ঢাকা , বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গত ৫৩ বছরে দেশ ‘মাফিয়াতন্ত্রে’ পরিণত হয়েছে: সামান্তা শারমিন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:০৩:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৯৫ বার পড়া হয়েছে

এবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গত ৫৩ বছরে একটি ‘মাফিয়াতন্ত্র’ ‘গুণ্ডামীতন্ত্রে’ পরিণত হয়েছে। অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি জায়গায় সিন্ডিকেট ও দখলদারিত্বের প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় দেশে কার্যত একটি অর্থনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যেকটা জায়গায় অর্থনীতিতে মাফিয়াতন্ত্র, গুণ্ডামীতন্ত্র—এভাবেই বাংলাদেশ চলছে।’

গতকাল শনিবার (১৫ নভেম্বর) বিকালে ফার্মগেটের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল কনফারেন্স রুমে ‘ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারিস্টস অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সামান্তা শারমিন বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও রাষ্ট্রের আইন ও প্রশাসনিক কাঠামো এখনো ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনের আইনেই পরিচালিত হচ্ছে। ‘আমরা সবসময় বলি, আমরা যাতে ভুলে না যাই—আমরা একটি উপনিবেশবাদ বিরোধী লড়ায়ে এখনো আছি।’ তিনি উল্লেখ করেন, দেশের দৈনন্দিন জীবনের বহু আইনই ব্রিটিশ আমলে তৈরি, এবং স্বাধীন দেশের জনগণের জন্য নিজেদের মাটি থেকে উঠে আসা আইন এখনো তৈরি করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, ব্রিটিশ শাসকেরা যে আইন তৈরি করেছিল, তার মূল উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষকে শাসন ও দমন করা। আপনি স্বাধীন দেশে যদি ওই পুলিশ অ্যাক্ট দিয়ে চালান, ওই পেনাল কোড দিয়ে চালান, ওই লেবার ল’ দিয়ে চালান, ওই ল্যান্ড ল’ দিয়ে চালান—তাহলে জনগোষ্ঠীর জন্য আপনার নিজস্ব কোনো আইনই তৈরি হলো না।’ তিনি অভিযোগ করেন, অতীতের রাজনৈতিক দলগুলো একচ্ছত্র আধিপত্য, গুন্ডা-মাস্তান নিয়ন্ত্রণ, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে রাজনীতি পরিচালনা করেছে, ফলে প্রতিটি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপি দেশের জন্য একটি ভিন্ন রাজনৈতিক ভাবনা সামনে আনতে চায়। আমরা ক্ষমতার শব্দটা আর ব্যবহার করতে চাই না। আমরা রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিতে চাই। সামান্তা শারমিন বলেন, এনসিপি এমন একটি রাজনীতি চায় যেখানে একজন যোগ্য কৃষকও আইন প্রণয়নে ভূমিকা রাখতে পারেন। একজন কৃষকের কথা আমি বললে পুরোপুরি মানায় না। আমাদের দেশে যত কৃষিবিদ আছে, কৃষকের গণতান্ত্রিক জায়গা তৈরি করা—এই পথ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গত ৫৩ বছরে দেশ ‘মাফিয়াতন্ত্রে’ পরিণত হয়েছে: সামান্তা শারমিন

আপডেট সময় ১২:০৩:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

এবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গত ৫৩ বছরে একটি ‘মাফিয়াতন্ত্র’ ‘গুণ্ডামীতন্ত্রে’ পরিণত হয়েছে। অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি জায়গায় সিন্ডিকেট ও দখলদারিত্বের প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় দেশে কার্যত একটি অর্থনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যেকটা জায়গায় অর্থনীতিতে মাফিয়াতন্ত্র, গুণ্ডামীতন্ত্র—এভাবেই বাংলাদেশ চলছে।’

গতকাল শনিবার (১৫ নভেম্বর) বিকালে ফার্মগেটের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল কনফারেন্স রুমে ‘ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারিস্টস অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সামান্তা শারমিন বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও রাষ্ট্রের আইন ও প্রশাসনিক কাঠামো এখনো ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনের আইনেই পরিচালিত হচ্ছে। ‘আমরা সবসময় বলি, আমরা যাতে ভুলে না যাই—আমরা একটি উপনিবেশবাদ বিরোধী লড়ায়ে এখনো আছি।’ তিনি উল্লেখ করেন, দেশের দৈনন্দিন জীবনের বহু আইনই ব্রিটিশ আমলে তৈরি, এবং স্বাধীন দেশের জনগণের জন্য নিজেদের মাটি থেকে উঠে আসা আইন এখনো তৈরি করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, ব্রিটিশ শাসকেরা যে আইন তৈরি করেছিল, তার মূল উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষকে শাসন ও দমন করা। আপনি স্বাধীন দেশে যদি ওই পুলিশ অ্যাক্ট দিয়ে চালান, ওই পেনাল কোড দিয়ে চালান, ওই লেবার ল’ দিয়ে চালান, ওই ল্যান্ড ল’ দিয়ে চালান—তাহলে জনগোষ্ঠীর জন্য আপনার নিজস্ব কোনো আইনই তৈরি হলো না।’ তিনি অভিযোগ করেন, অতীতের রাজনৈতিক দলগুলো একচ্ছত্র আধিপত্য, গুন্ডা-মাস্তান নিয়ন্ত্রণ, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে রাজনীতি পরিচালনা করেছে, ফলে প্রতিটি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপি দেশের জন্য একটি ভিন্ন রাজনৈতিক ভাবনা সামনে আনতে চায়। আমরা ক্ষমতার শব্দটা আর ব্যবহার করতে চাই না। আমরা রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিতে চাই। সামান্তা শারমিন বলেন, এনসিপি এমন একটি রাজনীতি চায় যেখানে একজন যোগ্য কৃষকও আইন প্রণয়নে ভূমিকা রাখতে পারেন। একজন কৃষকের কথা আমি বললে পুরোপুরি মানায় না। আমাদের দেশে যত কৃষিবিদ আছে, কৃষকের গণতান্ত্রিক জায়গা তৈরি করা—এই পথ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।