বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর যাদের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল, তারাই টাকার কাছে বিক্রি হয়ে গেছে। “ভেবেছিলাম তারা নেতৃত্ব দেবে, অথচ তারা বলছে এক স্বৈরাচার গেছে আরেক স্বৈরাচার এসেছে।”
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
দুদু বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে পালালেও রক্ষা পাবেন না। গণহত্যা, টাকা চুরি ও দুর্নীতির জন্য তাকে জনগণের আদালতে বিচার করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন হলে বিএনপি জয়লাভ করবে এবং প্রধানমন্ত্রী হবেন তারেক রহমান। ১৪ ও ১৮ সালের নির্বাচন দিনের ভোট রাতে হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ৭২ থেকে ৭৫ ছিল দেশের আরেকটি কালো সময়। তার অভিযোগ, শেখ মুজিব রক্ষীবাহিনী গঠন করে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করেছিলেন এবং দুর্ভিক্ষের সময় ১০ লাখ মানুষ মারা গেলেও তিনি সাহায্য করতে ব্যর্থ হন।
স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন জিয়াউর রহমান উল্লেখ করে দুদু বলেন, বিএনপি সবসময় গণমানুষের দল। বেগম খালেদা জিয়া কখনো মানুষ হত্যা করে ক্ষমতায় আসেননি, বরং জনগণের ভোটে সরকার গঠন করেছেন। আগামীতেও বিএনপি জনগণের ভোটেই ক্ষমতায় বসবে বলে তিনি দাবি করেন।
সকালে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুর করিম। এসময় বক্তব্য রাখেন রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুল খালেক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ অন্যরা।
দীর্ঘ ৮ বছর পর অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে কাউন্সিলরদের ভোটে নতুন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন মো. পয়গাম আলী। সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকায় আগেই জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র মির্জা ফয়সল আমিনকে সভাপতি ঘোষণা করা হয়।
সর্বশেষ জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৭ সালের ২৪ মে।

মোঃ মিনহাজ আলম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি 

























