ঢাকা , সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
এবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিজয়কে দেখতে চায় টিভিকে চলন্ত স্লিপার বাসে ১৬ বছরের কিশোরীকে পালাক্রমে ধর্ষণ, নির্মমতা চলে ৪০ কিলোমিটার পথ এবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে দিনদুপুরে ৩৯ লাখ টাকা ছিনতাই সেপ্টেম্বরে ডিজেল-অকটেন-পেট্রলের দাম ঘোষণা রাম মন্দিরের জন্য ৪ কোটির চেক দিলেন নারী, অ্যাকাউন্টে মিলল মাত্র ৩ রুপি ‘জীবনে আর কিছু চাওয়ার নাই’: বরযাত্রীর গাড়ি থেকে নববধূকে তুলে নিয়ে ছাত্রদলকর্মীর পোস্ট মক্কায় তৃতীয় হিজরির একটি বিরল কোরআনের পাণ্ডুলিপি প্রদর্শন  খার্গ দ্বীপ ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের, ইরান বলল ‘হাস্যকর’ এবার আরব আমিরাতে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা ইরানের সবার সঙ্গে সম্পর্কের দরজা খোলা রেখে বাণিজ্যিক-সামরিক চুক্তিতে যেতে হবে: ওমরাহ শেষে দেশে ফিরে আসিফ মাহমুদ

ভয়াবহ বন্যার স্রোত ধেয়ে আসতেই ঘণ্টা বাজালেন প্রধান শিক্ষক, বাঁচল ১৬৪৩ প্রাণ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:২৯:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩২ বার পড়া হয়েছে

এবার ভয়াবহ বন্যার পানি স্কুলের দিকে ধেয়ে আসছেএমন সতর্কবার্তা পেয়েই এক মুহূর্তও দেরি করেননি প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি। ঘণ্টা বাজিয়ে শিক্ষকশিক্ষার্থীদের দ্রুত স্কুল থেকে বের করে দেন তিনি। তার সেই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তেই প্রাণে বেঁচে যায় ১ হাজার ৬৪৩ শিশু। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৯টা ২০ মিনিটে এক বন্ধুর কাছ থেকে ফোন পান নেপালের ত্রিশূলী উপত্যকার ত্রিভুবন ত্রিশূলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দাওয়াদি। তাকে জানানো হয়, পাহাড়ি নদীতে ভয়াবহ স্রোত নেমে আসছে এবং গ্রামের পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হচ্ছে। বন্ধু তাকে বলেছিলেন, ‘গ্রামটি আর নেই, নদী সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। আমাকে দৌড়াতে বলেছে।

তখন তিনতলা স্কুল ভবন ও এর আশপাশে ছিল ১ হাজার ৬৪৩ শিক্ষার্থী। হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় এরই মধ্যে পাহাড়ি নদীগুলো ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। ৪৭ বছর বয়সি ইংরেজির শিক্ষক দাওয়াদি প্রথমে ভেবেছিলেন, স্কুলটি নিরাপদ। কংক্রিটের তৈরি ভবনটি নদীর চেয়ে প্রায় ৬০ মিটার উঁচুতে ছিল। এমনকি গ্রামের সঙ্গে নদীর পূর্ব তীরের সংযোগকারী স্টিলের সেতুটিও স্কুলের সমান উচ্চতায় ছিল। কিন্তু এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ছুটে এসে জানান, পানি খুব দ্রুত বাড়ছে। দাওয়াদি সঙ্গে সঙ্গে স্কুলের ঘণ্টা বাজিয়ে শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষ খালি করার নির্দেশ দেন। তিনি স্কুলবাসের চালকদের ফোন করে বাস ঘুরিয়ে আনতে বলেন। তবে একজন চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। কিছুক্ষণ পর নিজের চোখেই দেখেন, সেই বাসটি সেতু পার হচ্ছে।

এরই মধ্যে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে, তারা বড় বিপদের মধ্যে পড়েছে। এক ছাত্রী আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মোটরসাইকেলে করে উঁচু এলাকায় নেওয়া হয়। অন্যরা দৌড়ে নিরাপদ স্থানের দিকে ছুটতে থাকে। তাদের পেছন পেছন ছুটছিলেন দাওয়াদিও। শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা একটি বোধিবৃক্ষের নিচে আশ্রয় নেয়। আর সেই সময় ভয়ংকর স্রোত তাদের স্কুল ভবনসহ আশপাশের স্থাপনা ভাসিয়ে নিয়ে যায়।  দাওয়াদির দ্রুত সিদ্ধান্তে ১ হাজার ৬৪৩ শিক্ষার্থী এবং শিক্ষককর্মীদের প্রায় সবাই প্রাণে বেঁচে যান। তবে স্কুলের সমাজবিজ্ঞান শিক্ষক ৩২ বছর বয়সি সান্তোষ পারিয়ার বাঁচতে পারেননি। নদীর পাশে ভাড়া বাসায় নাশতা রান্না করতে ফিরে গিয়ে তিনি স্রোতে ভেসে যান। স্কুলের পরিচ্ছন্নতাকর্মী সুলতান লামাও দরজা বন্ধ করতে ফিরে গিয়ে প্রাণ হারান।

স্থানীয় বাসিন্দারা দাওয়াদিকে নায়ক হিসেবে দেখছেন। কিন্তু নিজেকে নায়ক মনে করেন না তিনি। ধ্বংস হয়ে যাওয়া স্কুলের কাদামাখা ধ্বংসাবশেষের দিকে তাকিয়ে দাওয়াদি বলেন, ‘আমি আর কী করতে পারতাম?’ ধারণা করা হচ্ছে, তিব্বত সীমান্তের কাছে লাংটাং লিরুং পর্বতশৃঙ্গের একটি বিশাল অংশের বরফ ও পাথর ধসে প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার নিচে লেন্দে খোলা নদীর খাড়া গিরিখাতে পড়ে। এর ফলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগেরির ভূআকৃতিবিদ ড্যানিয়েল শুগারের হিসাব অনুযায়ী, ধসে পড়া বরফপাথরের অংশটি প্রায় ৫০ একর জায়গাজুড়ে ছিল, যা লন্ডনের গ্রিন পার্কের প্রায় সমান।

এই অঞ্চল এর আগেও ভয়াবহ দুর্যোগ দেখেছে। ২০১৫ সালের ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে দক্ষিণ এশিয়ায় ৮ হাজার ৯৬২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ওই ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট তুষারধসে বন্যাকবলিত রাসুয়া জেলার লাংটাং এলাকার প্রায় ৩০০ বাসিন্দা চাপা পড়ে মারা যান। সাম্প্রতিক বন্যায় নেপালে এখন পর্যন্ত ৭৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে প্রায় ২ হাজার ৪৯৮ জন এখনো নিখোঁজ। তিব্বতের গিয়েরং কাউন্টিতেও নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৫৪৬ জন। তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

এবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিজয়কে দেখতে চায় টিভিকে

ভয়াবহ বন্যার স্রোত ধেয়ে আসতেই ঘণ্টা বাজালেন প্রধান শিক্ষক, বাঁচল ১৬৪৩ প্রাণ

আপডেট সময় ০৩:২৯:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

এবার ভয়াবহ বন্যার পানি স্কুলের দিকে ধেয়ে আসছেএমন সতর্কবার্তা পেয়েই এক মুহূর্তও দেরি করেননি প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি। ঘণ্টা বাজিয়ে শিক্ষকশিক্ষার্থীদের দ্রুত স্কুল থেকে বের করে দেন তিনি। তার সেই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তেই প্রাণে বেঁচে যায় ১ হাজার ৬৪৩ শিশু। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৯টা ২০ মিনিটে এক বন্ধুর কাছ থেকে ফোন পান নেপালের ত্রিশূলী উপত্যকার ত্রিভুবন ত্রিশূলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দাওয়াদি। তাকে জানানো হয়, পাহাড়ি নদীতে ভয়াবহ স্রোত নেমে আসছে এবং গ্রামের পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হচ্ছে। বন্ধু তাকে বলেছিলেন, ‘গ্রামটি আর নেই, নদী সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। আমাকে দৌড়াতে বলেছে।

তখন তিনতলা স্কুল ভবন ও এর আশপাশে ছিল ১ হাজার ৬৪৩ শিক্ষার্থী। হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় এরই মধ্যে পাহাড়ি নদীগুলো ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। ৪৭ বছর বয়সি ইংরেজির শিক্ষক দাওয়াদি প্রথমে ভেবেছিলেন, স্কুলটি নিরাপদ। কংক্রিটের তৈরি ভবনটি নদীর চেয়ে প্রায় ৬০ মিটার উঁচুতে ছিল। এমনকি গ্রামের সঙ্গে নদীর পূর্ব তীরের সংযোগকারী স্টিলের সেতুটিও স্কুলের সমান উচ্চতায় ছিল। কিন্তু এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ছুটে এসে জানান, পানি খুব দ্রুত বাড়ছে। দাওয়াদি সঙ্গে সঙ্গে স্কুলের ঘণ্টা বাজিয়ে শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষ খালি করার নির্দেশ দেন। তিনি স্কুলবাসের চালকদের ফোন করে বাস ঘুরিয়ে আনতে বলেন। তবে একজন চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। কিছুক্ষণ পর নিজের চোখেই দেখেন, সেই বাসটি সেতু পার হচ্ছে।

এরই মধ্যে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে, তারা বড় বিপদের মধ্যে পড়েছে। এক ছাত্রী আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মোটরসাইকেলে করে উঁচু এলাকায় নেওয়া হয়। অন্যরা দৌড়ে নিরাপদ স্থানের দিকে ছুটতে থাকে। তাদের পেছন পেছন ছুটছিলেন দাওয়াদিও। শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা একটি বোধিবৃক্ষের নিচে আশ্রয় নেয়। আর সেই সময় ভয়ংকর স্রোত তাদের স্কুল ভবনসহ আশপাশের স্থাপনা ভাসিয়ে নিয়ে যায়।  দাওয়াদির দ্রুত সিদ্ধান্তে ১ হাজার ৬৪৩ শিক্ষার্থী এবং শিক্ষককর্মীদের প্রায় সবাই প্রাণে বেঁচে যান। তবে স্কুলের সমাজবিজ্ঞান শিক্ষক ৩২ বছর বয়সি সান্তোষ পারিয়ার বাঁচতে পারেননি। নদীর পাশে ভাড়া বাসায় নাশতা রান্না করতে ফিরে গিয়ে তিনি স্রোতে ভেসে যান। স্কুলের পরিচ্ছন্নতাকর্মী সুলতান লামাও দরজা বন্ধ করতে ফিরে গিয়ে প্রাণ হারান।

স্থানীয় বাসিন্দারা দাওয়াদিকে নায়ক হিসেবে দেখছেন। কিন্তু নিজেকে নায়ক মনে করেন না তিনি। ধ্বংস হয়ে যাওয়া স্কুলের কাদামাখা ধ্বংসাবশেষের দিকে তাকিয়ে দাওয়াদি বলেন, ‘আমি আর কী করতে পারতাম?’ ধারণা করা হচ্ছে, তিব্বত সীমান্তের কাছে লাংটাং লিরুং পর্বতশৃঙ্গের একটি বিশাল অংশের বরফ ও পাথর ধসে প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার নিচে লেন্দে খোলা নদীর খাড়া গিরিখাতে পড়ে। এর ফলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগেরির ভূআকৃতিবিদ ড্যানিয়েল শুগারের হিসাব অনুযায়ী, ধসে পড়া বরফপাথরের অংশটি প্রায় ৫০ একর জায়গাজুড়ে ছিল, যা লন্ডনের গ্রিন পার্কের প্রায় সমান।

এই অঞ্চল এর আগেও ভয়াবহ দুর্যোগ দেখেছে। ২০১৫ সালের ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে দক্ষিণ এশিয়ায় ৮ হাজার ৯৬২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ওই ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট তুষারধসে বন্যাকবলিত রাসুয়া জেলার লাংটাং এলাকার প্রায় ৩০০ বাসিন্দা চাপা পড়ে মারা যান। সাম্প্রতিক বন্যায় নেপালে এখন পর্যন্ত ৭৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে প্রায় ২ হাজার ৪৯৮ জন এখনো নিখোঁজ। তিব্বতের গিয়েরং কাউন্টিতেও নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৫৪৬ জন। তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে