দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী, ছাত্রসংসদের প্রতিনিধি, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার পেছনে সরকারের উচ্চমহলের উসকানি রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটির দাবি, এসব ঘটনার কোনো সুষ্ঠু বিচার বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় হামলাকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টায় রাজধানীতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, সম্প্রতি দেশের উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রসংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর ধারাবাহিকভাবে হামলা চালানো হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পেছনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নূরুল ইসলাম বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ক্যাম্পাসে যে গণতান্ত্রিক ও সহনশীল পরিবেশ গড়ে ওঠার প্রত্যাশা ছিল, ধারাবাহিক হামলার মাধ্যমে তা নষ্ট করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের উন্নয়নকাজ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়নের দাবিকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও ছাত্রসংসদ প্রতিনিধিদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি আহত শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের চিকিৎসার ব্যয় বহন, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার আবাসিক পরিবেশ নিরাপদ করা এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের উন্নয়নকাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
ছাত্রশিবির সভাপতি দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়ে শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত হামলাকারীদের জন্যই বুমেরাং হয়ে দাঁড়াবে।গত ১৬ বছর ধরে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন ও টেন্ডারবাজি চালিয়ে যে পতিত স্বৈরাচার আজ ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে, তাদের করুণ পরিণতি থেকে শিক্ষা নিন।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















