এবার ইরানের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে ফের জড়ানোর মতো পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নেই। এমন সতর্কবার্তাই দিয়েছেন মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা। যদিও মধ্যপ্রাচ্যে আরও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করার পাশাপাশি ইরানের ওপর টানা দশম রাতের মতো হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। অবশ্য উভয় পক্ষই পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে।
প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের বিরুদ্ধে আরও বিস্তৃত সামরিক অভিযান চালানোর বিভিন্ন অপশন বিবেচনা করছেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে আরও মার্কিন যুদ্ধবিমানও মোতায়েন করা হচ্ছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ আলোচনা সম্পর্কে অবগত ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান সীমিত রাখতে হতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে তিনি বলেন, ‘নিরাপদভাবে দীর্ঘ সময় অভিযান চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র আমাদের নেই। আমার মনে হয়, হোয়াইট হাউস এ বাস্তবতা সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নয়।’
এর মধ্যেই টানা দশম রাতের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আর এই হামলা পুরো অঞ্চলটিকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে মার্কিন হামলার জবাবে ইরানও সমগ্র অঞ্চলজুড়ে হামলা অব্যাহত রেখেছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা বাহরাইন, কুয়েতের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তেহরান আবারও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে’ জড়িয়ে পড়েছে এবং ওয়াশিংটনকে এর পরিণতি মেনে নিতে হবে।
তবে এ উত্তেজনার মধ্যেও উভয় পক্ষই পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, তেহরান মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাব পেয়েছে। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে হামলা চললেও ‘কূটনীতি তার দায়িত্ব পালন করছে এবং কোনও প্রচেষ্টাই বাদ দেয়া হচ্ছে না।’ এর আগে গত রোববার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ওয়াশিংটন আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, ‘আমরা একাধিকবার ইরানের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব। আলোচনার দরজা খুললে আমরা তা স্বাগত জানাব।’
মূলত গত সপ্তাহে ইরানের হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনার জবাব হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে সোমবার নিহত দুই মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ করা হয়। তারা হলেন হাওয়াইয়ের ইওয়া বিচের ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান এবং টেক্সাসের ক্যারলটনের ১৯ বছর বয়সী প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটিতে ইরানের ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে সেনাদের আবাসন, একটি জিমনেসিয়াম এবং একটি খালি বিমান হ্যাঙ্গারে আঘাত হানে।
হামলার সময় ফিহান ও গনজালেস তাদের আবাসনে ছিলেন কি না, নাকি আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে নিহত হয়েছেন—তা স্পষ্ট নয়। ফিহানের কয়েক সপ্তাহ পর সাউদার্ন ইউটাহ ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ ডিগ্রি পাওয়ার কথা ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাকে মরণোত্তর ডিগ্রি দেয়া হবে। অন্যদিকে গনজালেস জার্মানির আনসবাখে অবস্থানরত ১০ম আর্মি এয়ার অ্যান্ড মিসাইল ডিফেন্স কমান্ডের সদস্য ছিলেন। গত বছর তিনি ডালাসের কাছে ক্যারলটনের হেবরন হাই স্কুল থেকে স্নাতক পাস করেন। লুইসভিল ইনডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্ট এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘দেশের সেবায় তিনি নিজের জীবন দিয়েছেন। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। স্নাতক সম্পন্ন করে সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্তই তার ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে।’

ডেস্ক রিপোর্ট 

























