দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের স্থায়ী সামরিক উপস্থিতির ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ জানিয়েছিলেন, তথাকথিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চলে’ ইসরাইলি সেনারা অবস্থান করবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা আল আরাবিয়াকে বলেছেন, লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে যে কাঠামোগত চুক্তি হয়েছে, সব পক্ষকেই সেটি মেনে চলতে হবে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ইসরাইল স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, লেবাননের ভূখণ্ড নিয়ে তাদের কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি চুক্তিতে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে সোমবার দক্ষিণ লেবানন সফরের সময় ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেন, ইসরাইলি সেনারা ওই এলাকায় থাকার জন্যই এসেছে। প্রধানমন্ত্রী ও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তথাকথিত নিরাপত্তা অঞ্চল থেকে ইসরাইল সরে যাবে না বলেও দাবি করেন কাটজ।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তৈরি যুদ্ধবিরতি কাঠামো অনুযায়ী, লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি সেনাদের পুরোপুরি প্রত্যাহার এবং ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার কথা রয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার ধাপে ধাপে এবং নির্দিষ্ট শর্তের ভিত্তিতে সম্পন্ন হওয়ার কথা। এর মধ্যে ইসরাইলি সেনাদের পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি হিজবুল্লাহর অস্ত্র ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের বিষয়টি যাচাইও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে ইসরাইলের অভিযোগ, হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। অন্যদিকে বৈরুতের দাবি, লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরাইলি সেনাদের উপস্থিতি ও সামরিক অভিযান দেশটির পূর্ণ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
এদিকে দক্ষিণ লেবাননে কয়েকটি পরীক্ষামূলক ‘পাইলট জোন’ তৈরি করা হয়েছে। এসব এলাকায় আগে ইসরাইলি সেনা বা হিজবুল্লাহর নিয়ন্ত্রণ থাকলেও বর্তমানে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী সেখানে নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
মার্কিন ওই কর্মকর্তা জানান, লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী প্রথম পর্যায়ের পাইলট জোন বাস্তবায়ন করছে এবং পুরো প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
একই সঙ্গে লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি নিজেদের সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করেছে ওয়াশিংটন।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















