ঢাকা , রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা, সারা দেশে সতর্কতা জোরদার নতুন করে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-যুক্তরাজ্য, কলকাঠি নাড়ছে ওয়াশিংটন বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১ নোয়াখালীতে ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ, প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার ১৩ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ, পূজা চেরির বাবা গ্রেপ্তার উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর স্মার্টফোনের ন্যূনতম দাম ২৫০০ টাকার মধ্যে আনতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ‘স্থায়ী শান্তি’ আসবে না: রাশিয়া হাজার চেষ্টা করলেও আ.লীগ হতে পারবেন না: বিএনপিকে জামায়াত আমির আজহারী ও জারার ছবি ব্যবহার করে যৌন উত্তেজক ওষুধের বিজ্ঞাপন, গ্রেপ্তার ১০

চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে ব্যবসা বন্ধ করে চলে যাব

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:২৩:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৩৩ বার পড়া হয়েছে

এবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেছেন অসহনীয় চাঁদাবাজি ব্যবসাবাণিজ্যে আস্থাহীনতা তৈরি করছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে যে হারে চাঁদা দিতে হতো, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে ব্যবসায়ীদের একই হারে চাঁদা দিতে হচ্ছে। ক্ষেত্রবিশেষে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি দিতে হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারেনি, এমনকি সরকারি দপ্তরে এক দিনের জন্যও দুর্নীতি কমেনি। চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে আমরা ব্যবসা বন্ধ করে চলে যাব। গতকাল সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআইয়ের নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথাগুলো বলেন তিনি।বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় নবগঠিত সরকারের নিকট প্রত্যাশাশীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহসভাপতি সালিম সোলায়মান প্রমুখ। ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, নতুন সরকার এমন একসময় ক্ষমতায় এসেছে, যখন অর্থনীতি অনেকগুলো চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি সর্বনিম্ন, বিনিয়োগ হ্রাস পেয়েছে, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি তলানি ঠেকেছে। এসব সমস্যার মূলে রয়েছে ব্যাংকিং খাতের সংকট, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট এবং অস্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এসব সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিলেও তার সামান্যতম বাস্তবায়ন হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা আরো ঘনীভূত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, চাঁদাবাজি এবং তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন প্রতিনিয়ত ব্যাহত হচ্ছে। এখন কারখানায় চাঁদা দেওয়া আবশ্যক হয়ে পড়েছে এবং আওয়ামী দুঃশাসন পার হলেও তা বন্ধ হয়নি। স্থানীয় শিল্পকারখানাগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সবার আগে উন্নতি করতে হবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের লোকজন, পুলিশ, রাজস্ব কর্মকর্তাসহ অনেকেই চাঁদাবাজি করেন। কারা চাঁদাবাজি করছে, সেটা সরকারকে বের করতে হবে।

চাঁদাবাজরা এসে বলে, তারা সরকারি দলের লোক। যখনই যে সরকার আসে, তখনই বলে আমরা সরকারি দলের লোক; আমাদের চাঁদা দিতে হবে। আমাদের এই অনুষ্ঠান আছে, পাড়ার এই চাঁদা দিতে হবে। চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে আমরা ব্যবসা বন্ধ করে চলে যাব। তিনি আরো বলেন, কারখানায় ঢুকতেও চাঁদা দিতে হয়। অফিস ও রাস্তায় চাঁদা দিতে হয়। জনগণ ও ব্যবসায়ী মহল চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধে আমরা নতুন সরকারের কাছ থেকে কড়া বার্তা প্রত্যাশা করছি।
এলডিসি উত্তরণ পেছানোর চেষ্টা করায় সরকারকে সাধুবাদ জানিয়ে তাসকীন আহমেদ বলেন, বেসরকারি খাত থেকে একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও একটি অপ্রকাশিত চুক্তির (এনডিএ) নামে অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ববিরোধী একটি চুক্তি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি তৈরি পোশাক পণ্যের ওপর রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ মওকুফে সম্মত হলেও এটা এমন নয় যে সম্পূর্ণ শুল্ক মওকুফ করে দিয়েছে। ফলে রপ্তানি বাণিজ্যে প্রত্যাশিত সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে এখনো সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। মার্কিন সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিটি এমনভাবে পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন, যা উভয় দেশের জন্য সমানভাবে লাভজনক হয়।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, অপরিবর্তিত নীতি সুদহারের (পলিসি রেট) কারণে ব্যবসায়ীদের ১৬১৭ শতাংশ হারে ব্যাংকঋণ নিতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে খেলাপি ঋণের উচ্চহার এবং ঋণ শ্রেণীকরণের সীমা ৯ মাস থেকে ৩ মাসে নামিয়ে আনার কারণে আর্থিক খাতে অনাকাঙ্ক্ষিত অস্থিরতা তৈরি করেছে। তা ছাড়া শিল্পকারখানায় চাহিদামাফিক গ্যাস সরবরাহ না থাকার পাশাপাশি গ্যাসের দাম বাড়ানোয় উৎপাদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বেসরকারি খাতের পুনরুজ্জীবনে ৪টি পরামর্শ দেওয়া হয়। এগুলো হলোআইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কার্যকর উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি চাঁদাবাজি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা। সরকারি খাতে দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা। যারা ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি নন, তাদের প্রয়োজনীয় ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দিয়ে ব্যাবসায়িক কর্মকাণ্ডে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং ঋণের সুদের হারকে যুক্তিসংগত ও সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা, সারা দেশে সতর্কতা জোরদার

চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে ব্যবসা বন্ধ করে চলে যাব

আপডেট সময় ০১:২৩:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেছেন অসহনীয় চাঁদাবাজি ব্যবসাবাণিজ্যে আস্থাহীনতা তৈরি করছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে যে হারে চাঁদা দিতে হতো, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে ব্যবসায়ীদের একই হারে চাঁদা দিতে হচ্ছে। ক্ষেত্রবিশেষে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি দিতে হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারেনি, এমনকি সরকারি দপ্তরে এক দিনের জন্যও দুর্নীতি কমেনি। চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে আমরা ব্যবসা বন্ধ করে চলে যাব। গতকাল সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআইয়ের নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথাগুলো বলেন তিনি।বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় নবগঠিত সরকারের নিকট প্রত্যাশাশীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহসভাপতি সালিম সোলায়মান প্রমুখ। ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, নতুন সরকার এমন একসময় ক্ষমতায় এসেছে, যখন অর্থনীতি অনেকগুলো চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি সর্বনিম্ন, বিনিয়োগ হ্রাস পেয়েছে, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি তলানি ঠেকেছে। এসব সমস্যার মূলে রয়েছে ব্যাংকিং খাতের সংকট, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট এবং অস্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এসব সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিলেও তার সামান্যতম বাস্তবায়ন হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা আরো ঘনীভূত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, চাঁদাবাজি এবং তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন প্রতিনিয়ত ব্যাহত হচ্ছে। এখন কারখানায় চাঁদা দেওয়া আবশ্যক হয়ে পড়েছে এবং আওয়ামী দুঃশাসন পার হলেও তা বন্ধ হয়নি। স্থানীয় শিল্পকারখানাগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সবার আগে উন্নতি করতে হবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের লোকজন, পুলিশ, রাজস্ব কর্মকর্তাসহ অনেকেই চাঁদাবাজি করেন। কারা চাঁদাবাজি করছে, সেটা সরকারকে বের করতে হবে।

চাঁদাবাজরা এসে বলে, তারা সরকারি দলের লোক। যখনই যে সরকার আসে, তখনই বলে আমরা সরকারি দলের লোক; আমাদের চাঁদা দিতে হবে। আমাদের এই অনুষ্ঠান আছে, পাড়ার এই চাঁদা দিতে হবে। চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে আমরা ব্যবসা বন্ধ করে চলে যাব। তিনি আরো বলেন, কারখানায় ঢুকতেও চাঁদা দিতে হয়। অফিস ও রাস্তায় চাঁদা দিতে হয়। জনগণ ও ব্যবসায়ী মহল চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধে আমরা নতুন সরকারের কাছ থেকে কড়া বার্তা প্রত্যাশা করছি।
এলডিসি উত্তরণ পেছানোর চেষ্টা করায় সরকারকে সাধুবাদ জানিয়ে তাসকীন আহমেদ বলেন, বেসরকারি খাত থেকে একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও একটি অপ্রকাশিত চুক্তির (এনডিএ) নামে অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ববিরোধী একটি চুক্তি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি তৈরি পোশাক পণ্যের ওপর রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ মওকুফে সম্মত হলেও এটা এমন নয় যে সম্পূর্ণ শুল্ক মওকুফ করে দিয়েছে। ফলে রপ্তানি বাণিজ্যে প্রত্যাশিত সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে এখনো সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। মার্কিন সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিটি এমনভাবে পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন, যা উভয় দেশের জন্য সমানভাবে লাভজনক হয়।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, অপরিবর্তিত নীতি সুদহারের (পলিসি রেট) কারণে ব্যবসায়ীদের ১৬১৭ শতাংশ হারে ব্যাংকঋণ নিতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে খেলাপি ঋণের উচ্চহার এবং ঋণ শ্রেণীকরণের সীমা ৯ মাস থেকে ৩ মাসে নামিয়ে আনার কারণে আর্থিক খাতে অনাকাঙ্ক্ষিত অস্থিরতা তৈরি করেছে। তা ছাড়া শিল্পকারখানায় চাহিদামাফিক গ্যাস সরবরাহ না থাকার পাশাপাশি গ্যাসের দাম বাড়ানোয় উৎপাদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বেসরকারি খাতের পুনরুজ্জীবনে ৪টি পরামর্শ দেওয়া হয়। এগুলো হলোআইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কার্যকর উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি চাঁদাবাজি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা। সরকারি খাতে দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা। যারা ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি নন, তাদের প্রয়োজনীয় ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দিয়ে ব্যাবসায়িক কর্মকাণ্ডে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং ঋণের সুদের হারকে যুক্তিসংগত ও সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা।