ঢাকা , সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জ্বালানি ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদন: বগুড়ায় ফ্লাইহুইল প্রযুক্তির সফল পরীক্ষা ঢাবির ফজলুল হক মুসলিম হলে সংঘর্ষ, ভিপি-জিএসসহ আহত ৬ ইরানের সামরিক নীতি আক্রমণাত্মক করার ঘোষণা আইআরজিসির জিম্বাবুয়েতে ফেরিডুবি: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৪ জনে  কাল থেকে রাজধানীতে চলবে বিআরটিসির ‘মহিলা বাস’, চালক-কন্ডাক্টরও নারী অসুস্থ সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, পা অবশ হওয়ায় চলাফেরা সীমিত ৯০০ কর্মী ছাঁটাই করা সিইও এবার নিজেই হারালেন চাকরি মসজিদ রক্ষায় লড়েছিলেন এক পায়ে, সেই নেপালি যুবককে পুরস্কৃত করল সৌদি প্রতিটি মার্কিন সেনাকে হত্যা বা আটক করলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার: ইরানের সেনাপ্রধান গাজায় প্রতি রাতে ৩০-৪০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করতে বললেন ইসরায়েলি মন্ত্রী

৫ লাখ টাকা জরিমানা হলেও ধর্ষণ মামলা থেকে রেহাই পেলেন না আলোচিত রিপন মিয়া

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৩৭:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬১ বার পড়া হয়েছে

সালিশিতে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা হলেও মামলার হাত থেকে রেহাই পেলেন না আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া।

 

মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগী কিশোরীর মা-বাবা নেত্রকোনা সদর থানায় গিয়ে ধর্ষণ মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

 

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আল-মামুন সরকার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘মেয়েটির মা-বাবা এখন থানায় অবস্থান করছেন। ৩০ মিনিটের মধ্যে মামলার কার্যক্রম শেষ হবে।’

 

 

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সকাল থেকে রিপন মিয়া পলাতক রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

 

১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়ানোর অভিযোগে রিপন মিয়াকে রোববার (২ আগস্ট) রাতে আটক করেন তার গ্রামবাসী। আটকের একাধিক ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তাকে নিয়ে সালিশ বসতে দেখা গেছে।

 

মঙ্গলবার রিপনের একাধিক প্রতিবেশীর সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা সবাই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর মধ্যে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন, ‘এই কাজ করে তো ধরা পড়ছে। কিন্তু যারা দরবার (সালিশ) করছিল, তারাই পরে বিপদে পড়ছে। পুলিশ তাদের খুঁজেছে। এসবের তো দরবার হয় না।’

 

নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে বসা ওই সালিশে বিবাহিত রিপন মিয়াকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং গ্রামছাড়া করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি টাকা দিয়েছেন কি না, সেটি অবশ্য জানা যায়নি। রিপন মিয়ার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

 

কিছুদিন আগে রিপন মিয়া পাশের নন্দুরা গ্রামে জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করেন এবং পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন। সেখানেই ওই কিশোরীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়ান। কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, রিপন মিয়া আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি। পরে তাদের ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালান রিপন মিয়া। বিষয়টি জানাজানি হলে রোববার রাতে নন্দুরা বাজারে বিএনপির কার্যালয়ে সালিশ বসে।

 

২০১৬ সালে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে ফেসবুকে যাত্রা শুরু করেন রিপন মিয়া। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তার সহজ-সরল উপস্থাপনা আর ঘরোয়া ভিডিওগুলো দর্শকপ্রিয়তা লাভ করে। বিশেষ করে, তার মুখে শোনা ‘হাই আই অ্যাম রিপন ভিডিও’ এবং ‘আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব’-সংলাপ দুটি নেটিজেনদের মাঝে দ্রুত ভাইরাল হয়।

 

এসব ছোট ভিডিও দেশ-বিদেশে ভাইরাল হলেও রিপন করপোরেট দুনিয়ার দেখা পান বছর দুয়েক আগে। ঢাকাভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান তার পেজ ম্যানেজমেন্ট করার দায়িত্ব নিলে রাতারাতি ভাগ্য বদলে যায়। বিভিন্ন কোম্পানি থেকে ডাক পড়ার পাশাপাশি টিভি বিজ্ঞাপনেও নাম লিখিয়ে ফেলেন।

 

দ্রুত উত্থানের মতো, দ্রুতই পতনের পথে এই রিপন মিয়া। কিছুদিন আগে তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন তারই মা। মাকে দেখভাল না করার অভিযোগে সে সময় তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। পরে অবশ্য তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং তার মা-ও নিজের কথা ফিরিয়ে নেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদন: বগুড়ায় ফ্লাইহুইল প্রযুক্তির সফল পরীক্ষা

৫ লাখ টাকা জরিমানা হলেও ধর্ষণ মামলা থেকে রেহাই পেলেন না আলোচিত রিপন মিয়া

আপডেট সময় ১২:৩৭:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

সালিশিতে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা হলেও মামলার হাত থেকে রেহাই পেলেন না আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া।

 

মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগী কিশোরীর মা-বাবা নেত্রকোনা সদর থানায় গিয়ে ধর্ষণ মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

 

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আল-মামুন সরকার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘মেয়েটির মা-বাবা এখন থানায় অবস্থান করছেন। ৩০ মিনিটের মধ্যে মামলার কার্যক্রম শেষ হবে।’

 

 

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সকাল থেকে রিপন মিয়া পলাতক রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

 

১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়ানোর অভিযোগে রিপন মিয়াকে রোববার (২ আগস্ট) রাতে আটক করেন তার গ্রামবাসী। আটকের একাধিক ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তাকে নিয়ে সালিশ বসতে দেখা গেছে।

 

মঙ্গলবার রিপনের একাধিক প্রতিবেশীর সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা সবাই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর মধ্যে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন, ‘এই কাজ করে তো ধরা পড়ছে। কিন্তু যারা দরবার (সালিশ) করছিল, তারাই পরে বিপদে পড়ছে। পুলিশ তাদের খুঁজেছে। এসবের তো দরবার হয় না।’

 

নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে বসা ওই সালিশে বিবাহিত রিপন মিয়াকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং গ্রামছাড়া করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি টাকা দিয়েছেন কি না, সেটি অবশ্য জানা যায়নি। রিপন মিয়ার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

 

কিছুদিন আগে রিপন মিয়া পাশের নন্দুরা গ্রামে জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করেন এবং পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন। সেখানেই ওই কিশোরীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়ান। কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, রিপন মিয়া আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি। পরে তাদের ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালান রিপন মিয়া। বিষয়টি জানাজানি হলে রোববার রাতে নন্দুরা বাজারে বিএনপির কার্যালয়ে সালিশ বসে।

 

২০১৬ সালে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে ফেসবুকে যাত্রা শুরু করেন রিপন মিয়া। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তার সহজ-সরল উপস্থাপনা আর ঘরোয়া ভিডিওগুলো দর্শকপ্রিয়তা লাভ করে। বিশেষ করে, তার মুখে শোনা ‘হাই আই অ্যাম রিপন ভিডিও’ এবং ‘আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব’-সংলাপ দুটি নেটিজেনদের মাঝে দ্রুত ভাইরাল হয়।

 

এসব ছোট ভিডিও দেশ-বিদেশে ভাইরাল হলেও রিপন করপোরেট দুনিয়ার দেখা পান বছর দুয়েক আগে। ঢাকাভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান তার পেজ ম্যানেজমেন্ট করার দায়িত্ব নিলে রাতারাতি ভাগ্য বদলে যায়। বিভিন্ন কোম্পানি থেকে ডাক পড়ার পাশাপাশি টিভি বিজ্ঞাপনেও নাম লিখিয়ে ফেলেন।

 

দ্রুত উত্থানের মতো, দ্রুতই পতনের পথে এই রিপন মিয়া। কিছুদিন আগে তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন তারই মা। মাকে দেখভাল না করার অভিযোগে সে সময় তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। পরে অবশ্য তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং তার মা-ও নিজের কথা ফিরিয়ে নেন।