ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় ১০ অক্টোবর। কিন্তু এরপর এক দিনের জন্যও শান্তি বজায় থাকেনি। ইসরায়েল শতাধিকবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজায় একের পর এক হামলা চালিয়েছে। তারা হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে এসব হামলা চালায়। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার এক ইসরায়েলি সেনা হত্যার অভিযোগ তুলে নির্বিচার বোমা হামলায় ১০৪ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে দখলদার বাহিনী। এর পরও ইসরায়েল দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতি ‘পুনর্বহাল’ রয়েছে।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার ও বুধবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১০৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৪৬ শিশু, বেশ কয়েকজন নারী ও বৃদ্ধ রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাংবাদিক মোহাম্মদ আল-মুনিরাবিও আছেন, যিনি স্ত্রীসহ নুসেইরাতের একটি তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
হামাসের অভিযোগ, ইসরায়েল মিথ্যা অজুহাত তৈরি করে গাজায় আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। তারা জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ইসরায়েল ১২৫ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। গাজার আকাশে এখনও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ও গোয়েন্দা ড্রোনের টহল অব্যাহত রয়েছে, যা নতুন হামলার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৬৮ হাজার ৬৪৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক লাখ ৭০ হাজার ৬৫৫ জন আহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে গত মঙ্গলবার ও বুধবারের হামলাকে সবচেয়ে ভয়াবহ বলা হচ্ছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা রাজনৈতিক নির্দেশনায় যুদ্ধবিরতিতে ফিরেছে, তবে প্রয়োজনে আবারও হামলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। সর্বশেষ হামলায় গাজার অন্তত ৩০টি স্থাপনায় আঘাত হানা হয়, যেগুলো ইসরায়েল দাবি করেছে হামাসের সামরিক ঘাঁটি। এসব হামলায় একই পরিবারের ১৮ সদস্য নিহত হন, যাদের মধ্যে শিশু, বাবা-মা ও দাদা-দাদি ছিলেন।
অন্যদিকে, ইসরায়েল দাবি করেছে, হামাসের হস্তান্তর করা এক বন্দির মরদেহ আসল ব্যক্তির সঙ্গে মেলেনি। এ ঘটনায় ইসরায়েলি নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয়। এ কারণে হামাস তাদের হাতে থাকা আরেক বন্দির মরদেহ হস্তান্তর স্থগিত করেছে।
শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে হামাস ইতিমধ্যে ২০ জীবিত বন্দি ও ১৫ মৃত ইসরায়েলি বন্দির মরদেহ হস্তান্তর করেছে। তবে ইসরায়েলের দাবি, আরও ১৩ বন্দির মরদেহ এখনো তাদের হাতে রয়েছে।
মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের নিন্দা জানিয়ে ইসরায়েলকে প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। মিসরের সঙ্গে মিলে তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও সব পক্ষকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট তেরেসা রিবেরা সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন,
“আমাদের শান্তির সুযোগ দরকার — নতুন হামলার জন্য অজুহাত নয়।”

