ্ক ছড়িয়ে দিতে পারে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ সীমান্তে কেন সাপ-কুমির ছাড়তে চায় ভারত

আপডেট সময় ০৯:১৬:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ সীমান্তে কথিত অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে নজিরবিহীন এক পরিকল্পনা নিয়েছে ভারত। সীমান্তের যেসব এলাকায় ভৌগোলিক কারণে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়, সেখানে প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধক হিসেবে কুমির ও বিষধর সাপ মোতায়েন করতে চায় দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

 

দুই দেশের মধ্যে মোট চার হাজার ৯৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় তিন হাজার কিলোমিটারে ইতিমধ্যেই কাঁটাতারের বেড়া বসানো হয়েছে। বাকি অংশ পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও মিজোরামের মধ্য দিয়ে গেছে। এসব জায়গায় অনেক সীমান্ত এলাকা পাহাড়, নদী ও জলাভূমি হওয়ায় সেসব স্থানে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার সুযোগ নেই। মূলত এমন স্থানগুলোতে এখন বিকল্প ব্যবস্থা করতে চায় দিল্লি।

 

আল জাজিরার খবরে বলা হয়, চলতি বছরের ২৬ মার্চ বিএসএফের এ সংক্রান্ত একটি অভ্যন্তরীণ চিঠি ফাঁস হয়। ওই চিঠিতে কর্মকর্তাদের ঝুঁকিপূর্ণ নদী এলাকায় হিংস্র সরীসৃপ মোতায়েনের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বলা হয়েছিল। নির্দেশনা পাওয়ার পর সে অনুযায়ী গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে বলা হয়। এ নিয়ে প্রথম খবর প্রকাশ করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নর্থইস্ট নিউজ।

 

ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গত বছরের এক প্রতিবেদনেও বিষয়টি উঠে আসে। এতে বলা হয়, নদীবেষ্টিত এলাকা বা নিম্নাঞ্চল, সীমান্ত সংলগ্ন বসতি, জমি অধিগ্রহণের অমীমাংসিত মামলা এবং স্থানীয় জনগণের প্রতিবাদের কারণে সীমান্তের কিছু অংশে বেষ্টনী নির্মাণ বিলম্বিত হচ্ছে।

 

ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার দীর্ঘদিন ধরে একটি বয়ান তৈরির চেষ্টা করছে। এই বয়ান হলো, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অনথিভুক্ত অভিবাসীরা দেশটির জনতাত্ত্বিক কাঠামো বদলে দিচ্ছে। দৃশ্যত সীমান্তে সাপ-কুমির ছাড়ার পরিকল্পনা বিজেপির এই বয়ানের রাজনীতির অংশ।

 

ইতোপূর্বে বহুবার বিএসএফের বিরুদ্ধে বন্দুকের মুখে ভারতীয় মুসলমানদের বাংলাদেশে পুশইনের অভিযোগ উঠেছে। বিজিবির পক্ষ থেকেও এমন ঘটনার প্রতিবাদ করা হয়েছে।

 

মানবাধিকার কর্মী হর্ষ মান্দার বলেন, অবৈধ অভিবাসী আটকের নামে ভারতীয় মুসলমানদের ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে সীমান্তের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, অনথিভুক্ত অভিবাসীর সংখ্যা বাড়লেও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে বা বিচারিক প্রক্রিয়ায় সমস্যা সমাধানের বদলে ভারত সরকার বিচারবহির্ভূত পদ্ধতি বেছে নিয়েছে। তাঁর মতে, মুসলমানদের নিশানা করা দিল্লির একটি কৌশল। এর মাধ্যমে তারা বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে রাষ্ট্রহীন মানুষে পরিণত করার আতঙ্ক ছড়িয়ে দিতে পারে।