ঢাকা , বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আবারও হল দখল ও ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণের পাঁয়তারা চলছে: নাহিদ ইসলাম জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিবৃতি ক্যাম্পাসগুলোতে হামলায় সরকারের উচ্চমহলের উসকানির অভিযোগ ছাত্রশিবিরের ৫ লাখ টাকা জরিমানা হলেও ধর্ষণ মামলা থেকে রেহাই পেলেন না আলোচিত রিপন মিয়া মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল বিএনপি নেতার, দল থেকে অব্যাহতি বেরোবি ক্যাম্পাস ছাত্রদলের দখলে: দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের ছবিতে জুতা নিক্ষেপ ‘দেখা না দিলে বন্ধু কথা কইও না’— এবার আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য: আসিফ মাহমুদ ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, মাথায় আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত ঢাকা আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ ‘বাংলা আজ এক বিশালাকার কারাগার’: এবার গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারি মমতার পৃথিবীর দিকে আসছে বিশাল গ্রহাণু, পারমাণবিক বোমা দিয়ে করা হবে ধ্বংস!

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিবৃতি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৩৬:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

জুলাইকে গণমানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন সাবেক অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, আমাদের স্মৃতিতে জুলাই দীর্ঘ, ৩৬ দিনে মাস। জুলাইয়ে আমরা আবারও স্মরণ করি কী ভীষণ শক্তি নিয়ে এ জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে!

বুধবার ( ৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। বিবৃতিতে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গকারী শহিদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনে আহত, দৃষ্টিশক্তি হারানো ও পঙ্গুত্ব বরণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

ড. ইউনূস বলেন, জুলাই সর্বস্তরের, সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের। জুলাই স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও পাবলিক-প্রাইভেট-জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের, যারা রাজপথে নেমে এসেছিল। জুলাই শিক্ষক ও অভিভাবকদের যারা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিক, আলোকচিত্রী, পথচারী যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সত্যকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছেন। রাজনীতিবিদ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, লেখক, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ তাদের কণ্ঠ আর সৃজনশীলতা দিয়ে এই গণ-অভ্যুত্থানে শক্তি যুগিয়েছেন। রিকশাচালক, শ্রমজীবী মানুষ, পেশাজীবীরা যে যার জায়গা থেকে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। চিকিৎসকরা এই যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে চরম ঝুঁকি নিয়ে আহতের জীবন বাঁচাতে চেষ্টা করেছেন। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা নানা প্রান্ত থেকে সমর্থন জানিয়েছেন, আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।

বিবৃতিতে জুলাই আন্দোলনে নারীদের সাহসিকতার কথাও বিশেষভাবে তুলে ধরেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, জুলাইয়ে নারীরা যে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে লড়েছিলেন তা দেশের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের নারীদের অনুপ্রাণিত করবে, তরুণদের সাহস জোগাবে। শিক্ষার্থীদের অনন্য নেতৃত্ব বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছে দেশের সর্বস্তরের মানুষ যখন ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন তারা সবচেয়ে দুর্ভেদ্য বলে মনে হওয়া কাঠামোকেও বদলে দিতে পারে। ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে আমরা যে গণতান্ত্রিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রযাত্রা শুরু করেছি, এটা অব্যাহত রাখার জন্য আমাদের দৃঢ় সংকল্প নিতে হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে পাওয়া শিক্ষার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছে দেশের সর্বস্তরের মানুষ যখন ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন তারা সবচেয়ে দুর্ভেদ্য বলে মনে হওয়া কাঠামোকেও বদলে দিতে পারে। ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে আমরা যে গণতান্ত্রিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রযাত্রা শুরু করেছি, এটা অব্যাহত রাখার জন্য আমাদের দৃঢ় সংকল্প নিতে হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আবারও হল দখল ও ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণের পাঁয়তারা চলছে: নাহিদ ইসলাম

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিবৃতি

আপডেট সময় ০২:৩৬:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

জুলাইকে গণমানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন সাবেক অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, আমাদের স্মৃতিতে জুলাই দীর্ঘ, ৩৬ দিনে মাস। জুলাইয়ে আমরা আবারও স্মরণ করি কী ভীষণ শক্তি নিয়ে এ জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে!

বুধবার ( ৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। বিবৃতিতে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গকারী শহিদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনে আহত, দৃষ্টিশক্তি হারানো ও পঙ্গুত্ব বরণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

ড. ইউনূস বলেন, জুলাই সর্বস্তরের, সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের। জুলাই স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও পাবলিক-প্রাইভেট-জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের, যারা রাজপথে নেমে এসেছিল। জুলাই শিক্ষক ও অভিভাবকদের যারা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিক, আলোকচিত্রী, পথচারী যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সত্যকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছেন। রাজনীতিবিদ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, লেখক, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ তাদের কণ্ঠ আর সৃজনশীলতা দিয়ে এই গণ-অভ্যুত্থানে শক্তি যুগিয়েছেন। রিকশাচালক, শ্রমজীবী মানুষ, পেশাজীবীরা যে যার জায়গা থেকে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। চিকিৎসকরা এই যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে চরম ঝুঁকি নিয়ে আহতের জীবন বাঁচাতে চেষ্টা করেছেন। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা নানা প্রান্ত থেকে সমর্থন জানিয়েছেন, আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।

বিবৃতিতে জুলাই আন্দোলনে নারীদের সাহসিকতার কথাও বিশেষভাবে তুলে ধরেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, জুলাইয়ে নারীরা যে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে লড়েছিলেন তা দেশের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের নারীদের অনুপ্রাণিত করবে, তরুণদের সাহস জোগাবে। শিক্ষার্থীদের অনন্য নেতৃত্ব বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছে দেশের সর্বস্তরের মানুষ যখন ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন তারা সবচেয়ে দুর্ভেদ্য বলে মনে হওয়া কাঠামোকেও বদলে দিতে পারে। ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে আমরা যে গণতান্ত্রিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রযাত্রা শুরু করেছি, এটা অব্যাহত রাখার জন্য আমাদের দৃঢ় সংকল্প নিতে হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে পাওয়া শিক্ষার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছে দেশের সর্বস্তরের মানুষ যখন ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন তারা সবচেয়ে দুর্ভেদ্য বলে মনে হওয়া কাঠামোকেও বদলে দিতে পারে। ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে আমরা যে গণতান্ত্রিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রযাত্রা শুরু করেছি, এটা অব্যাহত রাখার জন্য আমাদের দৃঢ় সংকল্প নিতে হবে।