ঢাকা , বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

সিন্ডিকেটের কবজায় সারের বাজার, বিপাকে লাখো কৃষক

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৪৫:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘদিন ধরেই সার বিক্রিতে নৈরাজ্য চলছে রাজশাহী অঞ্চলে। অভিযোগ উঠেছে, শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে সার বিতরণ ও বিক্রি। বরাদ্দের আগেই কালোবাজারিদের কাছে বিক্রি, গুদাম থেকে দোকানে নেওয়ার আগেই খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সার হাতবদল এবং এক জেলা বা উপজেলার বরাদ্দ অন্য এলাকায় সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

ফলে সরকার নির্ধারিত দামে সার না পেয়ে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। ৫০ কেজির এক বস্তা সারে স্থানভেদে ৫০০ থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা।

রাজশাহীর মোহনপুর, তানোর ও গোদাগাড়ীর বরেন্দ্র অঞ্চলে এখন আমন আবাদ নিয়ে ব্যস্ত কৃষকরা। জমি প্রস্তুত ও ধান রোপণের এই মৌসুমে প্রয়োজনীয় সার কিনতে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ছুটছেন তারা। ডিলারের দোকানে গেলে বলা হচ্ছে, সার নেই। অথচ বেশি দামে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে চাহিদামতো সার পাওয়া যাচ্ছে।

তানোরের পলাশী গ্রামের কৃষকরা জানান, সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৩৫০ টাকার টিএসপির বস্তা কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। একইভাবে ১ হাজার ৫০ টাকার ডিএপি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকায়। এমওপির বস্তাতেও নেওয়া হচ্ছে কয়েকশ টাকা বেশি।

কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার, অবৈধ খুচরা বিক্রেতা ও তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের একটি অংশের যোগসাজশেই চলছে এই সিন্ডিকেট। ফলে কার্যত ভেঙে পড়েছে সার বিতরণের মনিটরিং ব্যবস্থা।

তবে কৃষি বিভাগ বলছে, রাজশাহী অঞ্চলে সার সংকটের কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। বরং সরকারি বরাদ্দ তালিকা অনুযায়ী জুলাই ও আগস্টে নন-ইউরিয়া সারের বরাদ্দ বেড়েছে। ডিলাররা সার উত্তোলন করলেও কোথাও কোথাও সংকটের কথা বলা হচ্ছে।

জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সরকার নির্ধারিত দামের বেশি দামে সার বিক্রির প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, বিএডিসির দাবি—কৃষকরা জমিতে অতিরিক্ত সার ব্যবহার করায় চাহিদা বাড়ছে।

তবে প্রশাসনের এসব দাবির সঙ্গে মিলছে না মাঠের বাস্তবতা। আমন মৌসুমে প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক ও মাঝারি কৃষকরা। তাদের দাবি, সার সংকটের প্রকৃত কারণ খুঁজে সিন্ডিকেট ভেঙে সরকার নির্ধারিত দামে সার নিশ্চিত করা হোক।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গভীর রাতে পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক নারীসহ আটক

সিন্ডিকেটের কবজায় সারের বাজার, বিপাকে লাখো কৃষক

আপডেট সময় ১০:৪৫:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরেই সার বিক্রিতে নৈরাজ্য চলছে রাজশাহী অঞ্চলে। অভিযোগ উঠেছে, শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে সার বিতরণ ও বিক্রি। বরাদ্দের আগেই কালোবাজারিদের কাছে বিক্রি, গুদাম থেকে দোকানে নেওয়ার আগেই খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সার হাতবদল এবং এক জেলা বা উপজেলার বরাদ্দ অন্য এলাকায় সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

ফলে সরকার নির্ধারিত দামে সার না পেয়ে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। ৫০ কেজির এক বস্তা সারে স্থানভেদে ৫০০ থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা।

রাজশাহীর মোহনপুর, তানোর ও গোদাগাড়ীর বরেন্দ্র অঞ্চলে এখন আমন আবাদ নিয়ে ব্যস্ত কৃষকরা। জমি প্রস্তুত ও ধান রোপণের এই মৌসুমে প্রয়োজনীয় সার কিনতে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ছুটছেন তারা। ডিলারের দোকানে গেলে বলা হচ্ছে, সার নেই। অথচ বেশি দামে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে চাহিদামতো সার পাওয়া যাচ্ছে।

তানোরের পলাশী গ্রামের কৃষকরা জানান, সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৩৫০ টাকার টিএসপির বস্তা কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। একইভাবে ১ হাজার ৫০ টাকার ডিএপি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকায়। এমওপির বস্তাতেও নেওয়া হচ্ছে কয়েকশ টাকা বেশি।

কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার, অবৈধ খুচরা বিক্রেতা ও তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের একটি অংশের যোগসাজশেই চলছে এই সিন্ডিকেট। ফলে কার্যত ভেঙে পড়েছে সার বিতরণের মনিটরিং ব্যবস্থা।

তবে কৃষি বিভাগ বলছে, রাজশাহী অঞ্চলে সার সংকটের কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। বরং সরকারি বরাদ্দ তালিকা অনুযায়ী জুলাই ও আগস্টে নন-ইউরিয়া সারের বরাদ্দ বেড়েছে। ডিলাররা সার উত্তোলন করলেও কোথাও কোথাও সংকটের কথা বলা হচ্ছে।

জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সরকার নির্ধারিত দামের বেশি দামে সার বিক্রির প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, বিএডিসির দাবি—কৃষকরা জমিতে অতিরিক্ত সার ব্যবহার করায় চাহিদা বাড়ছে।

তবে প্রশাসনের এসব দাবির সঙ্গে মিলছে না মাঠের বাস্তবতা। আমন মৌসুমে প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক ও মাঝারি কৃষকরা। তাদের দাবি, সার সংকটের প্রকৃত কারণ খুঁজে সিন্ডিকেট ভেঙে সরকার নির্ধারিত দামে সার নিশ্চিত করা হোক।