ঢাকা , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আওয়ামী লীগ দেশকে ভারতের করদরাজ্যে পরিণত করেছিলো: রাশেদ খাঁন পাগলা মসজিদে ৩ ঘণ্টায় মিলল ১০ কোটি টাকা, এখনো চলছে গণনা বিয়েতে ১০০ জনের বেশি অতিথি হলে জনপ্রতি ১ হাজার টাকা ট্যাক্স! আয়োজকরা চায় আমরা বাদ পড়ি: ইরানের অধিনায়ক নিজ দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে সবার সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা কুমিল্লায় রেস্টুরেন্টে বাচ্চা রেখে চলে গেল ‘কাশ্মিরি’ পরিবার ইরানের মুহুর্মুহু হামলায় ঘাঁটি ছেড়ে পালিয়েছিল মার্কিন সেনারা বাজেট নিয়ে এবার ‘মানি না, মানবো না’ স্লোগান ওঠেনি : জয়নুল আবদীন চুক্তি হতে হবে সমতার ভিত্তিতে, সংসদকে পাশ কাটিয়ে কিছু নয়: ডা. শফিকুর রহমান রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে: মির্জা ফখরুল

শিশুছাত্রীকে যৌন হয়রানি, প্রধান শিক্ষক জামায়াত নেতা কারাগারে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৫২:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৮৬ বার পড়া হয়েছে

এবার লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে চতুর্থ শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানির মামলায় চার মাস পলাতক থাকার পর আবদুর রহিম নামের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় জামায়াত নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল রোববার (১১ জানুয়ারি) যৌন হয়রানির মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গেলে তাকে নারী ও শিশু আদালতের বিচারক সাদেকুর রহমান কারাগারে পাঠান।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম (৪০) উপজেলার চরমোহনা ইউপির চরমোহড়া গ্রামের মৃত সেকান্তর বেপারীর ছেলে এবং ১নং ওয়ার্ডের জামায়াতের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া তিনি রায়পুর ইউপির চালতাতুলি এলাকার বেগম রোকেয়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তিনি বিবাহিত এবং দ্বিতীয় স্ত্রীসহ দুই সন্তান রয়েছে। উল্লেখ্য, বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টার দিকে ১০নং রায়পুর ইউপি উত্তর রায়পুর গ্রামে প্রধান শিক্ষক তার বাসায় তারই বিদ্যালয়ে শিশুছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেন। পরে রাতেই ওই স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় যৌন নিপীড়নের মামলা করেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, ওইদিন বিকালে প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম তার কক্ষে ওই ছাত্রীসহ তার ভাইকে প্রাইভেট পড়াচ্ছিলেন। প্রাইভেটের মাঝখানে ভাইকে দোকান থেকে চিপস আনতে পাঠিয়ে ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেন। পরে ছাত্রীটি বাড়িতে গিয়ে কান্নাকাটি করে এবং মায়ের কাছে বিষয়টি খুলে বলে। ঘটনাটি তার মা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে বিচার চান এবং রাতে রায়পুর থানায় প্রধান শিক্ষককে আসামি করে মামলা করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাহির বলেন, প্রধান শিক্ষক তার প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করতেন বলে আমরা বেশ কয়েকমাস আগে অভিযোগ পাই। ঘটনার সত্যতা পেয়ে তাকে আটকের চেষ্টা করলে তিনি পালিয়ে যায়। প্রধান শিক্ষক এর আগে আরও কয়েকবার ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করেন। এসব ঘটনার প্রমাণ হিসেবে মোবাইল ফোনেও এভিডেন্স আছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে আমাদের পূর্বের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। আমি স্থানীয় কয়েকজন লোকের ষড়যন্ত্রের শিকার।’ আবদুর রহিমের স্ত্রী দাবি করে বলেন, ‘আমার স্বামী এ রকম নয়। ৫ বছর ধরে আমি সংসার করছি। তার মধ্যে এরকম খারাপ কিছু দেখিনি।’ এদিকে রায়পুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল মান্নান বলেন, শোনেছি অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম আদালতে হাজিরা দিতে গেলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠান। ঘটনার পরের রাতে আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে শিশু ছাত্রীর মা থানায় মামলা করেন। চার্জশিটও দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগ দেশকে ভারতের করদরাজ্যে পরিণত করেছিলো: রাশেদ খাঁন

শিশুছাত্রীকে যৌন হয়রানি, প্রধান শিক্ষক জামায়াত নেতা কারাগারে

আপডেট সময় ০২:৫২:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

এবার লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে চতুর্থ শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানির মামলায় চার মাস পলাতক থাকার পর আবদুর রহিম নামের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় জামায়াত নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল রোববার (১১ জানুয়ারি) যৌন হয়রানির মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গেলে তাকে নারী ও শিশু আদালতের বিচারক সাদেকুর রহমান কারাগারে পাঠান।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম (৪০) উপজেলার চরমোহনা ইউপির চরমোহড়া গ্রামের মৃত সেকান্তর বেপারীর ছেলে এবং ১নং ওয়ার্ডের জামায়াতের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া তিনি রায়পুর ইউপির চালতাতুলি এলাকার বেগম রোকেয়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তিনি বিবাহিত এবং দ্বিতীয় স্ত্রীসহ দুই সন্তান রয়েছে। উল্লেখ্য, বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টার দিকে ১০নং রায়পুর ইউপি উত্তর রায়পুর গ্রামে প্রধান শিক্ষক তার বাসায় তারই বিদ্যালয়ে শিশুছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেন। পরে রাতেই ওই স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় যৌন নিপীড়নের মামলা করেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, ওইদিন বিকালে প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম তার কক্ষে ওই ছাত্রীসহ তার ভাইকে প্রাইভেট পড়াচ্ছিলেন। প্রাইভেটের মাঝখানে ভাইকে দোকান থেকে চিপস আনতে পাঠিয়ে ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেন। পরে ছাত্রীটি বাড়িতে গিয়ে কান্নাকাটি করে এবং মায়ের কাছে বিষয়টি খুলে বলে। ঘটনাটি তার মা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে বিচার চান এবং রাতে রায়পুর থানায় প্রধান শিক্ষককে আসামি করে মামলা করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাহির বলেন, প্রধান শিক্ষক তার প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করতেন বলে আমরা বেশ কয়েকমাস আগে অভিযোগ পাই। ঘটনার সত্যতা পেয়ে তাকে আটকের চেষ্টা করলে তিনি পালিয়ে যায়। প্রধান শিক্ষক এর আগে আরও কয়েকবার ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করেন। এসব ঘটনার প্রমাণ হিসেবে মোবাইল ফোনেও এভিডেন্স আছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে আমাদের পূর্বের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। আমি স্থানীয় কয়েকজন লোকের ষড়যন্ত্রের শিকার।’ আবদুর রহিমের স্ত্রী দাবি করে বলেন, ‘আমার স্বামী এ রকম নয়। ৫ বছর ধরে আমি সংসার করছি। তার মধ্যে এরকম খারাপ কিছু দেখিনি।’ এদিকে রায়পুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল মান্নান বলেন, শোনেছি অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম আদালতে হাজিরা দিতে গেলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠান। ঘটনার পরের রাতে আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে শিশু ছাত্রীর মা থানায় মামলা করেন। চার্জশিটও দেওয়া হয়েছে।