ঢাকা , শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নতুন পে-স্কেলের প্রস্তাব চূড়ান্ত, যাচ্ছে মন্ত্রিসভায় নিজ গ্রামের স্কুলের টয়লেট পরিদর্শনে গেলেন ভারতের জেন-জি আন্দোলনের নেতা, ক্ষোভ প্রকাশ আগামী পাঁচ বছর কুষ্টিয়া সদর আসনে আমিই প্রধানমন্ত্রী: আমির হামজা এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি জামালপুরের জুলাইযোদ্ধা ইমরান ভারি বৃষ্টিপাতসহ আগামী ৫ দিন যেমন থাকবে আবহাওয়া সাংবাদিক লাঞ্ছিত, ছাত্রদলের ৩ কর্মী বহিষ্কার রাজধানী থেকে অভিনেত্রী রিধিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার প্রশাসনের নাকের ডগায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টারিং, জনমনে নানা প্রশ্ন বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিতে ৩ লাখ রোহিঙ্গা বাছাই করেছে মিয়ানমার মোবাইল ফোন কিনতে ইএমআই সুবিধা দেবে দেশের সব ব্যাংক: তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা

বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিতে ৩ লাখ রোহিঙ্গা বাছাই করেছে মিয়ানমার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:১১:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

২০১৭ সালের সামরিক অভিযানের পর বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৩ লাখের বেশি মানুষকে রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মিয়ানমার।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে দেওয়া ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন রোহিঙ্গার তালিকার মধ্যে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের পরিচয় যাচাই করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

তবে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের পরিচয় যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া ৪ হাজার ২৪১ জনকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগ করেছে মিয়ানমার।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে যাচাই করা সাবেক বাসিন্দাদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিতে ঢাকার সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখবে তারা।

২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার পর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ব্যাপক অভিযান শুরু করে। ওই অভিযানের পর সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এর আগে বিভিন্ন সময়ে সহিংসতার কারণে আরও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছিল।

অভিযানের ব্যাপকতা ও নৃশংসতার কারণে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন ও গণহত্যার অভিযোগ তোলে। তবে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের দেশটির ১৩৫টি স্বীকৃত জাতিগোষ্ঠীর একটি হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। বরং তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশটির জান্তা সরকার দাবি করে, তারা বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে গিয়ে সেখানে বসতি স্থাপন করেছে।

মিয়ানমার অবশ্য রাখাইন থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির দাবি, ২০১৭ সালের সহিংসতার পর ৫ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং দুই লাখের বেশি মানুষ উত্তর রাখাইনে থেকে যায়।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুই বছরের একটি প্রক্রিয়ায় সম্মত হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ২০২১ সালে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। শুরু হয় ব্যাপক সশস্ত্র সংঘাত।

এরপর ২০২৩ সাল থেকে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে তীব্র লড়াই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। সংঘাতের মধ্যে নতুন করে বহু রোহিঙ্গা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। বর্তমানে রাখাইনের বড় একটি অংশ আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবনযাপন, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়া এবং মিয়ানমারে নিরাপদে ফেরার পরিবেশ না থাকায় অনেক রোহিঙ্গা ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

জুলাইয়ের শেষ দিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছিলেন, একটি প্রত্যাবাসন কর্মসূচির আওতায় মালয়েশিয়ায় থাকা ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সম্মত হয়েছে। তবে বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন কবে শুরু হবে এবং তাদের নিরাপত্তা ও নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা কীভাবে নিশ্চিত হবে—সেসব প্রশ্ন এখনো অনিশ্চিত।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন পে-স্কেলের প্রস্তাব চূড়ান্ত, যাচ্ছে মন্ত্রিসভায়

বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিতে ৩ লাখ রোহিঙ্গা বাছাই করেছে মিয়ানমার

আপডেট সময় ০৫:১১:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

২০১৭ সালের সামরিক অভিযানের পর বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৩ লাখের বেশি মানুষকে রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মিয়ানমার।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে দেওয়া ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন রোহিঙ্গার তালিকার মধ্যে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের পরিচয় যাচাই করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

তবে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের পরিচয় যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া ৪ হাজার ২৪১ জনকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগ করেছে মিয়ানমার।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে যাচাই করা সাবেক বাসিন্দাদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিতে ঢাকার সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখবে তারা।

২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার পর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ব্যাপক অভিযান শুরু করে। ওই অভিযানের পর সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এর আগে বিভিন্ন সময়ে সহিংসতার কারণে আরও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছিল।

অভিযানের ব্যাপকতা ও নৃশংসতার কারণে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন ও গণহত্যার অভিযোগ তোলে। তবে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের দেশটির ১৩৫টি স্বীকৃত জাতিগোষ্ঠীর একটি হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। বরং তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশটির জান্তা সরকার দাবি করে, তারা বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে গিয়ে সেখানে বসতি স্থাপন করেছে।

মিয়ানমার অবশ্য রাখাইন থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির দাবি, ২০১৭ সালের সহিংসতার পর ৫ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং দুই লাখের বেশি মানুষ উত্তর রাখাইনে থেকে যায়।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুই বছরের একটি প্রক্রিয়ায় সম্মত হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ২০২১ সালে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। শুরু হয় ব্যাপক সশস্ত্র সংঘাত।

এরপর ২০২৩ সাল থেকে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে তীব্র লড়াই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। সংঘাতের মধ্যে নতুন করে বহু রোহিঙ্গা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। বর্তমানে রাখাইনের বড় একটি অংশ আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবনযাপন, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়া এবং মিয়ানমারে নিরাপদে ফেরার পরিবেশ না থাকায় অনেক রোহিঙ্গা ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

জুলাইয়ের শেষ দিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছিলেন, একটি প্রত্যাবাসন কর্মসূচির আওতায় মালয়েশিয়ায় থাকা ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সম্মত হয়েছে। তবে বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন কবে শুরু হবে এবং তাদের নিরাপত্তা ও নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা কীভাবে নিশ্চিত হবে—সেসব প্রশ্ন এখনো অনিশ্চিত।