ঢাকা , সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি বিএনপি সরকার: নাহিদ ইসলাম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল ছাড়া যে কেউ সভা-সমাবেশ করতে পারবে: আইনমন্ত্রী ২৬ বছর বয়স পর্যন্ত গাড়ির সেলসম্যান, ডিএনএ পরীক্ষায় জানলেন তিনি রাজপুত্র কলকাতায় দুদিনে বন্ধ ২ শতাধিক হোটেল, বিপাকে হাজার হাজার বাংলাদেশি ইরানের ওপর চূড়ান্ত সংঘাতের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের, পাল্টা ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ তেহরানের জামায়াত নেতারা বিসমিল্লাহ বলে মিথ্যা শুরু করে, এনসিপিও শিখেছে: রাশেদ খান ডুবে যাচ্ছে ভারত, এবার ফারাক্কার সব গেইট খুলে দিতে চান বিহারের মুখ্যমন্ত্রী  রংপুরে চার হত্যা: আসামি ও পুলিশ কর্মকর্তার গায়ের একই শার্ট নিয়ে নানা প্রশ্ন বহুল আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা: ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল আগামীকাল ঈদে মিলাদুন্নবীর (স.) অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

রংপুরে চার হত্যা: আসামি ও পুলিশ কর্মকর্তার গায়ের একই শার্ট নিয়ে নানা প্রশ্ন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:১৯:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

এবার রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার দুই আসামির একজনের পরনে থাকা শার্ট নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মরদেহ উদ্ধারের দিন রংপুর মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তার পরনেও একই ধরনের শার্ট দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশের দাবি, একই ধরনের শার্ট আলাদা ব্যক্তির পরনে থাকতেই পারে। রংপুরভিত্তিক বিভিন্ন স্থানীয় ফেসবুক পেজের লাইভ ভিডিওতে মরদেহ উদ্ধারের সময় এক ব্যক্তিকে ওই ধরনের শার্ট পরে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে দেখা যায়। তার মুখে মাস্ক ছিল। পরে জানা যায়, তিনি পুলিশ কর্মকর্তা। 

এর আগে, রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তারা। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে গতকাল রোববার কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তার দুই যুবক আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। নিজেদের দায় স্বীকার করায় তাদের আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। তবে দুই আসামির স্বীকারোক্তির পরও হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে আসামির পরনে থাকা শার্ট এবং মরদেহ উদ্ধারের দিন পুলিশের এক কর্মকর্তার পরনে একই ধরনের শার্ট দেখা যাওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, মরদেহ উদ্ধারের দিন রংপুর মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তার পরনে একই ধরনের একটি শার্ট দেখা যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেছেন, একই শার্ট আলাদা আলাদা মানুষ পরতেই পারেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত মাছুয়াপাড়ার বাসিন্দা সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর তারা ওই ভবনে বসে ইয়াবা সেবন করেন। পুলিশ জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান টের পেয়ে আটক দুজনের একজন পালিয়ে পাশের রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুতবাগানে লুকিয়ে পড়েন। পরে তুতবাগানের পাশের দখীগঞ্জ শ্মশান থেকে তাকে আটক করা হয়।

শনিবার (২২ আগস্ট) সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ এক মাদক কারবারির কাছ থেকে ইয়াবা কিনে গণপতি চক্রবর্তীর বাসার পাশের সীমান্ত নামের এক ব্যক্তির বাসায় বসে ইয়াবা সেবন করেন। হত্যাকাণ্ডের বর্ণনায় পুলিশ কমিশনার জানান, রাতের শেষ দিকে তারা দেবু নামের এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যান। সেখানে ইয়াবা সেবনের সময় শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী খালি গায়ে ও গলায় গামছা নিয়ে ছাদে আসেন।

তবে পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য, ঘটনাস্থল এবং নিহতদের পরিবারের স্বজনদের বক্তব্য নিয়ে বেশকিছু বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনারকে প্রশ্ন করা হয়, ইয়াবা সেবনের জন্য দেবু নামের ওই ব্যক্তির নির্মাণাধীন তিনতলা ভবনের পুরো ফাঁকা জায়গা ও ছাদ ব্যবহারের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা কেন গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গেলেন? জবাবে পুলিশ কমিশনার বলেন, এত অল্প সময়ে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে মামলার যতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, আমি আলহামদুলিল্লাহ বলব। আমি আপনাদের বলব পুলিশের ভালো কাজগুলোর প্রশংসা করবেন এবং নেগেটিভ কাজের সমালোচনা করবেন। শেষে কথাটা বলব, আমার ওপর আস্থা রাখতে পারেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি বিএনপি সরকার: নাহিদ ইসলাম

রংপুরে চার হত্যা: আসামি ও পুলিশ কর্মকর্তার গায়ের একই শার্ট নিয়ে নানা প্রশ্ন

আপডেট সময় ০১:১৯:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

এবার রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার দুই আসামির একজনের পরনে থাকা শার্ট নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মরদেহ উদ্ধারের দিন রংপুর মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তার পরনেও একই ধরনের শার্ট দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশের দাবি, একই ধরনের শার্ট আলাদা ব্যক্তির পরনে থাকতেই পারে। রংপুরভিত্তিক বিভিন্ন স্থানীয় ফেসবুক পেজের লাইভ ভিডিওতে মরদেহ উদ্ধারের সময় এক ব্যক্তিকে ওই ধরনের শার্ট পরে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে দেখা যায়। তার মুখে মাস্ক ছিল। পরে জানা যায়, তিনি পুলিশ কর্মকর্তা। 

এর আগে, রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তারা। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে গতকাল রোববার কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তার দুই যুবক আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। নিজেদের দায় স্বীকার করায় তাদের আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। তবে দুই আসামির স্বীকারোক্তির পরও হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে আসামির পরনে থাকা শার্ট এবং মরদেহ উদ্ধারের দিন পুলিশের এক কর্মকর্তার পরনে একই ধরনের শার্ট দেখা যাওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, মরদেহ উদ্ধারের দিন রংপুর মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তার পরনে একই ধরনের একটি শার্ট দেখা যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেছেন, একই শার্ট আলাদা আলাদা মানুষ পরতেই পারেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত মাছুয়াপাড়ার বাসিন্দা সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর তারা ওই ভবনে বসে ইয়াবা সেবন করেন। পুলিশ জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান টের পেয়ে আটক দুজনের একজন পালিয়ে পাশের রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুতবাগানে লুকিয়ে পড়েন। পরে তুতবাগানের পাশের দখীগঞ্জ শ্মশান থেকে তাকে আটক করা হয়।

শনিবার (২২ আগস্ট) সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ এক মাদক কারবারির কাছ থেকে ইয়াবা কিনে গণপতি চক্রবর্তীর বাসার পাশের সীমান্ত নামের এক ব্যক্তির বাসায় বসে ইয়াবা সেবন করেন। হত্যাকাণ্ডের বর্ণনায় পুলিশ কমিশনার জানান, রাতের শেষ দিকে তারা দেবু নামের এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যান। সেখানে ইয়াবা সেবনের সময় শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী খালি গায়ে ও গলায় গামছা নিয়ে ছাদে আসেন।

তবে পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য, ঘটনাস্থল এবং নিহতদের পরিবারের স্বজনদের বক্তব্য নিয়ে বেশকিছু বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনারকে প্রশ্ন করা হয়, ইয়াবা সেবনের জন্য দেবু নামের ওই ব্যক্তির নির্মাণাধীন তিনতলা ভবনের পুরো ফাঁকা জায়গা ও ছাদ ব্যবহারের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা কেন গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গেলেন? জবাবে পুলিশ কমিশনার বলেন, এত অল্প সময়ে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে মামলার যতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, আমি আলহামদুলিল্লাহ বলব। আমি আপনাদের বলব পুলিশের ভালো কাজগুলোর প্রশংসা করবেন এবং নেগেটিভ কাজের সমালোচনা করবেন। শেষে কথাটা বলব, আমার ওপর আস্থা রাখতে পারেন।