ঢাকা , সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আল-কায়েদা নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কতা আমলে নিচ্ছে না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তিস্তা নিয়ে ভারতের বন্ধুত্ব নষ্ট করতে চাই না, দেখবো দেশের স্বার্থ: পানি সম্পদমন্ত্রী এবার ৫৮২ টনের ম্যাগনেট দিয়ে ‘কৃত্রিম সূর্য’ বানাচ্ছে চীন শিক্ষক না আসায় লাঠিসোটা নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আলু বিক্রি বাড়াতে দোকানে নর্তকীর নাচ, ভিডিও ভাইরাল থালাপাতির এক ঘোষণায় বদলে গেলো হিসাব, লাখ লাখ কৃষকের ঋণ মওকুফ! জঙ্গল পরিষ্কার করতে গিয়ে দেখা মিলল ৪০০ বছরের পুরোনো মসজিদ এসএসসির এত খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা  প্রায় অসম্ভব, আমরা নীতিমালা করব: শিক্ষামন্ত্রী কুমিল্লা বিমানবন্দরে বিমান ওঠে না ৩২ বছর, তবুও মাসে কোটি টাকা আয় ইরানের প্রতিরোধের প্রশংসা করলেন আনোয়ার ইব্রাহিম

কুমিল্লা বিমানবন্দরে বিমান ওঠে না ৩২ বছর, তবুও মাসে কোটি টাকা আয়

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৩০:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

গত ৩২ বছর ধরে এই রানওয়েতে ওঠেনি কোনো যাত্রীবাহী বিমান। নেই যাত্রীর ভিড়, নেই উড়োজাহাজের শব্দ। আগাছায় ঢেকে গেছে রানওয়ে, ভেতরে গড়ে উঠেছে কৃষিজমি। বাইরে থেকে দেখে পরিত্যক্ত মনে হলেও, ঠিকই চলছে বিমানবন্দরের কার্যক্রম। কারণ, এখানে বিমান না নামলেও এই বিমানবন্দর থেকেই প্রতিদিন উড়োজাহাজকে পথ দেখিয়ে সরকার আয় করছে কোটি কোটি টাকা।

কুমিল্লা নগরের ঢুলিপাড়া, নেউরা ও রাজাপাড়া এলাকায় ৭৭ একর জায়গাজুড়ে কুমিল্লা বিমানবন্দর। ১৯৪০ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় স্থাপিত বিমানবন্দরটি একসময় নিয়মিত যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা করতো। ১৯৯৪ সালে পুনরায় চালু হলেও যাত্রী সংকটে মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় ফ্লাইট চলাচল। এরপর কেটে গেছে আরও ৩২ বছর। যাত্রীবাহী বিমান না চললেও থেমে নেই বিমানবন্দরের কার্যক্রম। বর্তমানে এখানে কর্মরত আছেন ২২ জন। বিমানবন্দরের ডিভিওআর ও ডিএমই নেভিগেশন সিগন্যাল ব্যবহার করে প্রতিদিন ভারত, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের ২৫ থেকে ৩০টি উড়োজাহাজ আন্তর্জাতিক আকাশপথে চলাচল করছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই নেভিগেশন সিগন্যাল ব্যবহার থেকেই প্রতি মাসে সরকারের রাজস্ব আসছে প্রায় চার থেকে পাঁচ কোটি টাকা। অর্থাৎ, বিমান না নামলেও আয় থেমে নেই কুমিল্লা বিমানবন্দরের। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান, বিমানবন্দরটি আবারও যাত্রীসেবায় ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন রানওয়ে সংস্কার, ফায়ার সার্ভিস ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারে ভিএইচএফ সেটসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন। পাশাপাশি টেকঅফ ও ল্যান্ডিং এলাকার আশপাশে গড়ে ওঠা অপরিকল্পিত ভবনও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 কুমিল্লা দেশের অন্যতম প্রবাসী অধ্যুষিত জেলা। ব্যবসাবাণিজ্য ও শিল্পকারখানার বিস্তারও ঘটছে দ্রুত। তাই, বিমানবন্দরটি চালু হলে রাজধানীর ওপর চাপ কমার পাশাপাশি প্রবাসী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও খুলবে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার; এমনটাই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। রানওয়েতে ৩২ বছর চলে না যাত্রীবাহী বিমানের চাকা, কিন্তু তাতেও থেমে নেই আয়। অর্থাৎ এখান থেকে আরও বেশি আয় করার সুযোগ রয়েছে সরকারের। সংস্কার আর পরিকল্পিত উদ্যোগে আবার চালু হবে কুমিল্লা বিমানবন্দর, এমনটাই প্রত্যাশা কুমিল্লাবাসীর।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আল-কায়েদা নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কতা আমলে নিচ্ছে না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কুমিল্লা বিমানবন্দরে বিমান ওঠে না ৩২ বছর, তবুও মাসে কোটি টাকা আয়

আপডেট সময় ০২:৩০:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

গত ৩২ বছর ধরে এই রানওয়েতে ওঠেনি কোনো যাত্রীবাহী বিমান। নেই যাত্রীর ভিড়, নেই উড়োজাহাজের শব্দ। আগাছায় ঢেকে গেছে রানওয়ে, ভেতরে গড়ে উঠেছে কৃষিজমি। বাইরে থেকে দেখে পরিত্যক্ত মনে হলেও, ঠিকই চলছে বিমানবন্দরের কার্যক্রম। কারণ, এখানে বিমান না নামলেও এই বিমানবন্দর থেকেই প্রতিদিন উড়োজাহাজকে পথ দেখিয়ে সরকার আয় করছে কোটি কোটি টাকা।

কুমিল্লা নগরের ঢুলিপাড়া, নেউরা ও রাজাপাড়া এলাকায় ৭৭ একর জায়গাজুড়ে কুমিল্লা বিমানবন্দর। ১৯৪০ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় স্থাপিত বিমানবন্দরটি একসময় নিয়মিত যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা করতো। ১৯৯৪ সালে পুনরায় চালু হলেও যাত্রী সংকটে মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় ফ্লাইট চলাচল। এরপর কেটে গেছে আরও ৩২ বছর। যাত্রীবাহী বিমান না চললেও থেমে নেই বিমানবন্দরের কার্যক্রম। বর্তমানে এখানে কর্মরত আছেন ২২ জন। বিমানবন্দরের ডিভিওআর ও ডিএমই নেভিগেশন সিগন্যাল ব্যবহার করে প্রতিদিন ভারত, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের ২৫ থেকে ৩০টি উড়োজাহাজ আন্তর্জাতিক আকাশপথে চলাচল করছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই নেভিগেশন সিগন্যাল ব্যবহার থেকেই প্রতি মাসে সরকারের রাজস্ব আসছে প্রায় চার থেকে পাঁচ কোটি টাকা। অর্থাৎ, বিমান না নামলেও আয় থেমে নেই কুমিল্লা বিমানবন্দরের। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান, বিমানবন্দরটি আবারও যাত্রীসেবায় ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন রানওয়ে সংস্কার, ফায়ার সার্ভিস ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারে ভিএইচএফ সেটসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন। পাশাপাশি টেকঅফ ও ল্যান্ডিং এলাকার আশপাশে গড়ে ওঠা অপরিকল্পিত ভবনও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 কুমিল্লা দেশের অন্যতম প্রবাসী অধ্যুষিত জেলা। ব্যবসাবাণিজ্য ও শিল্পকারখানার বিস্তারও ঘটছে দ্রুত। তাই, বিমানবন্দরটি চালু হলে রাজধানীর ওপর চাপ কমার পাশাপাশি প্রবাসী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও খুলবে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার; এমনটাই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। রানওয়েতে ৩২ বছর চলে না যাত্রীবাহী বিমানের চাকা, কিন্তু তাতেও থেমে নেই আয়। অর্থাৎ এখান থেকে আরও বেশি আয় করার সুযোগ রয়েছে সরকারের। সংস্কার আর পরিকল্পিত উদ্যোগে আবার চালু হবে কুমিল্লা বিমানবন্দর, এমনটাই প্রত্যাশা কুমিল্লাবাসীর।