গত কাতার বিশ্বকাপের সেই ক্ষত এখনো শুকায়নি জাপানি ফুটবল ভক্তদের মনে। ২০২২ সালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলর টাইব্রেকারে তিন–তিনটি পেনাল্টি মিস করে চোখের জলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছিল ব্লু সামুরাইরা। সেবার কোন খেলোয়াড় আগে শট নেবেন, তা নির্ধারণের দায়িত্ব খেলোয়াড়দের নিজেদের ওপরই ছেড়ে দিয়েছিলেন কোচ হাজিমে মোরিয়াসু। কিন্তু রাত ১১টায় হিউস্টন স্টেডিয়ামে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিরুদ্ধে মহাগুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচের আগে সেই ভুল আর দ্বিতীয়বার করতে চান না জাপানি বস। মোরিয়াসু পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ালে এবার আর প্লেয়ারদের স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসার অপেক্ষায় থাকবেন না, বরং নিজেই নির্ধারণ করবেন পেনাল্টি শুটারদের তালিকা!
ম্যাচের আগের দিন রোববার সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে মোরিয়াসু বলেন, এবার যদি ম্যাচ পেনাল্টি শুটআউটে গড়ায়, তবে গতবারের মতো খেলোয়াড়দের ওপর দায়িত্ব ছেড়ে না দিয়ে আমি নিজেই ঠিক করব কে কোন অর্ডারে কিক নেবেন। খেলোয়াড়দের মাথা থেকে এই বিশাল মানসিক চাপটি আমি নিজের কাঁধে তুলে নিতে চাই। কাতার ট্র্যাজেডি থেকে শিক্ষা নিয়ে জাপানি কোচ যে এবার কতটা কঠোর ও সুপরিকল্পিত, তাঁর এই মন্তব্যেই তা স্পষ্ট।
ব্রাজিলকে বধ করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটার মিশনের আগেই অবশ্য বড় এক ধাক্কা খেয়েছে জাপান দল। গ্রুপ পর্বে ইনজুরিতে পড়া দলের প্রধান তারকা ও রিয়াল সোসিয়েদাদ উইঙ্গার তাকেফুসা কুবো আজকের হাইভোল্টেজ ম্যাচে সম্পূর্ণ মাঠের বাইরে থাকছেন। কুবোর চোটের আপডেট দিয়ে কোচ বলেন, ও এখনো দলের সাথে মূল অনুশীলনে অংশ নিতে পারছে না, আলাদাভাবে নিজের রিহ্যাব করছে। ব্রাজিলের বিপক্ষে ও খেলছে না। আমরা চাই ও দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুক এবং ও নিজেও মাঠে নামার জন্য ছটফট করছে।
গত চার বছরে জার্মানি, স্পেন এবং ইংল্যান্ডের মতো বিশ্বসেরা দলগুলোকে হারিয়ে বিশ্বফুটবলে নিজেদের এক নতুন পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে জাপান। এমনকি গত অক্টোবরে টোকিওতে এক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিলকেও ৩–২ ব্যবধানে হারিয়েছিল তারা। ফলে আজকের ম্যাচে প্রতিশোধের আগুনে জ্বলতে থাকা ব্রাজিলের বিপক্ষে নামার আগে জাপানিদের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার শীর্ষ লিগগুলোতে জাপানি ফুটবলারদের দাপুটে পদচারণা তাদের গায়ে সেঁটে দিয়েছে এই বিশ্বকাপের ‘ডার্ক হর্স’ বা অন্ধকার ঘোড়ার তকমা।
মোরিয়াসু অকপটে স্বীকার করেছেন, উত্তর আমেরিকার (আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকো) বিশাল দূরত্বে যাতায়াত করা এবং ব্রাজিলের চেয়ে ১ দিন কম বিশ্রাম পাওয়াটা তাঁদের জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ। তবুও ইতিহাস গড়তে মরিয়া জাপানি বস হুঙ্কার ছেড়ে বলেন, বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার লক্ষ্য নিয়েই আমরা এখানে এসেছি। অনেকে আমাদের ডার্ক হর্স বলছেন এবং সেই তকমা মাথায় রেখেই আমরা মাঠে নামব। আমরা বিশ্বাস করি আজ ব্রাজিলকে হারানোর সামর্থ্য এবং সুযোগ, দুটিই আমাদের আছে!

ডেস্ক রিপোর্ট 

























