ঢাকা , সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
গরুর মাংস রান্না করায় ভারতে বাড়ি থেকে তিন নারীকে গ্রেপ্তার বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই জাপান ম্যাচে নেইমার কতক্ষণ খেলবেন, জানালেন আনচেলত্তি এমপি হওয়ার পর মন ভারের পাশাপাশি শরীরেও নানা রোগ বেঁধেছে: ডা. মাহমুদা মিতু চলে গেলেন বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা চালুর খবরে কলকাতায় আনন্দের হাওয়া, ব্যবসায়ীদের মিষ্টি বিতরণ ৩ দিনের উত্তেজনার পর হামলা বন্ধে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, দোহায় বৈঠক মঙ্গলবার তিন দিনের উত্তেজনার পর থামছে সংঘাত, মঙ্গলবার মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ভারতীয় ভিসা আবেদন জমার শুরু, প্রথম দিনেই দীর্ঘ লাইন ‘ভিসা আমরা চিরদিনই দিতাম, বাংলাদেশকে আমাদেরই অঙ্গ মনে করি’

হাদি হত্যা: ফয়সালদের ব্যাংকে ১২৭ কোটি টাকা লেনদেন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৫৫:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৯৪৭ বার পড়া হয়েছে

জুলাই বিপ্লবের অগ্রনায়ক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটির বেশি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আবু তালেব স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পর থেকেই সিআইডি ছায়া তদন্ত শুরু করে। দ্রুত ঘটনাস্থলে ক্রাইমসিন ইউনিট মোতায়েন, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, ঘাতকের ব্যবহৃত গুলির খোসা উদ্ধার এবং বিভিন্ন আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের নানা দিক বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত ব্যাংক হিসাবের তথ্য পর্যালোচনা করে মানিলন্ডারিং অনুসন্ধান শুরু করেছে সিআইডি। এ সময় গ্রেপ্তার হওয়া সহযোগীদের কাছ থেকে উদ্ধার করা বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই বিশ্লেষণে দেখা যায়, অভিযুক্ত ও তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের একাধিক চেকবইয়ে উল্লেখিত অর্থের সমষ্টিগত পরিমাণ প্রায় ২১৮ কোটি টাকা, যদিও এসব লেনদেনের সবগুলো চূড়ান্ত হয়নি।
সিআইডির প্রাথমিক বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে, অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটির বেশি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে, যা মানিলন্ডারিং, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অর্থায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে।
এ বিষয়ে পৃথক মানিলন্ডারিং অনুসন্ধান শুরু করেছে সিআইডি। পাশাপাশি অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাবে থাকা প্রায় ৬৫ লাখ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার লক্ষ্যে আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব অর্থের মূল উৎস ও সরবরাহকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান ওরফে রাহুল এখনও গ্রেপ্তার না হলেও, মামলার আলামত গোপন ও তাকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে তার পরিবারের সদস্যসহ একাধিক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহে কোনো সংঘবদ্ধ শক্তিশালী নেটওয়ার্ক জড়িত ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে সিআইডির একাধিক টিম কাজ করছে।
মূল হোতা ফয়সাল করিম মাসুদকে গ্রেপ্তার এবং পুরো অপরাধচক্র উন্মোচনে অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সিআইডির তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গরুর মাংস রান্না করায় ভারতে বাড়ি থেকে তিন নারীকে গ্রেপ্তার

হাদি হত্যা: ফয়সালদের ব্যাংকে ১২৭ কোটি টাকা লেনদেন

আপডেট সময় ০৯:৫৫:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

জুলাই বিপ্লবের অগ্রনায়ক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটির বেশি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আবু তালেব স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পর থেকেই সিআইডি ছায়া তদন্ত শুরু করে। দ্রুত ঘটনাস্থলে ক্রাইমসিন ইউনিট মোতায়েন, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, ঘাতকের ব্যবহৃত গুলির খোসা উদ্ধার এবং বিভিন্ন আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের নানা দিক বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত ব্যাংক হিসাবের তথ্য পর্যালোচনা করে মানিলন্ডারিং অনুসন্ধান শুরু করেছে সিআইডি। এ সময় গ্রেপ্তার হওয়া সহযোগীদের কাছ থেকে উদ্ধার করা বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই বিশ্লেষণে দেখা যায়, অভিযুক্ত ও তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের একাধিক চেকবইয়ে উল্লেখিত অর্থের সমষ্টিগত পরিমাণ প্রায় ২১৮ কোটি টাকা, যদিও এসব লেনদেনের সবগুলো চূড়ান্ত হয়নি।
সিআইডির প্রাথমিক বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে, অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটির বেশি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে, যা মানিলন্ডারিং, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অর্থায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে।
এ বিষয়ে পৃথক মানিলন্ডারিং অনুসন্ধান শুরু করেছে সিআইডি। পাশাপাশি অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাবে থাকা প্রায় ৬৫ লাখ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার লক্ষ্যে আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব অর্থের মূল উৎস ও সরবরাহকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান ওরফে রাহুল এখনও গ্রেপ্তার না হলেও, মামলার আলামত গোপন ও তাকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে তার পরিবারের সদস্যসহ একাধিক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহে কোনো সংঘবদ্ধ শক্তিশালী নেটওয়ার্ক জড়িত ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে সিআইডির একাধিক টিম কাজ করছে।
মূল হোতা ফয়সাল করিম মাসুদকে গ্রেপ্তার এবং পুরো অপরাধচক্র উন্মোচনে অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সিআইডির তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।