ঢাকা , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বেনজীরকে ফেরাতে ইউএইর জবাবের অপেক্ষায় বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিকাশ দোকানে ডাকাতি: প্রধান আসামি মামুন গ্রেফতার মেসির প্রশংসায় বিনয়ী মেদিনা, বললেন—‘অধিনায়কের জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত’ অপারেশন সিঁদুর: নিহত সেনাদের তালিকা প্রকাশ ভারতের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ-মিয়ানমার আলোচনায় পাশে থাকবে চীন শাহজালাল (র.) মাজারের দানের অর্থে স্বচ্ছতা আনতে কমিটি, এক মাসের মধ্যে সুপারিশ সরকারি হাসপাতালে সন্তান জন্ম দিলেই মিলবে এক গ্রাম সোনার আংটি, ব্যতিক্রমী উদ্যোগে আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বিজয় হরমুজ প্রণালি থেকে বছরে ৪০ বিলিয়ন ডলার আয় করবে ইরান নরসিংদীতে কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে ফেলে হত্যা, ভাইরাল ভিডিওতে তোলপাড় মাদক নির্মূলে ব্যবস্থা না নিলে এমপি পদ ছাড়ব, গোলাবাড়িতে ১০ হাজার মানুষ নিয়ে লংমার্চের হুঁশিয়ারি

নিজেকে বিএনপির ‘ত্যাগী কর্মী’ দাবি করায় সভায় হট্টগোল, ফেরার পথে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৫১:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১১০ বার পড়া হয়েছে

এবার নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় নির্বাচনী বৈঠকে ত্যাগী কর্মী বলায় হট্টগোল বাধা পর ফেরার পথে মিজানুর রহমান রনি ওরফে কানা মিজান (৩৫) নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের কালিরহাট বাজার সংলগ্ন কাজী বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও অস্ত্র মামলাসহ অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহত মিজানুর রহমান কবিরহাট পৌরসভার জৈনদপুর এলাকার মো. শহীদের ছেলে এবং দুই সন্তানের জনক ছিলেন।

এদিকে স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় কালিরহাট বাজারে ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির একটি নির্বাচনী বৈঠক চলছিল। সেখানে উপস্থিত হয়ে মিজান নিজেকে দলের ‘ত্যাগী কর্মী’ হিসেবে দাবি করেন। এ নিয়ে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার তীব্র বাগবিতণ্ডা ও হট্টগোল বাধে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপস্থিত লোকজন তাকে ধাওয়া দিলে তিনি স্থান ত্যাগ করেন।

বৈঠকস্থল থেকে চলে যাওয়ার পর কালিরহাট বাজারের উত্তরে কাজী বাড়ির সামনে পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে গতিরোধ করে। সেখানে লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে তার মুখ ও মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করা হলে ঘটনাস্থলেই মিজানের মৃত্যু হয়। পরে তার মরদেহ সড়কে ফেলে রেখে চলে যায় হামলাকারীরা। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ঘটনার পর মিজানকে ‘ডাকাত’ আখ্যা দিয়ে একদল যুবক বাজারে মিষ্টি বিতরণ করে। এটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

খবর পেয়ে কবিরহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের মরদেহের পাশ থেকে একটি রক্তমাখা লাঠি ও লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া নিহতের পকেট থেকে একটি খেলনা পিস্তল ও একটি টিপ ছুরি পাওয়া গেছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে বলেন, ‘মিজানকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে মুখ থেঁতলে হত্যা করা হয়েছে। দেশে আইন আছে, এভাবে কাউকে মেরে ফেলা যায় না। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

এদিকে নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি হারুনুর রশীদ হারুন বলেন, ‘আমরা আমাদের অফিসে বসে নির্বাচনী কথাবার্তা বলছিলাম। সেখানে মিজান এলে কথাকাটাকাটি হয়। পরে সেখান থেকে সে চলে যায়। পরে শুনি কে বা কাহারা তাকে হত্যা করে মরদেহ রাস্তার ফেলে যায়। মিষ্টি বিতরণের বিষয়টি আমার জানা নেই।’ এদিকে কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজামুল উদ্দিন ভুঁইয়া জানান, ‘গণপিটুনিতে মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বেনজীরকে ফেরাতে ইউএইর জবাবের অপেক্ষায় বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজেকে বিএনপির ‘ত্যাগী কর্মী’ দাবি করায় সভায় হট্টগোল, ফেরার পথে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা

আপডেট সময় ১১:৫১:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

এবার নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় নির্বাচনী বৈঠকে ত্যাগী কর্মী বলায় হট্টগোল বাধা পর ফেরার পথে মিজানুর রহমান রনি ওরফে কানা মিজান (৩৫) নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের কালিরহাট বাজার সংলগ্ন কাজী বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও অস্ত্র মামলাসহ অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহত মিজানুর রহমান কবিরহাট পৌরসভার জৈনদপুর এলাকার মো. শহীদের ছেলে এবং দুই সন্তানের জনক ছিলেন।

এদিকে স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় কালিরহাট বাজারে ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির একটি নির্বাচনী বৈঠক চলছিল। সেখানে উপস্থিত হয়ে মিজান নিজেকে দলের ‘ত্যাগী কর্মী’ হিসেবে দাবি করেন। এ নিয়ে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার তীব্র বাগবিতণ্ডা ও হট্টগোল বাধে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপস্থিত লোকজন তাকে ধাওয়া দিলে তিনি স্থান ত্যাগ করেন।

বৈঠকস্থল থেকে চলে যাওয়ার পর কালিরহাট বাজারের উত্তরে কাজী বাড়ির সামনে পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে গতিরোধ করে। সেখানে লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে তার মুখ ও মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করা হলে ঘটনাস্থলেই মিজানের মৃত্যু হয়। পরে তার মরদেহ সড়কে ফেলে রেখে চলে যায় হামলাকারীরা। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ঘটনার পর মিজানকে ‘ডাকাত’ আখ্যা দিয়ে একদল যুবক বাজারে মিষ্টি বিতরণ করে। এটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

খবর পেয়ে কবিরহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের মরদেহের পাশ থেকে একটি রক্তমাখা লাঠি ও লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া নিহতের পকেট থেকে একটি খেলনা পিস্তল ও একটি টিপ ছুরি পাওয়া গেছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে বলেন, ‘মিজানকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে মুখ থেঁতলে হত্যা করা হয়েছে। দেশে আইন আছে, এভাবে কাউকে মেরে ফেলা যায় না। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

এদিকে নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি হারুনুর রশীদ হারুন বলেন, ‘আমরা আমাদের অফিসে বসে নির্বাচনী কথাবার্তা বলছিলাম। সেখানে মিজান এলে কথাকাটাকাটি হয়। পরে সেখান থেকে সে চলে যায়। পরে শুনি কে বা কাহারা তাকে হত্যা করে মরদেহ রাস্তার ফেলে যায়। মিষ্টি বিতরণের বিষয়টি আমার জানা নেই।’ এদিকে কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজামুল উদ্দিন ভুঁইয়া জানান, ‘গণপিটুনিতে মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’