ঢাকা , সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বড় সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী জুলাই সনদের আলোচনাকে কেন্দ্র করে সংসদে হট্টগোল মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি করা হবে: প্রধানমন্ত্রী হত্যা মামলায় একই পরিবারের ৬ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও যাবজ্জীবন দেশের সব বিমানবন্দরে বাড়তি সতর্কতা জারি মাদুরোর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে চান ভেনেজুয়েলার সাবেক গোয়েন্দা প্রধান ‘মুরগি’ বিশ্ব জ্বালানি বাজার আমেরিকা নয়, ইরানের হাতেই আছে: গালিবাফ কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যার রহস্য উদঘাটন, যেভাবে গ্রেপ্তার হলো ঘাতকরা পঞ্চাশ বছর পর যশোরে পাশাপাশি বাবা-ছেলের নামফলক মার্কিন নৌ-অবরোধ তোয়াক্কা না করে ৪৬ লাখ ব্যারেল তেল বাইরে পাঠালো ইরান: ডন

চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে সরানো হচ্ছে তাজুল ইসলামকে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৮১ বার পড়া হয়েছে

এবার পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করছিলেন মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। প্রায় দেড় বছর এ পদে রয়েছেন তিনি। তবে তাকে সরিয়ে নতুন কাউকে নিয়োগের কথা ভাবছে সরকার। এমন একটি গুঞ্জন ছড়াতেই আইনাঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে চলছে জোর আলোচনা। তাজুল ইসলামকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রসিকিউটর। এরই মধ্যে চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে আলোচনায় এসেছে আইনজীবী আমিনুল ইসলামের নাম। তিনি বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলায় গঠিত আইনজীবী দলের সদস্য ছিলেন। যে মামলায় দণ্ডিত হয়েছিলেন তিনবারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে বিএনপির সরকার গঠনের পর চিফ প্রসিকিউটরসহ প্রসিকিউশন টিমের পরিবর্তন বা রদবদল নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। কিন্তু রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে আরও জোরালো হয় এ আলোচনা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা এই বিদেশি সাংবাদিক লেখেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নতুন একজনকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে সরিয়ে এ পদে আইনজীবী আমিনুল ইসলামকে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে তাজুল ইসলামকে প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতন ঘটে শেখ হাসিনার সরকারের। এরপর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নতুন করে ঢেলে সাজানো হয়। একই বছরের সেপ্টেম্বরের শুরুতে তাজুল ইসলামকে অ্যাটর্নি জেনারেলের পদমর্যাদায় চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তাজুল ইসলামের অধীনে চব্বিশের জুলাইআগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ২৪টি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন। বর্তমানে এসবের বিচারকাজ চলছে ট্রাইব্যুনাল১ ও ২এ। রায় ঘোষণা হয়েছে তিনটির। ঘোষিত রায়ে দণ্ডিত ২৬ জনের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ পুলিশের প্রধানরাও রয়েছেন। রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যাসহ দুটি মামলা। এরই মধ্যে আগামী ৪ মার্চ ঘোষণা হবে রামপুরায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার রায়।

এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুমনির্যাতনের মামলারও বিচার চলছে ট্রাইব্যুনালে। বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানও। আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট বহু এমপিমন্ত্রীও এখন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি। সম্প্রতি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তাজুল বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ আগের গতিতেই চলবে। সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বার্তা না এলেও আমাদের বলা হয়েছে আইন নিজস্ব গতিতে চলবে। বিশেষ করে আইনমন্ত্রী বলেছেন যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের যে কার্যক্রম সেটা স্বাভাবিক গতিতেই চলমান থাকবে। সুতরাং আমরা আশা করছি বিচার বিচারের মতোই চলবে। সরকার আমাদের সুনির্দিষ্টভাবে কিছু না বললেও চলমান রাখার ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বড় সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে সরানো হচ্ছে তাজুল ইসলামকে

আপডেট সময় ১১:০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এবার পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করছিলেন মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। প্রায় দেড় বছর এ পদে রয়েছেন তিনি। তবে তাকে সরিয়ে নতুন কাউকে নিয়োগের কথা ভাবছে সরকার। এমন একটি গুঞ্জন ছড়াতেই আইনাঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে চলছে জোর আলোচনা। তাজুল ইসলামকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রসিকিউটর। এরই মধ্যে চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে আলোচনায় এসেছে আইনজীবী আমিনুল ইসলামের নাম। তিনি বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলায় গঠিত আইনজীবী দলের সদস্য ছিলেন। যে মামলায় দণ্ডিত হয়েছিলেন তিনবারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে বিএনপির সরকার গঠনের পর চিফ প্রসিকিউটরসহ প্রসিকিউশন টিমের পরিবর্তন বা রদবদল নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। কিন্তু রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে আরও জোরালো হয় এ আলোচনা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা এই বিদেশি সাংবাদিক লেখেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নতুন একজনকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে সরিয়ে এ পদে আইনজীবী আমিনুল ইসলামকে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে তাজুল ইসলামকে প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতন ঘটে শেখ হাসিনার সরকারের। এরপর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নতুন করে ঢেলে সাজানো হয়। একই বছরের সেপ্টেম্বরের শুরুতে তাজুল ইসলামকে অ্যাটর্নি জেনারেলের পদমর্যাদায় চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তাজুল ইসলামের অধীনে চব্বিশের জুলাইআগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ২৪টি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন। বর্তমানে এসবের বিচারকাজ চলছে ট্রাইব্যুনাল১ ও ২এ। রায় ঘোষণা হয়েছে তিনটির। ঘোষিত রায়ে দণ্ডিত ২৬ জনের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ পুলিশের প্রধানরাও রয়েছেন। রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যাসহ দুটি মামলা। এরই মধ্যে আগামী ৪ মার্চ ঘোষণা হবে রামপুরায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার রায়।

এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুমনির্যাতনের মামলারও বিচার চলছে ট্রাইব্যুনালে। বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানও। আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট বহু এমপিমন্ত্রীও এখন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি। সম্প্রতি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তাজুল বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ আগের গতিতেই চলবে। সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বার্তা না এলেও আমাদের বলা হয়েছে আইন নিজস্ব গতিতে চলবে। বিশেষ করে আইনমন্ত্রী বলেছেন যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের যে কার্যক্রম সেটা স্বাভাবিক গতিতেই চলমান থাকবে। সুতরাং আমরা আশা করছি বিচার বিচারের মতোই চলবে। সরকার আমাদের সুনির্দিষ্টভাবে কিছু না বললেও চলমান রাখার ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছেন।