ঢাকা , সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দখলমুক্ত হচ্ছে ডিএনসিসির ২৯ খাল তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতের উদ্বেগে কড়া জবাব চীনের মারা গেলেন কোরআন বুকে নিয়ে মহাকাশে যাওয়া সেই মুসলিম নভোচারী বাংলাদেশ-পাকিস্তান বাণিজ্যে কি খুলছে নতুন সম্ভাবনার দ্বার? সাশ্রয়ী দামে স্মার্টফোন দিতে বাংলালিংককে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা সালমান হুসাইনি নদভি আর নেই রাম মন্দিরের অর্থ কেলেঙ্কারিতে বিপাকে মোদি সরকার চাঁদা না দেওয়ায় হামলার অভিযোগ, রক্তাক্ত ইউনিয়ন বিএনপি নেতা বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি সত্ত্বেও কিছু জায়গায় লোডশেডিং থাকবে: বিদ্যুৎ মন্ত্রী অর্ধেকে নামছে হার্টের রিং ও চোখের লেন্সের খরচ

উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা সালমান হুসাইনি নদভি আর নেই

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:১৫:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম, বিশিষ্ট ইসলামী স্কলার, গবেষক ও বহু গ্রন্থপ্রণেতা মাওলানা সাইয়েদ সালমান হুসাইনি নদভি ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার (২৯ জুন) ভারতের লখনউয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। পরে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

তার ইন্তেকালের খবরে ভারতসহ পুরো উপমহাদেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আলেম-উলামা ও শিক্ষাবিদরা তার মৃত্যু ইসলামী শিক্ষা, গবেষণা ও দাওয়াহ অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার আসর নামাজের পর জামিয়া সাইয়েদ আহমদ শহিদ কাটোলিতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে সেখানেই তাকে দাফন করা হবে। জানাজায় দেশ-বিদেশের অসংখ্য আলেম, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

১৯৫৪ সালে ভারতের লখনউয়ের একটি ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মাওলানা সালমান নদভি। লখনউয়ের দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় শিক্ষাজীবন শুরু করে সেখানেই হিফজ, স্নাতক ও হাদিসে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরে সৌদি আরবের ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাদিস গবেষণায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন।

শিক্ষাজীবন শেষে তিনি দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে দাওয়াহ ও শরিয়াহ অনুষদের ডিন হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। আরবি ও উর্দু ভাষায় ইসলামী ধর্মতত্ত্ব, ইতিহাস, আকিদা ও হাদিস বিষয়ে তার অসংখ্য গ্রন্থ রয়েছে। পাশাপাশি তিনি ইংরেজি, আরবি, উর্দু ও ফারসি ভাষার বিভিন্ন গবেষণা সাময়িকীর সম্পাদক ও সহ-সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

এ ছাড়া আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও ইসলামী শিক্ষার প্রসারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি ড. আব্দুল আলী ইউনানি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান, জামেয়া দারুল উলুম সাইয়েদ আহমদ শহিদ কাটোলির চ্যান্সেলর এবং জমিয়ত শাবাব উল ইসলামের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও ইসলামী শিক্ষার প্রসারে আজীবন নিবেদিত এই আলেমের ইন্তেকালে মুসলিম বিশ্ব একজন প্রভাবশালী চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদকে হারালো।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দখলমুক্ত হচ্ছে ডিএনসিসির ২৯ খাল

উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা সালমান হুসাইনি নদভি আর নেই

আপডেট সময় ০৫:১৫:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম, বিশিষ্ট ইসলামী স্কলার, গবেষক ও বহু গ্রন্থপ্রণেতা মাওলানা সাইয়েদ সালমান হুসাইনি নদভি ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার (২৯ জুন) ভারতের লখনউয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। পরে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

তার ইন্তেকালের খবরে ভারতসহ পুরো উপমহাদেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আলেম-উলামা ও শিক্ষাবিদরা তার মৃত্যু ইসলামী শিক্ষা, গবেষণা ও দাওয়াহ অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার আসর নামাজের পর জামিয়া সাইয়েদ আহমদ শহিদ কাটোলিতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে সেখানেই তাকে দাফন করা হবে। জানাজায় দেশ-বিদেশের অসংখ্য আলেম, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

১৯৫৪ সালে ভারতের লখনউয়ের একটি ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মাওলানা সালমান নদভি। লখনউয়ের দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় শিক্ষাজীবন শুরু করে সেখানেই হিফজ, স্নাতক ও হাদিসে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরে সৌদি আরবের ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাদিস গবেষণায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন।

শিক্ষাজীবন শেষে তিনি দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে দাওয়াহ ও শরিয়াহ অনুষদের ডিন হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। আরবি ও উর্দু ভাষায় ইসলামী ধর্মতত্ত্ব, ইতিহাস, আকিদা ও হাদিস বিষয়ে তার অসংখ্য গ্রন্থ রয়েছে। পাশাপাশি তিনি ইংরেজি, আরবি, উর্দু ও ফারসি ভাষার বিভিন্ন গবেষণা সাময়িকীর সম্পাদক ও সহ-সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

এ ছাড়া আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও ইসলামী শিক্ষার প্রসারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি ড. আব্দুল আলী ইউনানি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান, জামেয়া দারুল উলুম সাইয়েদ আহমদ শহিদ কাটোলির চ্যান্সেলর এবং জমিয়ত শাবাব উল ইসলামের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও ইসলামী শিক্ষার প্রসারে আজীবন নিবেদিত এই আলেমের ইন্তেকালে মুসলিম বিশ্ব একজন প্রভাবশালী চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদকে হারালো।