রাজধানীর মিরপুর রূপনগরে একটি গার্মেন্টস ও কেমিক্যাল গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। স্বজনরা দিশেহারা হয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কাছে ছুটছেন। কেউ হারিয়েছেন ছেলে, কেউ ভাই, কেউ ভাগনি।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা স্থানটি ঘিরে রেখেছেন উৎসুক জনতা ও নিখোঁজদের স্বজনরা। চারপাশে কান্না ও উৎকণ্ঠার ছাপ স্পষ্ট। ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ভবনটিকে ঘিরে রেখেছেন এবং কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। বিকেল ৫টার দিকে নতুন অ্যাম্বুলেন্স ভবনের ভেতরে প্রবেশ করলে স্বজনদের মধ্যে আরও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাস্থল থেকে জানা গেছে, ২০ বছর বয়সী রবিউল্লাহ এই গার্মেন্টস কারখানায় কাজ করতেন। তার কোনো খোঁজ মেলেনি। তার মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রশ্ন করছেন, “ছেলেটা বেঁচে আছে তো?” রবিউল্লার বড় ভাই হাবিবুল্লাহ জানান, ৩য় ও ৪র্থ তলায় প্রায় ১০০ জন শ্রমিক আটকা পড়েছিলেন। কেউ কেউ কাচ ভেঙে বের হতে পেরেছেন, তবে অধিকাংশ শ্রমিক বের হতে পারেননি।
নিপা নামে এক নারী জানিয়েছেন, তার বোনের ছেলে রবিন তিন তলায় কাজ করতেন। আগুন লাগার পর থেকে তার কোনো খোঁজ নেই। মো. শফিকুল ইসলামও তার ভাগনি মাহিরার জন্য উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “এখন পর্যন্ত ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কেমিক্যাল গোডাউনের বিস্ফোরণ থেকে নিঃসৃত বিষাক্ত গ্যাসে তাদের মৃত্যু হয়েছে। ভবনটি এখনও ঝুঁকিপূর্ণ, এবং ভেতরে আগুন জ্বলে আছে। কেমিক্যাল নিষ্ক্রিয় হওয়ার পর উদ্ধার অভিযান পুনরায় শুরু হবে।”
ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে সকলকে অন্তত ৩০০ গজ দূরে নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। আগুনের সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 

























