ঢাকা , বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক ইঞ্চি মাটি নিয়েও কোনো চুক্তি সম্ভব নয়: ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান তালেবানের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৩৬:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৩৩৫ বার পড়া হয়েছে

এবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি বাগরাম ফেরত চাওয়ার দাবি তুলেছেন। তবে তালেবান প্রশাসন স্পষ্টভাবে তার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান স্টাফ ফাসিহুদ্দিন ফিতরাত স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কিছু মানুষ একটি রাজনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে ঘাঁটিটি ফেরত নিতে চায়। আফগানিস্তানের এক ইঞ্চি মাটি নিয়েও কোনো চুক্তি সম্ভব নয়।’

স্থানীয় সময় রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) তালেবান সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আফগানিস্তানের স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা সর্বোচ্চ গুরুত্বের বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ববর্তী চুক্তি মেনে চলতে হবে এবং বলপ্রয়োগ না করার অঙ্গীকারে অটল থাকতে হবে।’ তালেবান আরও বলেছে, ‘পূর্বের ব্যর্থ নীতির পুনরাবৃত্তির বদলে বাস্তববাদ ও যুক্তিনির্ভর নীতি গ্রহণই হবে সময়োপযোগী।’

বাগরাম হচ্ছে কাবুল শহরের ৫০ কিমি উত্তরে অবস্থিত একটি বিশাল বিমানঘাঁটি। এটি আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ ২০ বছরের যুদ্ধকালীন সময়ে প্রধান সামরিক কেন্দ্র ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর আফগানিস্তানে ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ শুরু করে এবং এই ঘাঁটি তাদের কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

এই ঘাঁটিতে বিনা অভিযোগে ও বিচারে বছরের পর বছর ধরে হাজার হাজার লোককে বন্দি করে রাখা হয় এবং অনেকের ওপর নির্যাতন চালানো হয়—এমন অভিযোগ রয়েছে। ২০২১ সালে, আফগান সরকার পতনের পর যুক্তরাষ্ট্রের হঠাৎ ও বিশৃঙ্খলভাবে আফগানিস্তান ত্যাগের মাধ্যমে তালেবান বাগরাম ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প একাধিকবার বাগরাম ঘাঁটি ফেরত চাওয়ার বিষয়ে কথা বলেছেন। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এখন আফগানিস্তানের সঙ্গে কথা বলছি। আমরা এটি ফেরত চাই, এবং খুব তাড়াতাড়ি চাই। ওরা যদি না দেয়, তাহলে কী করব সেটা ওরা ঠিকই জানতে পারবে।’ যুক্তরাজ্যে রাষ্ট্রীয় সফরের সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প প্রথম ঘোষণা দেন যে, তিনি এই ঘাঁটি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

এক ইঞ্চি মাটি নিয়েও কোনো চুক্তি সম্ভব নয়: ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান তালেবানের

আপডেট সময় ০২:৩৬:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

এবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি বাগরাম ফেরত চাওয়ার দাবি তুলেছেন। তবে তালেবান প্রশাসন স্পষ্টভাবে তার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান স্টাফ ফাসিহুদ্দিন ফিতরাত স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কিছু মানুষ একটি রাজনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে ঘাঁটিটি ফেরত নিতে চায়। আফগানিস্তানের এক ইঞ্চি মাটি নিয়েও কোনো চুক্তি সম্ভব নয়।’

স্থানীয় সময় রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) তালেবান সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আফগানিস্তানের স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা সর্বোচ্চ গুরুত্বের বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ববর্তী চুক্তি মেনে চলতে হবে এবং বলপ্রয়োগ না করার অঙ্গীকারে অটল থাকতে হবে।’ তালেবান আরও বলেছে, ‘পূর্বের ব্যর্থ নীতির পুনরাবৃত্তির বদলে বাস্তববাদ ও যুক্তিনির্ভর নীতি গ্রহণই হবে সময়োপযোগী।’

বাগরাম হচ্ছে কাবুল শহরের ৫০ কিমি উত্তরে অবস্থিত একটি বিশাল বিমানঘাঁটি। এটি আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ ২০ বছরের যুদ্ধকালীন সময়ে প্রধান সামরিক কেন্দ্র ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর আফগানিস্তানে ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ শুরু করে এবং এই ঘাঁটি তাদের কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

এই ঘাঁটিতে বিনা অভিযোগে ও বিচারে বছরের পর বছর ধরে হাজার হাজার লোককে বন্দি করে রাখা হয় এবং অনেকের ওপর নির্যাতন চালানো হয়—এমন অভিযোগ রয়েছে। ২০২১ সালে, আফগান সরকার পতনের পর যুক্তরাষ্ট্রের হঠাৎ ও বিশৃঙ্খলভাবে আফগানিস্তান ত্যাগের মাধ্যমে তালেবান বাগরাম ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প একাধিকবার বাগরাম ঘাঁটি ফেরত চাওয়ার বিষয়ে কথা বলেছেন। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এখন আফগানিস্তানের সঙ্গে কথা বলছি। আমরা এটি ফেরত চাই, এবং খুব তাড়াতাড়ি চাই। ওরা যদি না দেয়, তাহলে কী করব সেটা ওরা ঠিকই জানতে পারবে।’ যুক্তরাজ্যে রাষ্ট্রীয় সফরের সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প প্রথম ঘোষণা দেন যে, তিনি এই ঘাঁটি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছেন।