তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি বহুমুখীকরণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ‘এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস’ বা ইসিফরজে প্রকল্প। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার নতুন ও শোভন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করা প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য ছিল চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা, প্লাস্টিক এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়িয়ে নতুন রপ্তানি বাজার তৈরি করা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রকল্পটি প্রায় সব কর্মসম্পাদন সূচকেই নির্ধারিত লক্ষ্য অতিক্রম করেছে। প্রকল্প পরিচালক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ আব্দুর রহমান বলেন, এর উদ্দেশ্য শুধু রপ্তানি বৃদ্ধি নয়, বরং বাংলাদেশি শিল্পকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করে টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
প্রকল্পের আওতায় ৫৭০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা পেয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক মানের কমপ্লায়েন্স অর্জন, উৎপাদন আধুনিকায়ন এবং নতুন বিদেশি বাজারে প্রবেশের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান ২৬০টি আন্তর্জাতিক সনদ অর্জন করেছে এবং ২২টি নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করেছে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, উপকারভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রি বেড়েছে ৫৯ শতাংশ এবং গড় রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১৯২ শতাংশ। একই সঙ্গে প্রকল্পের আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর রপ্তানিকারকের হার ৫৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯৫ শতাংশে পৌঁছেছে।
শিল্পের দক্ষতা বাড়াতে গড়ে তোলা হয়েছে নতুন প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি কেন্দ্র। পাশাপাশি ১৪টি আন্তর্জাতিক সোর্সিং প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে ৭৩টি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান, যা নতুন ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব ও রপ্তানির সুযোগ তৈরি করেছে।
বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি সরাসরি ১ লাখ ৭ হাজারের বেশি মানুষকে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ দিয়েছে, যার ৩৮ শতাংশই নারী। আর সামগ্রিকভাবে এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রার প্রায় তিন গুণ।
বিশ্বব্যাংকের মতে, সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগে রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে ইসিফরজে প্রকল্প বাংলাদেশের জন্য একটি সফল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 























