ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আসেনি বাবা-মা, নিজের বন্ডে নিজেই সই করলেন আহত আলিফ আদালতের নির্দেশে ৭ মাসের সন্তান ফিরে পেল ১৩ বছরের কিশোরী মা টিফিনের রুটিতে ব্লেড নিয়ে তদন্ত, বরখাস্ত হলেন শিক্ষিকা চোখ হারানো আলিফকে দেখতে যাচ্ছেন এনসিপি নেতারা এবার গোলাপগঞ্জে সারজিস আলমের গাড়িতে হামলা এনসিপি নতুন বন্দোবস্তের নামে ‘ভণ্ডবস্তের’ রাজনীতি করছে: রাশেদ খাঁন অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের সিজারের ক্ষেত্রে ডাক্তারদের নিরুৎসাহিত করার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আবারও ইসরায়েলি সেনাদের বেড়েছে আত্মহত্যার প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু দেশগুলোকেও হুমকি ইরানের আজ পর্যন্ত জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব নেয়নি জামায়াত: শফিকুর রহমান

আদালতের নির্দেশে ৭ মাসের সন্তান ফিরে পেল ১৩ বছরের কিশোরী মা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:৫১:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

অবশেষে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে সাত মাস বয়সী শিশুসন্তানকে নিজের জিম্মায় ফিরে পেয়েছেন ১৩ বছর বয়সী কিশোরী মা অনামিকা আক্তার জুঁই। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত শিশুটিকে আপাতত মায়ের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দেন। শুনানিতে বিচারক বলেন, শিশুটির সর্বোত্তম স্বার্থ ও মানবিক দিক বিবেচনায় আপাতত সে তার মায়ের কাছেই থাকবে। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন ধার্য করা হয়েছে।

আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ২২ বছর বয়সী শাকিল ওরফে শাকিব মিয়ার সঙ্গে পরিচয় হয় অনামিকা আক্তার জুঁইয়ের। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, জুঁই অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকা অবস্থায় তাকে বিয়ে করেন শাকিল। চলতি বছরের শুরুতে তাদের ঘরে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। জুঁইয়ের অভিযোগ, সন্তান জন্মের কয়েক মাস পর তাকে শিশুটিকে রেখে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর বিভিন্নভাবে সন্তানকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে গত ১ জুলাই তিনি ঢাকার চিফ লিগ্যাল এইড অফিসে অভিযোগ করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত অভিযুক্ত শাকিল ও তার মাকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিলেও তারা উপস্থিত হননি। পরে আদালতের নির্দেশে চকবাজার থানার পুলিশ সোমবার শিশুটিকে উদ্ধার করে আদালতে হাজির করে। মঙ্গলবার শুনানি শেষে আদালত শিশুটিকে মায়ের জিম্মায় দেওয়ার আদেশ দেন। শুনানিকালে বিচারক বলেন, প্রথম দিন জুঁইকে দেখে তিনি বিশ্বাসই করতে পারেননি যে তার একটি সন্তান রয়েছে। কারণ বয়সের দিক থেকে জুঁই নিজেও একজন শিশু।

জুঁইয়ের আইনজীবীর দাবি, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তাকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। সন্তান জন্মের পর তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং শিশুকেও তার কাছ থেকে আলাদা রাখা হয়। অন্যদিকে অভিযুক্ত শাকিলের দাবি, জুঁই স্বেচ্ছায় তার সঙ্গে গিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে সন্তানকে রেখে নিজেই বাড়ি ছেড়ে চলে যান। তিনি সন্তানের অভিভাবকত্ব চেয়ে পারিবারিক আদালতেও একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে শুনানিতে উল্লেখ করা হয়। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। ওই শুনানিতে শিশুটির স্থায়ী অভিভাবকত্বসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেবেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আসেনি বাবা-মা, নিজের বন্ডে নিজেই সই করলেন আহত আলিফ

আদালতের নির্দেশে ৭ মাসের সন্তান ফিরে পেল ১৩ বছরের কিশোরী মা

আপডেট সময় ০৩:৫১:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

অবশেষে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে সাত মাস বয়সী শিশুসন্তানকে নিজের জিম্মায় ফিরে পেয়েছেন ১৩ বছর বয়সী কিশোরী মা অনামিকা আক্তার জুঁই। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত শিশুটিকে আপাতত মায়ের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দেন। শুনানিতে বিচারক বলেন, শিশুটির সর্বোত্তম স্বার্থ ও মানবিক দিক বিবেচনায় আপাতত সে তার মায়ের কাছেই থাকবে। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন ধার্য করা হয়েছে।

আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ২২ বছর বয়সী শাকিল ওরফে শাকিব মিয়ার সঙ্গে পরিচয় হয় অনামিকা আক্তার জুঁইয়ের। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, জুঁই অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকা অবস্থায় তাকে বিয়ে করেন শাকিল। চলতি বছরের শুরুতে তাদের ঘরে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। জুঁইয়ের অভিযোগ, সন্তান জন্মের কয়েক মাস পর তাকে শিশুটিকে রেখে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর বিভিন্নভাবে সন্তানকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে গত ১ জুলাই তিনি ঢাকার চিফ লিগ্যাল এইড অফিসে অভিযোগ করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত অভিযুক্ত শাকিল ও তার মাকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিলেও তারা উপস্থিত হননি। পরে আদালতের নির্দেশে চকবাজার থানার পুলিশ সোমবার শিশুটিকে উদ্ধার করে আদালতে হাজির করে। মঙ্গলবার শুনানি শেষে আদালত শিশুটিকে মায়ের জিম্মায় দেওয়ার আদেশ দেন। শুনানিকালে বিচারক বলেন, প্রথম দিন জুঁইকে দেখে তিনি বিশ্বাসই করতে পারেননি যে তার একটি সন্তান রয়েছে। কারণ বয়সের দিক থেকে জুঁই নিজেও একজন শিশু।

জুঁইয়ের আইনজীবীর দাবি, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তাকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। সন্তান জন্মের পর তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং শিশুকেও তার কাছ থেকে আলাদা রাখা হয়। অন্যদিকে অভিযুক্ত শাকিলের দাবি, জুঁই স্বেচ্ছায় তার সঙ্গে গিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে সন্তানকে রেখে নিজেই বাড়ি ছেড়ে চলে যান। তিনি সন্তানের অভিভাবকত্ব চেয়ে পারিবারিক আদালতেও একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে শুনানিতে উল্লেখ করা হয়। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। ওই শুনানিতে শিশুটির স্থায়ী অভিভাবকত্বসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেবেন।