ঢাকা , শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নিজ গ্রামের স্কুলের টয়লেট পরিদর্শনে গেলেন ভারতের জেন-জি আন্দোলনের নেতা, ক্ষোভ প্রকাশ আগামী পাঁচ বছর কুষ্টিয়া সদর আসনে আমিই প্রধানমন্ত্রী: আমির হামজা এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি জামালপুরের জুলাইযোদ্ধা ইমরান ভারি বৃষ্টিপাতসহ আগামী ৫ দিন যেমন থাকবে আবহাওয়া সাংবাদিক লাঞ্ছিত, ছাত্রদলের ৩ কর্মী বহিষ্কার রাজধানী থেকে অভিনেত্রী রিধিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার প্রশাসনের নাকের ডগায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টারিং, জনমনে নানা প্রশ্ন বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিতে ৩ লাখ রোহিঙ্গা বাছাই করেছে মিয়ানমার মোবাইল ফোন কিনতে ইএমআই সুবিধা দেবে দেশের সব ব্যাংক: তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রাজশাহীতে সারের দামে নৈরাজ্য: জিম্মি লাখো কৃষক, ভরা মৌসুমে সক্রিয় সার সিন্ডিকেট

হরমুজকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা ট্রাম্পের ‘রসিকতা’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:২৩:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করার যে মন্তব্য করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সেটি আসলে রসিকতা করে বলা হয়েছিল বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদক ব্রায়ান শোয়ার্টজ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানান, হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণার বিষয়ে ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেননি। হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, নিউইয়র্কের এক সমাবেশে ট্রাম্প মজা করেই ওই মন্তব্য করেছিলেন।

নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটির নাসাউ কাউন্টি পুলিশ একাডেমিতে আয়োজিত রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানকে পরাজিত করার কাজ শেষ হলে তিনি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ভূখণ্ড ঘোষণা করবেন। মন্তব্যের সময় তাকে হাসতে দেখা গেলেও পরে তিনি বলেন, ‘এটা সত্যি।’

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন প্রতিবেদক ব্রায়ান শোয়ার্টজ। তিনি জানান, ট্রাম্প প্রথমে হাস্যরসের সুরে মন্তব্য করলেও পরে সেটিকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন।

এ সময় হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন সেখানে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র চাইলে কোনো জাহাজকে ওই পথে চলতে দেওয়া হবে না।

তবে ট্রাম্পের এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড এক বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে—এমন দাবিকে ‘ভিত্তিহীন মিথ্যা ও মনগড়া তথ্য’ বলে উল্লেখ করেছে।

সিএনএনের উদ্ধৃত পণ্য ও জাহাজ চলাচল বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর ১৬৬ দিনে প্রায় ৩ হাজার ৩৭১টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় যা প্রায় ২০ শতাংশ নৌযান চলাচলের সমান।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও পরবর্তী সমঝোতার উদ্যোগ নিলেও হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ-চলাচল এবং নিরাপত্তা নিশ্চয়তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ রয়ে গেছে।

পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই সরু নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে প্রণালিটি ঘিরে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নিজ গ্রামের স্কুলের টয়লেট পরিদর্শনে গেলেন ভারতের জেন-জি আন্দোলনের নেতা, ক্ষোভ প্রকাশ

হরমুজকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা ট্রাম্পের ‘রসিকতা’

আপডেট সময় ০৪:২৩:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করার যে মন্তব্য করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সেটি আসলে রসিকতা করে বলা হয়েছিল বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদক ব্রায়ান শোয়ার্টজ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানান, হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণার বিষয়ে ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেননি। হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, নিউইয়র্কের এক সমাবেশে ট্রাম্প মজা করেই ওই মন্তব্য করেছিলেন।

নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটির নাসাউ কাউন্টি পুলিশ একাডেমিতে আয়োজিত রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানকে পরাজিত করার কাজ শেষ হলে তিনি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ভূখণ্ড ঘোষণা করবেন। মন্তব্যের সময় তাকে হাসতে দেখা গেলেও পরে তিনি বলেন, ‘এটা সত্যি।’

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন প্রতিবেদক ব্রায়ান শোয়ার্টজ। তিনি জানান, ট্রাম্প প্রথমে হাস্যরসের সুরে মন্তব্য করলেও পরে সেটিকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন।

এ সময় হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন সেখানে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র চাইলে কোনো জাহাজকে ওই পথে চলতে দেওয়া হবে না।

তবে ট্রাম্পের এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড এক বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে—এমন দাবিকে ‘ভিত্তিহীন মিথ্যা ও মনগড়া তথ্য’ বলে উল্লেখ করেছে।

সিএনএনের উদ্ধৃত পণ্য ও জাহাজ চলাচল বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর ১৬৬ দিনে প্রায় ৩ হাজার ৩৭১টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় যা প্রায় ২০ শতাংশ নৌযান চলাচলের সমান।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও পরবর্তী সমঝোতার উদ্যোগ নিলেও হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ-চলাচল এবং নিরাপত্তা নিশ্চয়তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ রয়ে গেছে।

পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই সরু নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে প্রণালিটি ঘিরে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।