ঢাকা , শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সত্যি হলো না ভবিষ্যদ্বাণী, মেসিকে হারাতে গিয়ে নিজ দেশকেই বাঁচাতে পারলেন না তান্ত্রিক খামেনির জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য তৈরি হচ্ছে ৫ কোটি রুটি ‘নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেবে ব্রাজিল’ আমরা ভালো মানুষ বলেই খামেনির দাফনের জন্য ৭ দিন ছুটি দিয়েছি: ট্রাম্প জুলাই আন্দোলন নিয়ে কটাক্ষ, শাওন ও মাহির বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় অভিযোগ ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ, তিন দেশে ৩৭০০ জনের মৃত্যু সরকারি নথিতে মৃত, নিজেকে ‘জীবিত’ প্রমাণ করতে সরকারি দপ্তরে ঘুরছেন বাদশা নরওয়ের বিপক্ষে লড়াইয়ের আগে বড় সুখবর পেল ব্রাজিল খামেনির জানাজায় অংশ না নিতে বিভিন্ন দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, সহায়তা বন্ধের হুমকি ঢাবি নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য, ব্যারিস্টার ফুয়াদকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে আইনি নোটিশ

ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল দখলে নিয়ে পুতিনের বার্তা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:১৬:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

এবার রুশ বাহিনী পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্তিয়ানতিনিভকা দখলে নিয়েছে। এমনটাই জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। শুক্রবার (৩ জুলাই) রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে এ বিষয়ে অবহিতও করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দোনেৎস্ক অঞ্চলে অগ্রযাত্রার অংশ হিসেবে শহরটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল মস্কো।

প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কমান্ড পোস্ট পরিদর্শন করে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবেদন গ্রহণ করেন পুতিন। তিনি কোস্তিয়ানতিনিভকা দখলকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সাফল্য বলে উল্লেখ করেন। পুতিন বলেন, রাশিয়ার তেল শিল্পকে লক্ষ্য করে ইউক্রেনের হামলা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা বলয় আরও সম্প্রসারণ করতে হয়েছে।  রয়টার্স বলছে, রাশিয়ার সামরিক বাহিনী এর আগেও জানিয়েছিল, তাদের সেনারা কোস্তিয়ানতিনিভকা কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় শহরটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুর্গ হিসেবে বিবেচিত। এ বিষয়ে পুতিন বলেন, ‘আমরা সবাই জানি যে এই শহরটি দোনবাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন এবং বৃহৎ শিল্প কেন্দ্র।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে কোস্তিয়ানতিনিভকা থেকে ধারণ করা বলে দাবি করা কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছে। সেখানে বিধ্বস্ত ভবনের পাশে রুশ সেনাদের জাতীয় পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। রুশ বাহিনী দখল করা অঞ্চলটি থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত লিমান শহরের দিকেও অগ্রসর হচ্ছে। রুশ বাহিনী জানায়, এই শহরটি পরবর্তী সামরিক অভিযানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক ও কৌশলগত কেন্দ্র। পুতিন জানান, লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিকের পুরো ভূখণ্ড সম্পূর্ণ মুক্ত হয়েছে। এক যৌথ বাহিনীর অস্থায়ী কমান্ড পোস্টে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফের পরিকল্পনা অনুযায়ী যৌথ বাহিনীর ইউনিটগুলো তাদের দায়িত্ব পালন করছে। সম্প্রতি লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিকের সম্পূর্ণ মুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় বাহিনীর প্রধান ইয়েভজেনি নিকিফোরভ পুতিনকে জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা পুরোপুরি ঠেকানো এখনো সম্ভব হয়নি। এসব হামলায় রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। জবাবে পুতিন বলেন, ‘শত্রুপক্ষ আমাদের বেসামরিক স্থাপনায় যত বেশি হামলা চালানোর চেষ্টা করবে, প্রতিবেশী ভূখণ্ডে আমাদের নিরাপত্তা বলয়ও তত বড় করতে হবে।নিকিফোরভ আরও জানান, খারকিভ ও সুমি সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বলয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রুশ বাহিনীর বেশ অগ্রগতি হয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও দেশটির অন্যান্য কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বছরের শুরু থেকে পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়ার অগ্রগতি উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর হয়ে গেছে। এমনকি ইউক্রেনীয় বাহিনী কিছু এলাকা পুনর্দখলও করেছে।

তবে পুতিন ইউক্রেনের এসব বক্তব্যকেতথ্যযুদ্ধের অংশবলে উড়িয়ে দেন। গত মাসে জেলেনস্কি সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব জানিয়ে পুতিনের কাছে একটি উন্মুক্ত চিঠি পাঠালেও ক্রেমলিন সেই প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করে। ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার প্রচেষ্টা আপাতত স্থগিত রয়েছে। তবে মস্কো ও কিয়েভ উভয়ই জানিয়েছে, দুই প্রধান মার্কিন আলোচক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার শিগগিরই সফরে আসতে পারেন বলে আশা করছে তারা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সত্যি হলো না ভবিষ্যদ্বাণী, মেসিকে হারাতে গিয়ে নিজ দেশকেই বাঁচাতে পারলেন না তান্ত্রিক

ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল দখলে নিয়ে পুতিনের বার্তা

আপডেট সময় ১০:১৬:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

এবার রুশ বাহিনী পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্তিয়ানতিনিভকা দখলে নিয়েছে। এমনটাই জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। শুক্রবার (৩ জুলাই) রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে এ বিষয়ে অবহিতও করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দোনেৎস্ক অঞ্চলে অগ্রযাত্রার অংশ হিসেবে শহরটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল মস্কো।

প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কমান্ড পোস্ট পরিদর্শন করে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবেদন গ্রহণ করেন পুতিন। তিনি কোস্তিয়ানতিনিভকা দখলকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সাফল্য বলে উল্লেখ করেন। পুতিন বলেন, রাশিয়ার তেল শিল্পকে লক্ষ্য করে ইউক্রেনের হামলা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা বলয় আরও সম্প্রসারণ করতে হয়েছে।  রয়টার্স বলছে, রাশিয়ার সামরিক বাহিনী এর আগেও জানিয়েছিল, তাদের সেনারা কোস্তিয়ানতিনিভকা কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় শহরটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুর্গ হিসেবে বিবেচিত। এ বিষয়ে পুতিন বলেন, ‘আমরা সবাই জানি যে এই শহরটি দোনবাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন এবং বৃহৎ শিল্প কেন্দ্র।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে কোস্তিয়ানতিনিভকা থেকে ধারণ করা বলে দাবি করা কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছে। সেখানে বিধ্বস্ত ভবনের পাশে রুশ সেনাদের জাতীয় পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। রুশ বাহিনী দখল করা অঞ্চলটি থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত লিমান শহরের দিকেও অগ্রসর হচ্ছে। রুশ বাহিনী জানায়, এই শহরটি পরবর্তী সামরিক অভিযানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক ও কৌশলগত কেন্দ্র। পুতিন জানান, লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিকের পুরো ভূখণ্ড সম্পূর্ণ মুক্ত হয়েছে। এক যৌথ বাহিনীর অস্থায়ী কমান্ড পোস্টে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফের পরিকল্পনা অনুযায়ী যৌথ বাহিনীর ইউনিটগুলো তাদের দায়িত্ব পালন করছে। সম্প্রতি লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিকের সম্পূর্ণ মুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় বাহিনীর প্রধান ইয়েভজেনি নিকিফোরভ পুতিনকে জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা পুরোপুরি ঠেকানো এখনো সম্ভব হয়নি। এসব হামলায় রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। জবাবে পুতিন বলেন, ‘শত্রুপক্ষ আমাদের বেসামরিক স্থাপনায় যত বেশি হামলা চালানোর চেষ্টা করবে, প্রতিবেশী ভূখণ্ডে আমাদের নিরাপত্তা বলয়ও তত বড় করতে হবে।নিকিফোরভ আরও জানান, খারকিভ ও সুমি সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বলয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রুশ বাহিনীর বেশ অগ্রগতি হয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও দেশটির অন্যান্য কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বছরের শুরু থেকে পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়ার অগ্রগতি উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর হয়ে গেছে। এমনকি ইউক্রেনীয় বাহিনী কিছু এলাকা পুনর্দখলও করেছে।

তবে পুতিন ইউক্রেনের এসব বক্তব্যকেতথ্যযুদ্ধের অংশবলে উড়িয়ে দেন। গত মাসে জেলেনস্কি সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব জানিয়ে পুতিনের কাছে একটি উন্মুক্ত চিঠি পাঠালেও ক্রেমলিন সেই প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করে। ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার প্রচেষ্টা আপাতত স্থগিত রয়েছে। তবে মস্কো ও কিয়েভ উভয়ই জানিয়েছে, দুই প্রধান মার্কিন আলোচক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার শিগগিরই সফরে আসতে পারেন বলে আশা করছে তারা।