বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নব্বইয়ের দশকেই কোটি দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেন তিনি। শাবনূরের সঙ্গে তার পর্দার রসায়নও ছিল তুমুল জনপ্রিয়।
তবে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৪ বছর বয়সে সালমান শাহর আকস্মিক মৃত্যু পুরো দেশকে নাড়িয়ে দেয়। তার মৃত্যু হত্যা নাকি আত্মহত্যা—এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা ও আইনি বিতর্ক চলে আসছে। আর মৃত্যুর আগের দিনের ঘটনাগুলোও বারবার সামনে এসেছে।
১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে ঢাকার এফডিসিতে পরিচালক রেজা হাসমতের ‘প্রেম পিয়াসী’ সিনেমার ডাবিং করছিলেন সালমান শাহ। সেখানে ছিলেন সহশিল্পী শাবনূর ও তার স্ত্রী সামিরা হক।
২০১৭ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সামিরা দাবি করেন, ডাবিংয়ের সময় শাবনূর সালমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। একপর্যায়ে তাদের ঘনিষ্ঠতা দেখে তিনি ক্ষুব্ধ হন এবং বিষয়টি সালমানের বাবাকে জানান।
এরপর এফডিসিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সামিরা সেখান থেকে চলে যেতে চাইলে সালমান ডাবিং বন্ধ করে দেন। স্ত্রীকে শান্ত করতে তার সঙ্গে পরিচালক বাদল খন্দকারকেও গাড়িতে নেন।
সামিরার বর্ণনা অনুযায়ী, বাড়ি ফেরার পথে সালমান তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং ভবিষ্যতে শাবনূরের সঙ্গে নতুন কোনো সিনেমায় অভিনয় না করার প্রতিশ্রুতি দেন।
এর পরদিন, ৬ সেপ্টেম্বর, নিজ বাসায় সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর তার মৃত্যু ঘিরে শুরু হয় নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক।
সালমানের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করে আসছে। অন্যদিকে, তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি সামনে এসেছে। মৃত্যুর আগের দিনের এফডিসির সেই ঘটনা তাই আজও সালমান শাহর শেষ সময়ের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হয়ে আছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















