ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিনি আমাদের হিমালয়-সম ব্যক্তিত্ব আকড়ে বেঁচে থাকার শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন: হাসনাত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৩৩:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫
  • ৩৯৯ বার পড়া হয়েছে

এবার বাবাকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। মঙ্গলবার ফেসবুক আইডিতে এ পোস্ট দেন। পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন— ‘উনি উনার সারাজীবন ধরে আমাদেরকে হিমালয়-সম ব্যক্তিত্ব,নিরাসক্ত পর্বতসম মহত্ত্বকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন।’

গত ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারিতে ফেসবুকে প্রকাশিত একটি পুরোনো স্ট্যাটাস নতুন করে শেয়ার দিয়ে ক্যাপশন লেখেন হাসনাত। সে সময়ের পোস্টে হাসনাত লিখেছিলেন—পাশে বসে থাকা ভদ্রলোক আমার বাবা।এটা বাবার সাথে আমার প্রথম এবং একমাত্র ছবি।

হাসনাত লেখেন—‘উনি খুব ইন্টারেস্টিং ক্যারেক্টার,দারুণ অদ্ভুত। সারাজীবন উনি হারিয়ে গিয়েছেন জীবনকে নিয়ে যেমন-খুশি তেমন খেলার অশান্ত ঢেউয়ের মহাকালের অতলে।তবে শেষ পর্যন্ত ডুবে যাননি, ভেসে থেকেছেন, ভাসিয়ে রেখেছেন,নিজেকে এবং আমাদের সবাইকে।

আমার বাবার সম্পর্কে যে জিনিসটা আমার সবচেয়ে ভালো লাগে তা হচ্ছে, এ পর্যন্ত কোনো তুচ্ছ কাজে বা কথায় তার কোনো আসক্তি দেখিনি কোনো ছোট কথা, জাগতিক বিষয়াদি, ব্যক্তিগত স্বার্থ ইত্যাদি।নিজের কষ্টের বেলায় উনি কাউকে কিছু বলবেন না, মুখ বুজে সমুদ্র গিলবেন।অপরকে ভালো রেখে নিজে ভালো থাকার এক দুর্দমনীয় প্রবৃত্তি তার মধ্যে রয়েছে।

তিনি লেখেন, আমার বাবার কাছ থেকে সারাদিন ঝগড়া করে যতটা না আদায় করা যায়, তারচেয়ে চারগুণ বেশি আদায় করা যায় দু’মিনিট নীরব থেকে।উনি উনার সারাজীবন ধরে আমাদেরকে হিমালয়-সম ব্যক্তিত্ব,নিরাসক্ত পর্বতসম মহত্ত্বকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন।

ওই পোস্টের শেষে লিখেছিলেন, আমাকে অনেকেই প্রশ্ন করেন আমার এই ঠোঁট কাটা স্বভাব কোথায় পেলাম। সেটাও আমার বাবার শিক্ষা। উনি প্রায়শই বলেন, জীবনে হারজিত থাকবে, উত্থান-পতন আসবে, রৌদ্রোজ্জ্বল দিনকেও কালো মেঘ ঢেকে দিবে, ঘোর অমানিশা নেমে আসবে।কিন্তু একমাত্র স্থায়ী থাকবে আদর্শ। যেকোনো প্রতিকুল-ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতিই আসুক না কেনো, তোমার ধারণ করা নীতি ও আদর্শের সঙ্গে তুমি কখনো আপস করবে না।এটাই হোক তোমার সংকল্প। দূর থেকে উনার পর্বতসম নিরাসক্ত ব্যক্তিত্বকে সবসময় স্পর্শ করতে চেয়েছি। দীর্ঘ ছয় বছর পর উনি দেশে এসেছেন।আগামী চার মাস উনার সান্নিধ্যে পাবো।এটা এ-বছরের প্রাপ্তি। আমার বাবার সার্বিক কল্যাণ হোক।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

তিনি আমাদের হিমালয়-সম ব্যক্তিত্ব আকড়ে বেঁচে থাকার শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন: হাসনাত

আপডেট সময় ০১:৩৩:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫

এবার বাবাকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। মঙ্গলবার ফেসবুক আইডিতে এ পোস্ট দেন। পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন— ‘উনি উনার সারাজীবন ধরে আমাদেরকে হিমালয়-সম ব্যক্তিত্ব,নিরাসক্ত পর্বতসম মহত্ত্বকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন।’

গত ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারিতে ফেসবুকে প্রকাশিত একটি পুরোনো স্ট্যাটাস নতুন করে শেয়ার দিয়ে ক্যাপশন লেখেন হাসনাত। সে সময়ের পোস্টে হাসনাত লিখেছিলেন—পাশে বসে থাকা ভদ্রলোক আমার বাবা।এটা বাবার সাথে আমার প্রথম এবং একমাত্র ছবি।

হাসনাত লেখেন—‘উনি খুব ইন্টারেস্টিং ক্যারেক্টার,দারুণ অদ্ভুত। সারাজীবন উনি হারিয়ে গিয়েছেন জীবনকে নিয়ে যেমন-খুশি তেমন খেলার অশান্ত ঢেউয়ের মহাকালের অতলে।তবে শেষ পর্যন্ত ডুবে যাননি, ভেসে থেকেছেন, ভাসিয়ে রেখেছেন,নিজেকে এবং আমাদের সবাইকে।

আমার বাবার সম্পর্কে যে জিনিসটা আমার সবচেয়ে ভালো লাগে তা হচ্ছে, এ পর্যন্ত কোনো তুচ্ছ কাজে বা কথায় তার কোনো আসক্তি দেখিনি কোনো ছোট কথা, জাগতিক বিষয়াদি, ব্যক্তিগত স্বার্থ ইত্যাদি।নিজের কষ্টের বেলায় উনি কাউকে কিছু বলবেন না, মুখ বুজে সমুদ্র গিলবেন।অপরকে ভালো রেখে নিজে ভালো থাকার এক দুর্দমনীয় প্রবৃত্তি তার মধ্যে রয়েছে।

তিনি লেখেন, আমার বাবার কাছ থেকে সারাদিন ঝগড়া করে যতটা না আদায় করা যায়, তারচেয়ে চারগুণ বেশি আদায় করা যায় দু’মিনিট নীরব থেকে।উনি উনার সারাজীবন ধরে আমাদেরকে হিমালয়-সম ব্যক্তিত্ব,নিরাসক্ত পর্বতসম মহত্ত্বকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন।

ওই পোস্টের শেষে লিখেছিলেন, আমাকে অনেকেই প্রশ্ন করেন আমার এই ঠোঁট কাটা স্বভাব কোথায় পেলাম। সেটাও আমার বাবার শিক্ষা। উনি প্রায়শই বলেন, জীবনে হারজিত থাকবে, উত্থান-পতন আসবে, রৌদ্রোজ্জ্বল দিনকেও কালো মেঘ ঢেকে দিবে, ঘোর অমানিশা নেমে আসবে।কিন্তু একমাত্র স্থায়ী থাকবে আদর্শ। যেকোনো প্রতিকুল-ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতিই আসুক না কেনো, তোমার ধারণ করা নীতি ও আদর্শের সঙ্গে তুমি কখনো আপস করবে না।এটাই হোক তোমার সংকল্প। দূর থেকে উনার পর্বতসম নিরাসক্ত ব্যক্তিত্বকে সবসময় স্পর্শ করতে চেয়েছি। দীর্ঘ ছয় বছর পর উনি দেশে এসেছেন।আগামী চার মাস উনার সান্নিধ্যে পাবো।এটা এ-বছরের প্রাপ্তি। আমার বাবার সার্বিক কল্যাণ হোক।