ঢাকা , বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শাবনূর সালমানকে জড়িয়ে ধরে চুমু খাচ্ছিল, আমি দেখে ফেলেছিলাম : সামিরা হক অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে কাল, ফখরুলই হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ভারতে বাজার করতে বেরিয়েছিলেন মুসলিম নারী, তুলে নিয়ে বাংলাদেশে পুশ ইন চাকরি হারালেন রাব্বানীর ভাই ও বিপ্লব কুমারসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তা ফুটপাতে দোকান বসানো নিয়ে ছাত্রদল-যুবদল সংঘর্ষ, ঢাকা কলেজের ৫ নেতা বহিষ্কার ‘জাতি’ দিয়ে দুই মাসের শিশুকে গলা কেটে হত্যা করলেন মা একজন ভালো অভিনেতা হতে চাই: এমএইচএস লাবন বিয়ে করতে যাচ্ছেন আর্জেন্টাইন তারকা রদ্রিগো ডি পল অতিরিক্ত লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিল, মিটার রিডারকে আটকে রাখল এলাকাবাসী

একজন ভালো অভিনেতা হতে চাই: এমএইচএস লাবন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:৫৩:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

অভিনয়কে শুধু পেশা হিসেবে নয়, নিজের জীবনের অন্যতম বড় ভালোবাসা হিসেবে দেখেন অভিনেতা, মডেল ও নাট্যকর্মী এমএইচএস লাবন। থিয়েটারের মঞ্চ থেকে শুরু করে পর্দায় নিজেকে একজন পরিণত অভিনেতা হিসেবে গড়ে তোলার দীর্ঘ পথচলার পর এবার বড় একটি স্বীকৃতি পেলেন তিনি। ‘ফেস অব টুমরো ২০২৬’-এর চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন লাবন।

তবে এই অর্জন তাঁর কাছে হঠাৎ পাওয়া কোনো সাফল্য নয়। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের থিয়েটারচর্চা, অভিনয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, নিজের ভুল থেকে শেখা, সীমিত সুযোগের মধ্যেও নিজেকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে নিজের ওপর অটুট বিশ্বাস ধরে রাখা।

লাবনের অভিনয়জীবনের শুরু থিয়েটার দিয়ে। তাঁর প্রথম দিকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চনাটক ছিল জার্মান নাট্যকার হাইনার মুলারের ‘হ্যামলেট-মেশিন’, যেখানে তিনি হ্যামলেট চরিত্রে অভিনয় করেন। নাটকটির প্রযোজনাটি ‘ইশরাত নিশাত নাট্য পুরস্কার ২০২৩’-এ বিশেষ স্বীকৃতি অর্জন করে। সেই প্রযোজনায় হ্যামলেট চরিত্রে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা লাবনের অভিনয়জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।

থিয়েটারে তাঁর এখন পর্যন্ত সর্বশেষ অভিনীত নাটক হেনরিক ইবসেনের ‘হোয়েন উই ডেড অ্যাওয়েকেন’। সেখানে তিনি রুবেক চরিত্রে অভিনয় করেন। ভিন্নধর্মী ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রের মধ্য দিয়ে নিজেকে ভাঙা-গড়ার এই প্রক্রিয়াই তাঁকে অভিনয় সম্পর্কে আরও গভীরভাবে ভাবতে শেখায়।

অভিনয়ের এই পথচলায় লাবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষক গাজী রাকায়েত। পাশাপাশি নওরিন সাজ্জাদ ও তারিক আনাম খানের কাছ থেকেও অভিনয়ের শিক্ষা নিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে থিয়েটারে নওরিন সাজ্জাদের কাছ থেকে পাওয়া দীর্ঘদিনের নির্দেশনা তাঁর অভিনয়জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এর বাইরেও অভিনয় শিক্ষাজীবনে তৌকির আহমেদ, নুরুল আলম আতিক, মেজবাউর রহমান সুমন, মাসুদ হাসান উজ্জ্বল, গিয়াস উদ্দিন সেলিম ও মহিউদ্দিন শাকেরের মতো আরও অনেক গুণী নির্মাতা ও অভিনয়শিক্ষকের কাছ থেকে সরাসরি শেখার সুযোগ পেয়েছেন লাবন। তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা, নির্দেশনা ও অভিজ্ঞতা তাঁর অভিনয়চর্চাকে বিভিন্নভাবে সমৃদ্ধ করেছে।

তবে লাবনের নিজের ভাষায়, তাঁর অভিনয়জীবনের সবচেয়ে বড় গাইড এতদিন পর্যন্ত তিনি নিজেই। বিভিন্ন গুণী মানুষের কাছ থেকে শেখার সুযোগ পেলেও নিজের অভিনয় পথচলায় নিজেকেই নিজের পথ দেখাতে হয়েছে। নিজের ভুল নিজেই খুঁজে বের করা, নিজেকে প্রশ্ন করা, নিজের সীমাবদ্ধতা বুঝে সেগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা এবং প্রতিনিয়ত নিজেকে আরও ভালো অভিনেতা হিসেবে তৈরি করার দায়িত্ব তিনি নিজেই নিয়েছেন।

থিয়েটারের পাশাপাশি একটা সময় তাঁর মনে হয়, নিজেকে আরও পরিণত অভিনেতা হিসেবে গড়ে তুলতে হলে পর্দার অভিনয়ও গভীরভাবে শেখা দরকার। সেই ভাবনা থেকেই তিনি স্ক্রিন অ্যাক্টিং নিয়ে পড়াশোনা করেন বাংলাদেশ সিনেমা অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে। প্রতিষ্ঠানটির সপ্তম অভিনয় ব্যাচে তিনি প্রথম হন।

অভিনয়ের পাশাপাশি লাবন অ্যাকাউন্টিং বিভাগ থেকে বিবিএ সম্পন্ন করেছেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি অভিনয়কে ভালোবেসে নিজের জন্য আলাদা একটি পথ তৈরি করেছেন তিনি।

তবে এই পথ কখনোই মসৃণ ছিল না। ২০২৫ সালের ‘দীপ্ত স্টার হান্ট’-এর মতো প্রতিযোগিতায় নিজের প্রতিভা দিয়ে ফাইনাল পর্যন্ত এগিয়েও কাঙ্ক্ষিত চূড়ান্ত অর্জন পাননি। এর আগে ২০২৪ সালে ‘মিস্টার অ্যান্ড মিস গ্ল্যামার লুকস’-এ ‘বেস্ট ট্যালেন্ট’ পুরস্কার অর্জন করলেও সেখান থেকেও প্রত্যাশিত পথটি সহজ হয়নি।

জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে সীমিত সুযোগ, নানা ঝড়, বাধা ও বিপত্তি এসেছে। বারবার ধাক্কা খেয়েছেন, হতাশ হওয়ার মতো পরিস্থিতিও এসেছে। কিন্তু কোনো কিছুতেই থেমে যাননি লাবন। নিজের প্রতি বিশ্বাস রেখেছেন এবং প্রতিটি ধাক্কার পর আরও শক্ত হয়ে ফিরে আসার চেষ্টা করেছেন।

অভিনয়ের প্রতি তাঁর ভালোবাসা এবং শেখার আগ্রহের জায়গাটিও আলাদা। জীবনের অন্য কোনো পড়াশোনায় হয়তো কখনো ফাঁকি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু অভিনয় নিয়ে পড়াশোনা ও শেখার ক্ষেত্রে তিনি কখনো ফাঁকি দিতে পারেননি। অভিনয়কে তিনি এতটাই ভালোবাসেন যে, নিজেকে আরও উন্নত করার এই চেষ্টায় কখনো আপস করতে চাননি।

লাবনের কাছে অভিনয় মানে শুধু ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো কিংবা জনপ্রিয় হওয়া নয়। তিনি নিজেকে এমন একজন অভিনেতা হিসেবে গড়ে তুলতে চান, যাঁর কাজ দেখে ভবিষ্যতের তরুণ অভিনেতারা অনুপ্রাণিত হবেন। আগামী প্রজন্ম যখন ভালো অভিনয় দেখতে চাইবে, তখন যেন তাঁর কাজও তাদের অনুসরণ করার মতো একটি জায়গা হয়ে ওঠে, এটাই তাঁর অন্যতম বড় স্বপ্ন।

এর পাশাপাশি তাঁর সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত স্বপ্নগুলোর একটি হলো, নিজেকে এমন একটি পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, যেখানে তাঁর বাবা-মা এবং তাঁর আশেপাশের মানুষ তাঁকে নিয়ে গর্ববোধ করবেন। নিজের সাফল্যকে তিনি শুধু নিজের অর্জন হিসেবে দেখেন না, বরং তাঁর ওপর বিশ্বাস রাখা মানুষগুলোর স্বপ্ন ও ভালোবাসারও একটি প্রতিফলন হিসেবে দেখেন।

এই দীর্ঘ পথচলার পর ‘ফেস অব টুমরো ২০২৬’ তাঁর জীবনে নিয়ে এলো একটি বড় স্বীকৃতি। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে শীর্ষ ২০-এ জায়গা করে নেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নের মুকুট ওঠে তাঁর মাথায়।

তবে এই জয়কে নিজের একার জয় হিসেবে দেখতে চান না লাবন। তাঁর এই জয় তিনি উৎসর্গ করতে চান সেই সব সংগ্রামী অভিনেতাকে, যারা সীমিত সুযোগের মধ্যেও নিজের প্রতি বিশ্বাস রেখে সততা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। যাদের পথে ঝড়, বাধা ও বিপত্তি এসেছে, তবুও যারা থেমে না থেকে একজন শিল্পী হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন।

লাবনের বিশ্বাস, একজন শিল্পীর পথচলা কখনোই সহজ নয়। অনেক সময় স্বীকৃতি আসতে দেরি হয়, অনেক সময় পরিশ্রমের ফল সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায় না। কিন্তু নিজের প্রতি বিশ্বাস, কাজের প্রতি সততা এবং শেখার ইচ্ছা ধরে রাখতে পারলে পথ একদিন ঠিকই তৈরি হয়।

‘ফেস অব টুমরো ২০২৬’-এর এই বিজয় তাই তাঁর কাছে কোনো শেষ গন্তব্য নয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

শাবনূর সালমানকে জড়িয়ে ধরে চুমু খাচ্ছিল, আমি দেখে ফেলেছিলাম : সামিরা হক

একজন ভালো অভিনেতা হতে চাই: এমএইচএস লাবন

আপডেট সময় ০৫:৫৩:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

অভিনয়কে শুধু পেশা হিসেবে নয়, নিজের জীবনের অন্যতম বড় ভালোবাসা হিসেবে দেখেন অভিনেতা, মডেল ও নাট্যকর্মী এমএইচএস লাবন। থিয়েটারের মঞ্চ থেকে শুরু করে পর্দায় নিজেকে একজন পরিণত অভিনেতা হিসেবে গড়ে তোলার দীর্ঘ পথচলার পর এবার বড় একটি স্বীকৃতি পেলেন তিনি। ‘ফেস অব টুমরো ২০২৬’-এর চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন লাবন।

তবে এই অর্জন তাঁর কাছে হঠাৎ পাওয়া কোনো সাফল্য নয়। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের থিয়েটারচর্চা, অভিনয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, নিজের ভুল থেকে শেখা, সীমিত সুযোগের মধ্যেও নিজেকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে নিজের ওপর অটুট বিশ্বাস ধরে রাখা।

লাবনের অভিনয়জীবনের শুরু থিয়েটার দিয়ে। তাঁর প্রথম দিকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চনাটক ছিল জার্মান নাট্যকার হাইনার মুলারের ‘হ্যামলেট-মেশিন’, যেখানে তিনি হ্যামলেট চরিত্রে অভিনয় করেন। নাটকটির প্রযোজনাটি ‘ইশরাত নিশাত নাট্য পুরস্কার ২০২৩’-এ বিশেষ স্বীকৃতি অর্জন করে। সেই প্রযোজনায় হ্যামলেট চরিত্রে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা লাবনের অভিনয়জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।

থিয়েটারে তাঁর এখন পর্যন্ত সর্বশেষ অভিনীত নাটক হেনরিক ইবসেনের ‘হোয়েন উই ডেড অ্যাওয়েকেন’। সেখানে তিনি রুবেক চরিত্রে অভিনয় করেন। ভিন্নধর্মী ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রের মধ্য দিয়ে নিজেকে ভাঙা-গড়ার এই প্রক্রিয়াই তাঁকে অভিনয় সম্পর্কে আরও গভীরভাবে ভাবতে শেখায়।

অভিনয়ের এই পথচলায় লাবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষক গাজী রাকায়েত। পাশাপাশি নওরিন সাজ্জাদ ও তারিক আনাম খানের কাছ থেকেও অভিনয়ের শিক্ষা নিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে থিয়েটারে নওরিন সাজ্জাদের কাছ থেকে পাওয়া দীর্ঘদিনের নির্দেশনা তাঁর অভিনয়জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এর বাইরেও অভিনয় শিক্ষাজীবনে তৌকির আহমেদ, নুরুল আলম আতিক, মেজবাউর রহমান সুমন, মাসুদ হাসান উজ্জ্বল, গিয়াস উদ্দিন সেলিম ও মহিউদ্দিন শাকেরের মতো আরও অনেক গুণী নির্মাতা ও অভিনয়শিক্ষকের কাছ থেকে সরাসরি শেখার সুযোগ পেয়েছেন লাবন। তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা, নির্দেশনা ও অভিজ্ঞতা তাঁর অভিনয়চর্চাকে বিভিন্নভাবে সমৃদ্ধ করেছে।

তবে লাবনের নিজের ভাষায়, তাঁর অভিনয়জীবনের সবচেয়ে বড় গাইড এতদিন পর্যন্ত তিনি নিজেই। বিভিন্ন গুণী মানুষের কাছ থেকে শেখার সুযোগ পেলেও নিজের অভিনয় পথচলায় নিজেকেই নিজের পথ দেখাতে হয়েছে। নিজের ভুল নিজেই খুঁজে বের করা, নিজেকে প্রশ্ন করা, নিজের সীমাবদ্ধতা বুঝে সেগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা এবং প্রতিনিয়ত নিজেকে আরও ভালো অভিনেতা হিসেবে তৈরি করার দায়িত্ব তিনি নিজেই নিয়েছেন।

থিয়েটারের পাশাপাশি একটা সময় তাঁর মনে হয়, নিজেকে আরও পরিণত অভিনেতা হিসেবে গড়ে তুলতে হলে পর্দার অভিনয়ও গভীরভাবে শেখা দরকার। সেই ভাবনা থেকেই তিনি স্ক্রিন অ্যাক্টিং নিয়ে পড়াশোনা করেন বাংলাদেশ সিনেমা অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে। প্রতিষ্ঠানটির সপ্তম অভিনয় ব্যাচে তিনি প্রথম হন।

অভিনয়ের পাশাপাশি লাবন অ্যাকাউন্টিং বিভাগ থেকে বিবিএ সম্পন্ন করেছেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি অভিনয়কে ভালোবেসে নিজের জন্য আলাদা একটি পথ তৈরি করেছেন তিনি।

তবে এই পথ কখনোই মসৃণ ছিল না। ২০২৫ সালের ‘দীপ্ত স্টার হান্ট’-এর মতো প্রতিযোগিতায় নিজের প্রতিভা দিয়ে ফাইনাল পর্যন্ত এগিয়েও কাঙ্ক্ষিত চূড়ান্ত অর্জন পাননি। এর আগে ২০২৪ সালে ‘মিস্টার অ্যান্ড মিস গ্ল্যামার লুকস’-এ ‘বেস্ট ট্যালেন্ট’ পুরস্কার অর্জন করলেও সেখান থেকেও প্রত্যাশিত পথটি সহজ হয়নি।

জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে সীমিত সুযোগ, নানা ঝড়, বাধা ও বিপত্তি এসেছে। বারবার ধাক্কা খেয়েছেন, হতাশ হওয়ার মতো পরিস্থিতিও এসেছে। কিন্তু কোনো কিছুতেই থেমে যাননি লাবন। নিজের প্রতি বিশ্বাস রেখেছেন এবং প্রতিটি ধাক্কার পর আরও শক্ত হয়ে ফিরে আসার চেষ্টা করেছেন।

অভিনয়ের প্রতি তাঁর ভালোবাসা এবং শেখার আগ্রহের জায়গাটিও আলাদা। জীবনের অন্য কোনো পড়াশোনায় হয়তো কখনো ফাঁকি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু অভিনয় নিয়ে পড়াশোনা ও শেখার ক্ষেত্রে তিনি কখনো ফাঁকি দিতে পারেননি। অভিনয়কে তিনি এতটাই ভালোবাসেন যে, নিজেকে আরও উন্নত করার এই চেষ্টায় কখনো আপস করতে চাননি।

লাবনের কাছে অভিনয় মানে শুধু ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো কিংবা জনপ্রিয় হওয়া নয়। তিনি নিজেকে এমন একজন অভিনেতা হিসেবে গড়ে তুলতে চান, যাঁর কাজ দেখে ভবিষ্যতের তরুণ অভিনেতারা অনুপ্রাণিত হবেন। আগামী প্রজন্ম যখন ভালো অভিনয় দেখতে চাইবে, তখন যেন তাঁর কাজও তাদের অনুসরণ করার মতো একটি জায়গা হয়ে ওঠে, এটাই তাঁর অন্যতম বড় স্বপ্ন।

এর পাশাপাশি তাঁর সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত স্বপ্নগুলোর একটি হলো, নিজেকে এমন একটি পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, যেখানে তাঁর বাবা-মা এবং তাঁর আশেপাশের মানুষ তাঁকে নিয়ে গর্ববোধ করবেন। নিজের সাফল্যকে তিনি শুধু নিজের অর্জন হিসেবে দেখেন না, বরং তাঁর ওপর বিশ্বাস রাখা মানুষগুলোর স্বপ্ন ও ভালোবাসারও একটি প্রতিফলন হিসেবে দেখেন।

এই দীর্ঘ পথচলার পর ‘ফেস অব টুমরো ২০২৬’ তাঁর জীবনে নিয়ে এলো একটি বড় স্বীকৃতি। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে শীর্ষ ২০-এ জায়গা করে নেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নের মুকুট ওঠে তাঁর মাথায়।

তবে এই জয়কে নিজের একার জয় হিসেবে দেখতে চান না লাবন। তাঁর এই জয় তিনি উৎসর্গ করতে চান সেই সব সংগ্রামী অভিনেতাকে, যারা সীমিত সুযোগের মধ্যেও নিজের প্রতি বিশ্বাস রেখে সততা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। যাদের পথে ঝড়, বাধা ও বিপত্তি এসেছে, তবুও যারা থেমে না থেকে একজন শিল্পী হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন।

লাবনের বিশ্বাস, একজন শিল্পীর পথচলা কখনোই সহজ নয়। অনেক সময় স্বীকৃতি আসতে দেরি হয়, অনেক সময় পরিশ্রমের ফল সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায় না। কিন্তু নিজের প্রতি বিশ্বাস, কাজের প্রতি সততা এবং শেখার ইচ্ছা ধরে রাখতে পারলে পথ একদিন ঠিকই তৈরি হয়।

‘ফেস অব টুমরো ২০২৬’-এর এই বিজয় তাই তাঁর কাছে কোনো শেষ গন্তব্য নয়।