বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করার সুপারিশ করেছে ভারতের সংসদের পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটি। কমিটির মতে, দীর্ঘদিন ভিসা কার্যক্রম সীমিত থাকায় দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ভারতের সংসদীয় কমিটি বলেছে, পরিস্থিতি অনুকূলে এলেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ধাপে ধাপে বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় কনস্যুলার সহযোগিতা ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে নিয়মিত ভিসানীতি পর্যালোচনা, আবেদনকারীদের অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং বৈধ ভ্রমণকারীদের অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নিরাপত্তাজনিত কারণে ভিসা কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছিল এবং কনস্যুলার কর্মীদেরও প্রত্যাহার করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের পাঁচটি ভিসা কেন্দ্রে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০টি ভিসা ইস্যু করা হচ্ছে, যার প্রায় ৮০ শতাংশই চিকিৎসা-সংক্রান্ত।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে ভিসা ইস্যুর সংখ্যা বাড়ানো এবং অতিরিক্ত ভিসা কেন্দ্র চালুর বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রতিবেদনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত অবস্থানের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, মানবিক কারণে তাকে আশ্রয় দেওয়া হলেও ভারতের ভূখণ্ড থেকে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে, বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত অনুরোধ আইন অনুযায়ী পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে বলেও জানিয়েছে ভারত সরকার।

ডেস্ক রিপোর্ট 




















