ঢাকা , সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ফিফার কাছে লাল কার্ডে নিষিদ্ধ খেলোয়াড়ের জন্য তিনবার ফোন করেছিলেন ট্রাম্প ভারতকে যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প হিসেবে দেখছেন নেতানিয়াহু শনিবারের মধ্যে সব ক্লিনিকে লেবার রুম স্থাপন না করলে লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী রোগীকে ১৯০ গ্রাম মাংসের জায়গায় দেওয়া হচ্ছে ৪০, হাতেনাতে ধরলেন এমপি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ, ক্রাউন প্রিন্সের চিঠি হস্তান্তর টানা ছয় বিশ্বকাপে শিরোপাহীন থেকে ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ পূরণ ‘আমি পালাইনি, সিদ্ধান্ত কোচের ছিল’, সেই পেনাল্টি নিয়ে ভিনি ৬ কারণে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ব্রাজিলের তীব্র অর্থ সংকট, ১০ হাজার সেনা ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা ইসরাইলের ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থনের জন্যই খামেনিকে হত্যা করা হয়েছে: হুথি

‘আমি পালাইনি, সিদ্ধান্ত কোচের ছিল’, সেই পেনাল্টি নিয়ে ভিনি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৫৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

হেক্সা মিশনে আরও একবার পর ব্রাজিলের আলোচনার কেন্দ্রে এখন পেনাল্টি। নরওয়ের বিপক্ষে শুরুর দিকে পেনাল্টি পেলেও, সেটিতে গোল করতে পারেননি ব্রাজিলের ব্রুনো গিমারায়েস। কিন্তু সেই পেনাল্টি শট কেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র নেননি, তা নিয়েই এখন যত প্রশ্ন। ম্যাচ শেষে মিলেছে এর উত্তরও। ভিনিসিয়ুস সোজাসাপটা বলে দিয়েছেন, পেনাল্টি শটটি ব্রুনো নেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত ছিল প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির। কোচের কথা মেনেই মূলত বলটি ব্রুনোর কাছে তুলে দেন ভিনিসিয়ুস। নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর ম্যাচে মাত্র ১২ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত ব্রাজিল। মাতেউস কুনিয়ার ওপর ফাউল করা হলে ভিএআর দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। শুরুতে মনে হচ্ছিল, ভিনিসিয়ুসই নেবেন ওই শট। 

পেনাল্টি স্পটের কাছে বল নিয়েও লম্বা দাঁড়িয়ে ছিলেন ভিনিসিয়ুস। তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে শেষ মুহূর্তে ব্রুনোর হাতে বল তুলে দিয়ে সরে আসেন তিনি। আর গোলকিপারের বাম পাশ দিয়ে গোল করার চেষ্টায় ব্যর্থ হন ব্রুনো। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ভিনির কাছে জানতে চাওয়া হয়, পেনাল্টি শটটি তিনি কেন নেননি? উত্তরে কোচের সিদ্ধান্তের কথা বলেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড।

কোচ আগে থেকেই ঠিক করে দেন পেনাল্টি কিক কে নেবে। তিনি ব্রুনোকে বেছে নিয়েছিলেন। আমি কখনও অহংকারী ছিলাম না, প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার ইচ্ছেও আমার কখনও ছিল না, আর সেই কারণেই ব্রুনো পেনাল্টি নিয়েছিল। সে আমার চেয়ে ভালো পেনাল্টি নেয়, তাই কোচ তাকে বেছে নিয়েছিলেন। এটুকুই। আমি কখনো দায়িত্ব থেকে পালিয়ে যাইনি।

এসময় ভিনিসিয়ুস জানিয়ে রাখেন, দল চাইলে তিনি পেনাল্টি নিতে প্রস্তুত ছিলেন।  অনেকেই হয়তো বলবে যে আমি নিতে চাইনি, কিন্তু আমি কখনও পালিয়ে যাইনি। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে কোচ যখন আমাকে দায়িত্ব দেন, আমি তখন পেনাল্টি নিই। আমাদের পরবর্তী বিশ্বকাপ এবং আসন্ন ম্যাচগুলোর জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।ব্রুনো পেনাল্টি নিতে যাওয়ার আগে লম্বা সময় তার সঙ্গে ভিনিসিয়ুসকে কথা বলতে দেখা যায়। তাই প্রশ্ন ওঠে, তখন কি পেনাল্টি শটটি নেওয়ার ব্যাপারে তর্ক চলছিল কিনা? উত্তরে আরও একবার কোচের সিদ্ধান্ত মনে করিয়ে দেন ভিনি।

কোনো বিতর্কের অবকাশই ছিল না। পেনাল্টি নেওয়ার জন্য ব্রুনোকে বেছে নিয়েছিলেন কোচ। আমরা প্রতিদিন অনুশীলন করি এবং কোচ তাকেই বেছে নিয়েছেন। প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ গোলদাতা বা সেরা খেলোয়াড় হওয়ার কোনো অহমিকা আমার নেই।”  আমি দলের জন্য খেলি, আর সেই মুহূর্তে ব্রুনোর পেনাল্টি নেওয়াটাই ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত। দুর্ভাগ্যবশত, সে গোল করতে পারেনি। এটাই ফুটবল, আমাদের মাথা উঁচু রেখে এগিয়ে যেতে হবে। পুরো টুর্নামেন্টে ব্রুনো যে পারফরম্যান্স দেখিয়েছেদুর্ভাগ্যবশত, একটি পেনাল্টি মিসে তার পুরো পারফরম্যান্স কিছুটা ম্লান হয়ে গেল।

আর ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, তিনি মূলত গত এক বছরের পরিসংখ্যানে আস্থা রেখে ব্রুনোকে শট নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কারণ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্রাজিলের সেরা পেনাল্টি টেকাররা হলেন নেইমার, ইগোর থিয়াগো, রাফিনিয়া ও ব্রুনো। ম্যাচের শুরুতে ব্রাজিল যখন পেনাল্টি পায়, তখন মাঠেই ছিলেন না নেইমার, থিয়াগো ও রাফিনিয়া। যে কারণে ব্রুনোর কাছেই চলে যায় পেনাল্টি শটের দায়িত্ব।  গত মৌসুমে নিউ ক্যাসল ইউনাইটেডের হয়ে দুই শটের দুটিতেই গোল করেন ব্রুনো। তবে তিনি দলের মূল পেনাল্টি টেকার ছিলেন না। অন্য দিকে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে ২০২৫২৬ মৌসুমে সাতটি পেনাল্টি শট করে পাঁচটি গোল করেন ভিনিসিয়ুস। বাকি দুটিতে জালে বল পাঠানো হয়নি তার। আর জাতীয় দলের হয়ে ২০২৩ সালে পাওয়া একমাত্র পেনাল্টিতেও গোল করেন ভিনিসিয়ুস।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ফিফার কাছে লাল কার্ডে নিষিদ্ধ খেলোয়াড়ের জন্য তিনবার ফোন করেছিলেন ট্রাম্প

‘আমি পালাইনি, সিদ্ধান্ত কোচের ছিল’, সেই পেনাল্টি নিয়ে ভিনি

আপডেট সময় ১০:৫৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

হেক্সা মিশনে আরও একবার পর ব্রাজিলের আলোচনার কেন্দ্রে এখন পেনাল্টি। নরওয়ের বিপক্ষে শুরুর দিকে পেনাল্টি পেলেও, সেটিতে গোল করতে পারেননি ব্রাজিলের ব্রুনো গিমারায়েস। কিন্তু সেই পেনাল্টি শট কেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র নেননি, তা নিয়েই এখন যত প্রশ্ন। ম্যাচ শেষে মিলেছে এর উত্তরও। ভিনিসিয়ুস সোজাসাপটা বলে দিয়েছেন, পেনাল্টি শটটি ব্রুনো নেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত ছিল প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির। কোচের কথা মেনেই মূলত বলটি ব্রুনোর কাছে তুলে দেন ভিনিসিয়ুস। নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর ম্যাচে মাত্র ১২ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত ব্রাজিল। মাতেউস কুনিয়ার ওপর ফাউল করা হলে ভিএআর দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। শুরুতে মনে হচ্ছিল, ভিনিসিয়ুসই নেবেন ওই শট। 

পেনাল্টি স্পটের কাছে বল নিয়েও লম্বা দাঁড়িয়ে ছিলেন ভিনিসিয়ুস। তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে শেষ মুহূর্তে ব্রুনোর হাতে বল তুলে দিয়ে সরে আসেন তিনি। আর গোলকিপারের বাম পাশ দিয়ে গোল করার চেষ্টায় ব্যর্থ হন ব্রুনো। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ভিনির কাছে জানতে চাওয়া হয়, পেনাল্টি শটটি তিনি কেন নেননি? উত্তরে কোচের সিদ্ধান্তের কথা বলেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড।

কোচ আগে থেকেই ঠিক করে দেন পেনাল্টি কিক কে নেবে। তিনি ব্রুনোকে বেছে নিয়েছিলেন। আমি কখনও অহংকারী ছিলাম না, প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার ইচ্ছেও আমার কখনও ছিল না, আর সেই কারণেই ব্রুনো পেনাল্টি নিয়েছিল। সে আমার চেয়ে ভালো পেনাল্টি নেয়, তাই কোচ তাকে বেছে নিয়েছিলেন। এটুকুই। আমি কখনো দায়িত্ব থেকে পালিয়ে যাইনি।

এসময় ভিনিসিয়ুস জানিয়ে রাখেন, দল চাইলে তিনি পেনাল্টি নিতে প্রস্তুত ছিলেন।  অনেকেই হয়তো বলবে যে আমি নিতে চাইনি, কিন্তু আমি কখনও পালিয়ে যাইনি। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে কোচ যখন আমাকে দায়িত্ব দেন, আমি তখন পেনাল্টি নিই। আমাদের পরবর্তী বিশ্বকাপ এবং আসন্ন ম্যাচগুলোর জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।ব্রুনো পেনাল্টি নিতে যাওয়ার আগে লম্বা সময় তার সঙ্গে ভিনিসিয়ুসকে কথা বলতে দেখা যায়। তাই প্রশ্ন ওঠে, তখন কি পেনাল্টি শটটি নেওয়ার ব্যাপারে তর্ক চলছিল কিনা? উত্তরে আরও একবার কোচের সিদ্ধান্ত মনে করিয়ে দেন ভিনি।

কোনো বিতর্কের অবকাশই ছিল না। পেনাল্টি নেওয়ার জন্য ব্রুনোকে বেছে নিয়েছিলেন কোচ। আমরা প্রতিদিন অনুশীলন করি এবং কোচ তাকেই বেছে নিয়েছেন। প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ গোলদাতা বা সেরা খেলোয়াড় হওয়ার কোনো অহমিকা আমার নেই।”  আমি দলের জন্য খেলি, আর সেই মুহূর্তে ব্রুনোর পেনাল্টি নেওয়াটাই ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত। দুর্ভাগ্যবশত, সে গোল করতে পারেনি। এটাই ফুটবল, আমাদের মাথা উঁচু রেখে এগিয়ে যেতে হবে। পুরো টুর্নামেন্টে ব্রুনো যে পারফরম্যান্স দেখিয়েছেদুর্ভাগ্যবশত, একটি পেনাল্টি মিসে তার পুরো পারফরম্যান্স কিছুটা ম্লান হয়ে গেল।

আর ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, তিনি মূলত গত এক বছরের পরিসংখ্যানে আস্থা রেখে ব্রুনোকে শট নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কারণ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্রাজিলের সেরা পেনাল্টি টেকাররা হলেন নেইমার, ইগোর থিয়াগো, রাফিনিয়া ও ব্রুনো। ম্যাচের শুরুতে ব্রাজিল যখন পেনাল্টি পায়, তখন মাঠেই ছিলেন না নেইমার, থিয়াগো ও রাফিনিয়া। যে কারণে ব্রুনোর কাছেই চলে যায় পেনাল্টি শটের দায়িত্ব।  গত মৌসুমে নিউ ক্যাসল ইউনাইটেডের হয়ে দুই শটের দুটিতেই গোল করেন ব্রুনো। তবে তিনি দলের মূল পেনাল্টি টেকার ছিলেন না। অন্য দিকে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে ২০২৫২৬ মৌসুমে সাতটি পেনাল্টি শট করে পাঁচটি গোল করেন ভিনিসিয়ুস। বাকি দুটিতে জালে বল পাঠানো হয়নি তার। আর জাতীয় দলের হয়ে ২০২৩ সালে পাওয়া একমাত্র পেনাল্টিতেও গোল করেন ভিনিসিয়ুস।