ঢাকা , সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
হালান্ডের রাতের অদ্ভুত অভ্যাস! মুখে টেপ লাগিয়ে ঘুমান কেন, জানাল বিজ্ঞান পতিত সরকার কোনো প্রকল্পই জনস্বার্থে নেয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী ব্রাজিলের হারে অসুস্থ তরুণী, হাসপাতালে নিলেন আর্জেন্টিনা সমর্থক ফিফার কাছে লাল কার্ডে নিষিদ্ধ খেলোয়াড়ের জন্য তিনবার ফোন করেছিলেন ট্রাম্প ভারতকে যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প হিসেবে দেখছেন নেতানিয়াহু শনিবারের মধ্যে সব ক্লিনিকে লেবার রুম স্থাপন না করলে লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী রোগীকে ১৯০ গ্রাম মাংসের জায়গায় দেওয়া হচ্ছে ৪০, হাতেনাতে ধরলেন এমপি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ, ক্রাউন প্রিন্সের চিঠি হস্তান্তর টানা ছয় বিশ্বকাপে শিরোপাহীন থেকে ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ পূরণ ‘আমি পালাইনি, সিদ্ধান্ত কোচের ছিল’, সেই পেনাল্টি নিয়ে ভিনি

কক্সবাজারে পাহাড় ধসে নারী-শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৫১:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভারীবর্ষণের ফলে পৃথক চারটি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ৯ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার (৫ জুলাই) রাত ৩টার দিকে ক্যাম্প প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উখিয়ার বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন।  নিহতরা হলেনওই ক্যাম্পের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রশিদের ছেলে মোহাম্মদ রিহান () এবং তার ভাই হারুনুর রশিদ ()

এর আগে দিবাগত রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে আশ্রিত রোহিঙ্গা মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের (৪৪) বসতঘরের ওপর পাহাড় ধসে পড়ে। এ ঘটনায় কামাল হোসাইন, তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাদের ছেলে মোহাম্মদ আনাসের () মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে রাত পৌনে ২টার দিকে পাহাড়িঢলে আসা মাটিচাপায় একরাম নামে ৭ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়।

নিহত একরাম ওই ক্যাম্পের মোহাম্মদ রশিদের ছেলে। ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানান, খবর পেয়ে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। এ দিকে রাত ৩টার দিকে কক্সবাজার শহরের লাইট হাউস এলাকায় আলী আকবর (৫০) নামে এক ব্যক্তিরও মৃত্যু হয়েছে। উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ ডলার ত্রিপুরা বলেন, কক্সবাজারে দিনব্যাপী প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, যা রাতেও অব্যাহত ছিল। টানা ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে ক্যাম্পে পাহাড় ধসে পড়ে মাটি চাপা পড়ে কয়েকটি বসতিতে। প্রথমে ১৫ নম্বর ক্যাম্পে পাহাড়ধসের খবর পেয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করি। উদ্ধারকাজ চলাকালে ডিএমসি কমিটির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ১১ নম্বর ক্যাম্পেও পাহাড়ধসের তথ্য পাই।

পরে ১১ নম্বর ক্যাম্পের ডিএমসি সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, স্থানীয় লোকজন চারজনকে উদ্ধার করেছেন। তবে তারা সবাই মারা গেছেন। তাই সেখানে ফায়ার সার্ভিসের আর কোনো সহায়তার প্রয়োজন হয়নি। এরপর ১৫ নম্বর ক্যাম্পের উদ্ধারকাজ শেষ করে বিষয়টি নিশ্চিত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। ডলার ত্রিপুরা আরও বলেন, ১৫ নম্বর ক্যাম্পে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজনকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস এবং একজনকে উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা। আর ডিএমসি সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, ১১ নম্বর ক্যাম্পে পাহাড়ধসে চারজন ও ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

একই সঙ্গে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরতদের অন্যত্র নিরাপদ স্থানে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে বলেও জানান ফায়ার সার্ভিস উখিয়া স্টেশনের ইনচার্জ ডলার। কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী আরও দুই দিন ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। পাহাড়ধসের ঝুঁকি থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

হালান্ডের রাতের অদ্ভুত অভ্যাস! মুখে টেপ লাগিয়ে ঘুমান কেন, জানাল বিজ্ঞান

কক্সবাজারে পাহাড় ধসে নারী-শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু

আপডেট সময় ০৯:৫১:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভারীবর্ষণের ফলে পৃথক চারটি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ৯ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার (৫ জুলাই) রাত ৩টার দিকে ক্যাম্প প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উখিয়ার বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন।  নিহতরা হলেনওই ক্যাম্পের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রশিদের ছেলে মোহাম্মদ রিহান () এবং তার ভাই হারুনুর রশিদ ()

এর আগে দিবাগত রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে আশ্রিত রোহিঙ্গা মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের (৪৪) বসতঘরের ওপর পাহাড় ধসে পড়ে। এ ঘটনায় কামাল হোসাইন, তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাদের ছেলে মোহাম্মদ আনাসের () মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে রাত পৌনে ২টার দিকে পাহাড়িঢলে আসা মাটিচাপায় একরাম নামে ৭ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়।

নিহত একরাম ওই ক্যাম্পের মোহাম্মদ রশিদের ছেলে। ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানান, খবর পেয়ে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। এ দিকে রাত ৩টার দিকে কক্সবাজার শহরের লাইট হাউস এলাকায় আলী আকবর (৫০) নামে এক ব্যক্তিরও মৃত্যু হয়েছে। উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ ডলার ত্রিপুরা বলেন, কক্সবাজারে দিনব্যাপী প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, যা রাতেও অব্যাহত ছিল। টানা ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে ক্যাম্পে পাহাড় ধসে পড়ে মাটি চাপা পড়ে কয়েকটি বসতিতে। প্রথমে ১৫ নম্বর ক্যাম্পে পাহাড়ধসের খবর পেয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করি। উদ্ধারকাজ চলাকালে ডিএমসি কমিটির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ১১ নম্বর ক্যাম্পেও পাহাড়ধসের তথ্য পাই।

পরে ১১ নম্বর ক্যাম্পের ডিএমসি সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, স্থানীয় লোকজন চারজনকে উদ্ধার করেছেন। তবে তারা সবাই মারা গেছেন। তাই সেখানে ফায়ার সার্ভিসের আর কোনো সহায়তার প্রয়োজন হয়নি। এরপর ১৫ নম্বর ক্যাম্পের উদ্ধারকাজ শেষ করে বিষয়টি নিশ্চিত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। ডলার ত্রিপুরা আরও বলেন, ১৫ নম্বর ক্যাম্পে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজনকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস এবং একজনকে উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা। আর ডিএমসি সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, ১১ নম্বর ক্যাম্পে পাহাড়ধসে চারজন ও ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

একই সঙ্গে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরতদের অন্যত্র নিরাপদ স্থানে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে বলেও জানান ফায়ার সার্ভিস উখিয়া স্টেশনের ইনচার্জ ডলার। কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী আরও দুই দিন ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। পাহাড়ধসের ঝুঁকি থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।